জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ আর ভারতের মানুষের মাঝে বন্ধুত্বের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ভাষা ও সংস্কৃতিতে রয়েছে দারুণ মিল। শুধু সীমান্তরেখা কোনো বিভেদ সৃষ্টি করতে পারেনি বন্ধুপ্রতীম দুটি দেশের মানুষে মানুষে। দুটি দেশের মানুষের মাঝে বন্ধুত্বের দৃঢ়তা পারস্পরিক অধিকার সংরক্ষণে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। কখনোই বন্ধু বন্ধুকে এবং ভাই ভাইকে কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। বৃহৎ প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। তাই আমরা ঐহিহ্যের বন্ধুত্ব আরো সুদৃঢ় করতে চাই।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে ভারতের আসাম থেকে আসা উচ্চপদস্থ একটি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী ড. ভূপেন হাজারীকার অষ্টম মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে এসেছে। সকালে আসাম থেকে আসা ভারতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এসময় ভারতীয় প্রতিনিধি দলটিও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

সার্ক কালচারাল সোসাইটির চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায় ও এস.এম. ফয়সল চিশতী। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের মধ্যে ভূপেন হাজারীকার ছোট ভাই সমর হাজারিকা, বিশিষ্ট লেখক পদ্যশ্রী সূর্য হাজারীকা, সর্বভারতীয় কংগ্রেসের আসাম রাজ্যের সেক্রেটারি রমেন রব ঠাকুর, বিশিষ্ট সাংবাদিক দেবজিৎ ভূঁইয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ভৌমেন ভারতীয়া, আসামের সঙ্গীত তারকা দীক্ষু শর্মা বক্তৃতা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ড. মেন্দাস, ড. দীপালী দাস, দিশ্রী শর্মা, দেবজিৎ, বিজয়তা শর্মা, দাওয়ার হাজারীকা, ইবা হাজারীকা, নয়ন প্রতীম কুমার, বিধানতা শর্মা, বিধান দাস গুপ্ত, ড. সৌরভ ভারতী।

জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, যুগ্ম দফতর সম্পাদক এম.এ. রাজ্জাক খান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দে।

মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে লাখ লাখ বাংলাদেশীকে আশ্রয় দিয়ে ভারত অকৃত্রিম বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছে। তাই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্ব বিরাজ করছে। তিনি বলেন, ভূপেন হাজারিকার গান এদেশের মানুষের মুখে মুখে চিরকাল থাকবে। ভূপের হাজারীকার গান অধিকার আদায় এবং মনবিক সংগ্রামে অনুপ্রেরণা যোগাবে চিরকাল।

অনুষ্ঠানে ভূপেন হাজারিকার ভাই সমর হাজারিকাসহ অন্যান্য শিল্পীরা ভূপেন হাজারিকার বিখ্যাত সব গান পরিবেশন করেন।