বাংলাদেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই সোমবার (২৬ মে) অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একটি অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে আন্দোলন শুরু করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। এমন নানামুখী আন্দোলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাপে পড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে বলেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে ১৭ কোটি জনগণের দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন ৮৪ বছর বয়সী নোবেলজয়ী ড. ইউনূস।

সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে দেশে সংস্কারের চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু এরই মধ্যে সরকারকে বেসামরিক কর্মচারী, শিক্ষক, রাজনৈতিক দল ও সামরিক বাহিনীর চাপের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছাড়াই অসদাচরণের জন্য সরকারি কর্মচারীদের বরখাস্ত করার সুযোগ দিয়ে রোববার একটি অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ অধ্যাদেশকে ‘দমনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেন সরকারি কর্মচারীরা। অন্যদিকে বেতন বাড়ানোর দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষক সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

এর আগে, রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে রাজস্ব সংস্থা ভেঙে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দু’টি বিভাগ স্থাপনের আদেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

গত সপ্তাহে শীর্ষস্থানীয় এক ছাত্রনেতা জানান, সংস্কার ও নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে না পারলে পদত্যাগ করতে পারেন অধ্যাপক ইউনূস। এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরো তীব্র হয়। তবে এরপরই ইউনূস সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন না।

শনিবার তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোথাও যাচ্ছি না।’

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে ড. ইউনূস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্কার ও দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবির মধ্যে আটকা পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ড. ইউনূস বলেছেন, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

এর মধ্যেই গত সপ্তাহে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক ভাষণে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়া উচিত। তার এমন মন্তব্যের পর সরকারের প্রতি চাপ আরো বাড়ে।

গত শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক হয়। একই দিনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রোববার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে আছি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর আমাদেরকে অকার্যকর করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমাদেরকে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’