প্রশাসনকে নিয়ে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শাহ নিজামের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের। শুক্রবার দুপুরে ওসি নিজে এই জিডি করেন। জিডি নং-১৫৭৯।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ পাগলা সিসিলি কমিউনিটি সেন্টারে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ নিজাম তার বক্তব্যে বলেন,‘শামীম ওসমানের মতো নেতা থাকলে নারায়ণগঞ্জে প্রশাসনের দরকার হয় না। কারণ শামীম ওসমান মাদক, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন। শামীম ওসমানের মতো নেতৃত্ব থাকলে প্রশাসনের প্রয়োজনও পড়ে না।’

ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফতুল্লা থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মঞ্জুর কাদের। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী।

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের বলেন, উনি প্রশাসন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তাই এই জিডি করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম জানান, আমরা প্রশাসনের বাইরে নই। যেহেতু আমরা নিজেরাই সরকারি দলের লোক। তাই প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করার প্রশ্নই আসে না। ওই দিনের আমার বক্তব্য ভালো করে শুনলে বুঝতে পারবেন। আমি বলেছি, শামীম ওসমান মাদক, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন। আমাদের নেতাকর্মীরা সঠিক ভাবে দায়িত্বপালন করলে, প্রশাসনের কাজ সহজ হয়। প্রশাসনের দরকার পড়ে না।

আরো পড়ুন : মন্ত্রী-এমপি না থাকি, পুলিশ দৌড়াইয়া পানিতে নামাইবো : শামীম ওসমান
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা, (২৭ মার্চ ২০১৯)

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন,‘আজকে মন্ত্রী, এমপি না থাকি, তাহলে ফুল তো দূরের কথা, পুলিশ দৌড়াইয়া পানিতে নামাইবো। যেই পুলিশ আমগো দেইখা, আরে বাবা রে বাবা..। মারলো কে ২১ বছর আমাগো। সবই তো দেহি আমাগো। করলো কারা? ওইসব নাটকবাজি অন্য জায়গায় চলবে, নারায়ণগঞ্জে না। এটা মাথায় রাখতে হবে।’

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চত্বরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও চেক প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)।

শামীম ওসমান বলেন, আমার কাছে জানি কেন মনে হয়- সব যখন একদিকে দৌঁড় দেয় তখন কোথাও একটা ভ্যাকুয়াম (ফাঁকা জায়গা) তৈরি হয়। বাংলাদেশের প্রশাসনের মধ্যে কে কোন দল করে সেটি দেখার বিষয় না। কার কি কোয়ালিটি (মানসম্পন্ন) সেটি দেখতে হবে। সৎ না দুর্নীতিবাজ সেগুলো আগে দেখতে হবে। এখন দেখি সব আমি এইটা, আমি ওইটা, এই দল করতাম, ওই দল করতাম এইগুলি চালু হয়ে গেছে। এইগুলোকে বলা হয় ভ্যাকুয়াম। ৭৫’র আগেও এইগুলি চালু হয়ে গেছিলো। ভ্যাকুয়াম বেশি হয়ে গেলে শাহ আজিজের চেয়ে খন্দকার মোস্তাকের মতো বেশি বিপজ্জনক হয়ে যায়। ঠিক সময় মতো খন্দকার মোশতাকরা ছোঁবল মারে।

শামীম ওসমান আরো বলেন, আমার খুব কষ্ট হয়, যখন আমি দেখি আমার দল ক্ষমতায়। অথচ ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব হয়, মামলা- মোকদ্দমা হয়। আমার একজন শ্রমিক লীগের নেতা এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আমার তখন খুব কষ্ট হয়।

সবাইকে চোখ-কান খোলা রেখে চলার পরামর্শ দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, যারা বিভিন্ন সময় হামলা করেছে, তারা কিন্তু বসে নাই। দিনের বেলা আওয়ামী লীগ, রাতের বেলা জামাতের সাথে চলবো এরা খুব বিপজ্জনক। আমার কাছে এটিই সব থেকে বড় প্রশ্ন।

দলের ভেতরে মোশতাকদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে শামীম ওসমান বলেন, আওয়ামী লীগ নিজের উপর ভরসা করেই রাজনীতি করে। নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে গোলাম আজমকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছিলাম। একথা বলার অপরাধে আমাদের ওপর বোমা হামলা করা হয়েছিলো। আমাদের বিশটা ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছিলো।

জেলা পরিষদের প্যানেল মেয়র মাহমুদা মালার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সংরক্ষিত মহিলা আসন-২২ এর সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।