এক দিকে নতুন মন্ত্রীদের শপথ আর অন্য দিকে পুরনোদের বিদায়। সচিবালয়ে গতকাল সোমবার নিজ মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নিয়ে আসেন অনেক মন্ত্রী। এ সময় তাদের অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের নেতাকর্মী বা ব্যক্তিগত স্টাফদের চোখেমুখেও ছিল বিদায়ের ছাপ।
অন্য দিকে বিকেলে গণভবন থেকে শপথ নিয়ে বের হন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। আর বাইরে তাদের জন্য ফুল হাতে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। পতাকা ওড়ানো গাড়িতে বের হতেই তার স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন বঙ্গভবনের আশপাশের এলাকা।
বিদায়ী সদস্যরা বের হন পতাকা ছাড়া গাড়িতে। এ সময় কাউকে কাউকে হেঁটেও বের হতে দেখা যায়। তাদের সবার মুখেই ছিল বিমর্ষের ছাপ।
৯ বছর বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ। মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নেয়ার সময় দার্শনিকদের মতো করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এই সংসার যাওয়া আসার রঙ্গমঞ্চ।’
মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বসে বিদায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার কত দিন চাকরি রয়েছে, একেক করে জানতে চান তিনি।
শুরুর প্রসঙ্গ টেনে এনে বিদায়ী বক্তব্যের শেষ দিকে তোফায়েল বলেন, ‘এই সংসার যাওয়া আসার রঙ্গমঞ্চ। সরকারি চাকরিজীবীদের মেয়াদ শেষ হলে চলে যেতে হবে। আমি সংসদে থাকব। এমপি হিসেবেই জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে পারব।’
স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর মন্ত্রিসভায় আরো এক বছর থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেও ঠাঁই পাননি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে নিজেকে সৌভাগ্যবান হিসেবে উল্লেখ করে গতকাল সচিবালয়ে তিনি বলেন, ‘অবসর নিয়ে ঝেঁটিয়ে বিদায় হয়ে যাওয়া থেকে তো রক্ষা পেয়েছি।’
১০ বছর ধরে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর মন্ত্রণালয় থেকে বিদায়ের সময় নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমি মন্ত্রী হইনি। এতে আপনারা বিচলিত হবেন না, ভেঙে পড়বেন না। বাস্তবতা মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।’
নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া নাহিদ বলেন, ‘যোগ্য হলেও আজীবন দায়িত্ব পালন করা যায় না। কারণ, নতুনদেরও জায়গা দিতে হয়। আর পুরনোরা না সরলে নতুনদের জায়গা হবে কিভাবে? গত মন্ত্রিসভার বেশির ভাগই বাদ পড়েছেন। সেখানে তরুণ-মেধাবীরা জায়গা পেয়েছেন।’
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, অনেক দিন মন্ত্রিত্ব করেছি। যেতে তো হবেই। নতুন মন্ত্রীকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাব।









