সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এখনও শঙ্কামুক্ত নন বলে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তার ছোট ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় পার্টির খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। আলোচনায় অংশ নেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, গোলাম কিবরিয়া টিপু, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মিজানুর রহমান, কাজী মামুনুর রশিদ, জহিরুল আলম রুবেল, অধ্যাপক মহসিন-উল ইসলাম হাবুল, এসএম রহমান পারভেজ, ইকবাল হোসেন তাপস, শফিকুল ইসলাম মধু, সোমনাথ দে, সরু চৌধুরী জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক প্রমুখ।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ২৪ ঘণ্টায় পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার ২৫ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এরশাদ এখনও শঙ্কামুক্ত নন। সংক্রমণ যেন না বাড়ে, সেজন্য চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এরশাদের পুরোপুরি সুস্থ্য হতে একটু সময় লাগবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
এরআগে সিএমএইচ ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে নেয়া হয় এরশাদকে। জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা গতকাল বলেন, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা-সাপেক্ষে বৃহস্পতিবার তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হতে পারে।
সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যান এরশাদ। সেখান থেকে ফেরেন ৪ ফেব্রুয়ারি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য সে দেশে যান এরশাদ। ভোটের মাত্র তিনদিন আগে ২৬ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন।
সভাপতির সূচনা বক্তব্যে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশনা এবং গঠনতন্ত্র মোতাবেক চলবে। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতীয় পার্টি একটি সম্ভাবনাময় দল। আগামীতে উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে জাতীয় পার্টির। তাই জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের হতাশ হলে চলবেনা। তিনি দলকে আরো শক্তিশালী করতে নেতা-কর্মীদের আহবানও জানান।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, জাতীয় পার্টিসহ তিনটি বড় রাজনৈকি দল নিজস্ব প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে। এরমধ্যে সব চেয়ে জনপ্রিয় এবং সম্ভাবনাময় দল জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টি যেদিকে যায় ক্ষমতাও সেদিকেই যায়। তাই জাতীয় পার্টিকে দূর্বল করেতই পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামে একাধিক মামলা দেয়া হয়েছিলো। তিনি বলেন, আমরা যদি দলকে শক্তিশালী করতে পারি, গণমানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসূচি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে জাতীয় পার্টি আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারবে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, জাতীয় পার্টিতে আর মনোনয়ন বানিজ্য চলবে না, কমিটি পেতে লবিং করতে হবেনা। প্রতিটি কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে। ভাড়া করা লোক দিয়ে কোন কাউন্সিল হবে না, বন্ধ করা হবে পদোন্নতি বানিজ্য। জাতীয় পার্টিকে একটি সুশংখল দলে পরিনত করা হবে, কোন বিশৃংখা বরদাশ করা হবেনা।
মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, মহাজোটে জাতীয় পার্টির ৫৭টি আসনে নির্বাচিন করার কথা ছিলো। কিন্তু আমাদের নেতৃত্ব পরিবর্তন ও কোন্দলের সুযোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাই সংসদে জাতীয় পার্টির মাত্র ২২টি আসন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ ২১ বছর পরে ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে, জাতীয় পার্টির ক্ষতি করেছে। বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মামলা হামলা করেছে। এখন থেকে আর ছাড় দেয়া হবেনা, যেখানেই আওয়ামী লীগ কর্মীরা হামলা করবে সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে।