জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) এমপি বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত আছে।
আধো ঘুম-আধো জাগরণে স্বজন এবং চিকিৎসকদের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন এবং চোখ মেলছেন। তার সিএমএইচ-এর চিকিৎসকরা এটাকে ইতিবাচক মনে করছেন।
লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, উনার কিডনি কিছু কিছু ফাংশান করছে। সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হয়নি। শ্বাসকষ্ট কালকে যেমন ছিল আজকেও তেমনই আছে। উন্নতি কিংবা অবনতি হয়নি। ফুসফুসে যে পনি জমেছিল তা আগের মতোই আছে। এই পরিস্থিতিতে অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জিএম কাদের এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় বড়ভাই এরশাদকে দেখতে তিনি সিএমএইচ-এ যান।
এসময় সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সুনীল শুভ রায়, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, সাবেক এমপি মোঃ সেলিম উদ্দিন, সরদার শাহজাহান, জহিরুল আলম রুবেল, ইসাহাক ভূঁইয়া, মোঃ হেলাল উদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক, এম.এ. রাজ্জাক খান, মোস্তফা কামাল, সুমন আশরাফ, আবু সাইদ স্বপন, আহাদ চৌধুরী শাহীন, মিজানুর রহমান মিরু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়নি। ফুসফুসে ইনফেকশনের কারণে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো। তাই চিকিৎসকরা অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়েছেন। প্রতি দু’ঘন্টা পর পর আন্ডার প্রেসার অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে এবং পরবর্তী দু’ঘন্টা স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা এখনো অনেক গুলো পরীক্ষা-নীরিক্ষা করছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জিএম কাদের বলেন, লাইফ সাপোর্ট বলতে আমরা যা বুঝি যে- ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে, সম্পূর্ণ কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখা, ওই অবস্থায় তিনি (এরশাদ) যাননি। তার অবস্থা আগের মতোই স্থিতিশীল আছে।
তিনি বলেন, উনি ডাকলে চোখ মেলছেন, তাকাচ্ছেন। ডাক্তারদের ভাষায় উনি তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থার মধ্যে আছেন। কোনো সময় সজাগ হচ্ছেন, কোনো সময় আবার ঘুমিয়ে যাচ্ছেন। একেবারে সজ্ঞানে আছেন বলা যাবে না, তবে রেসপন্স করছেন। আমি দেখেছি।
এরশাদের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে হলে তার আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের ওপর ভরসা করতে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করে জিএম কাদের বলেন, আমরা প্রতিদিনই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শারীরিক অবস্থা গণমাধ্যমকে অবহিত করছি। প্রয়োজন হলে আইএসপিআর ব্রিফ করবে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের সোর্সটাকেই জেনুইন সোর্স ধরে নেবেন। যদি কোনো খারাপ খবর থাকে আমরা সঙ্গে সঙ্গে জানাব। বাকি সময়ে ধরে নিতে হবে যে উনি স্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে আছেন। তিনি জাতীয় পার্টির ব্রিফিং এবং প্রয়োজন হলে আইএসপিআর’এর তথ্য ছাড়া কোন বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিভ্রান্ত না হতে গণমাধ্যম ও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সংসদে বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি দলীয় নেতা-কর্মীদের ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া পোস্ট দিতে নিষেধ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ৯০ বছর বয়সী এরশাদের রক্তে হিমোগ্লোবিন স্বল্পতা আগেই ছিল, গত ২২ জুন সিএমএইচে ভর্তি হওয়ার পর তার ফুসফুসে সংক্রমণের সঙ্গে দেখা দিয়েছে কিডনির জটিলতাও।





