বিরোধী দলের নেতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চিকিৎসার জন্য টাকার সংস্থান হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেন, আজকে উনি (এরশাদ) মৃত্যুশয্যায় কিন্তু উনার চিকিৎসার জন্য যে টাকার প্রয়োজন তার সংস্থান এখন পর্যন্ত আমরা করতে পারিনি। আমরা উনাকে যে চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে.. সেই অবস্থাও উনার নেই। এখন পর্যন্ত উনাকে (এরশাদ) বাইরে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। আমরা চাই উনি আবার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সংসদে আসুক।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙ্গা বলেন, আজ পর্যন্ত আমি কোনো সংসদ সদস্যের কাছে শুনিনি যে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ খারাপ লোক। কিন্তু বিএনপির ভাইদের কাছে শুনলেই তারা বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে বলেন, এরশাদ খারাপ লোক। তারা বলেন, সাত্তারের কাছ থেকে জোর করে তিনি (এরশাদ) ক্ষমতা নিয়েছেন, এসব মিথ্যা কথা। কোনো দিন তিনি ক্ষমতা নিতে চাননি। এরশাদকে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন- লোকটা কবে মরবে? এসব কথা শুধু বিএনপির পক্ষেই বলা সম্ভব।

এরশাদ জোর করে কোনো ক্ষমতা গ্রহণ করেননি দাবি করে রাঙ্গা বলেন, সেই সময় হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামি মন্ত্রীদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। হত্যা মামলার আসামিরা যদি মন্ত্রীর বাসায় আশ্রয় নেয়, সেই সরকারকে মানুষ কিভাবে এ দেশে রাখে? তাদেরকে যে উৎখাত করা হয়নি, তাদেরকে যে এই দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়নি, এটাই বড়। তিনি বলেন, এরশাদ সাহেব যখন জেলখানায়, তখন তাকে কোন সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়নি। দুটি কম্বল দেয়া হয়েছিল, একটি বিছানোর জন্য আরেকটি মাথায় দেয়ার জন্য। মাথার জন্য একটি বালিশ চেয়েছিলেন তাও তাকে দেয়া হয়নি। উপরন্তু তার বাথরুমে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল।

বিনা বিচারে খালেদা জিয়ার সাথে একটি মেয়েকে কারাগারে রাখার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে বলেন, এরশাদের মতো জেলখানায় বেগম জিয়ার বাথরুমেও সিসি ক্যামেরা বসানো হোক। এরশাদ সাহেব তার জীবদ্দশায় বেগম জিয়ার এমন পরিণতি দেখে যেতে পারছেন-এটাই বিধির বিধান।

জাপা মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষের জন্য, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য এ সরকার যা করছে, আমরা তাতে সহযাগিতা করতে চাই। আমরাও চাই, বিএনপি সহযোগিতা করে এ দেশের মানুষদের জন্য কিছু করুক।

বিএনপি সরকারের আমলে বিভিন্ন হত্যাকান্ডের কথা উল্লেখ করে বিরোধী দলের চীপ হুইপ বলেন, ২০০১ সালে আমার ৮ বছরের সন্তান নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে আসার সময় শনির আখড়ায় অপহরণ হয়েছিল। আমার একমাত্র সন্তান তখন ক্লাস ফ্লোরে পড়তো। রাত ৩ টার সময় আমার ছেলের টেলিফোন পেলেও তার সাথে যে কেয়ারটেকার ছিল তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ড্রাইভারকেও ওষুধ খাইয়ে দেয়া হয়েছিল। সেই সময় এসব ঘটনা ঘটলেও বিএনপি আজ বড় বড় কথা বলে। ওই ঘটনার পর আমার ছেলে এখনও রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারে না। কিন্তু আমি কোনো বিচার পাইনি।

বিএনপি এমপিদের সমালোচনা করে রাঙ্গা বলেন, সংসদে আসলেন তবে দেরি করে। সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি। তারা (বিএনপি) সংসদে বক্তব্য দেয়ার জন্য আমার কাছ থেকে সময় নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন।