ভোটারদের সাথে সম্পর্ক না থাকায় তারা ভোটকেন্দ্রে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। বুধবার রাত ৮টার সময় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আজকে সিটি নির্বাচনে ভোট এতো‌ কম পড়লো কেন? একটা বিষয় আমি অনুভব করেছি। ভোটারদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। খালি মিছিল করে, বড় বড় শোডাউন করে, বড় বড় বক্তৃতা দিই আমরা। কিন্তু ভোটারদের সাথে কোনো সম্পর্ক আমাদের নেই।

তি‌নি বলেন, খালি বঙ্গবন্ধুর কথা বলবেন, নৌকার কথা বলবেন তা‌তে ভোটাররা আসবেনা। আমি নিজে দেখেছি, অনেকবার এমপিও হ‌য়ে‌ছি। ভোটারদের সাথে সম্পর্ক না থাকলে তারা ভোট কেন্দ্রে আসবে না।

না‌সিম ব‌লেন, কার কি সমস্যা, কোন পরিবারের মেয়ে বিয়ে দি‌তে পার‌ছে না, কার পরিবারের অবস্থা কি, কার কি প্রয়োজন আপনি যদি না দেখেন তারা কোনোদিন ভোটকেন্দ্রে আসবে না। তারা আপনার থে‌কে মুখ ফিরিয়ে নিবে।

তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ এখনো অবহেলিত অঞ্চল। সেখান থেকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। কেন নির্বাচিত হয়েছেন ? আমরা দেখতাম, মাসে অন্তত দু’একবার তিনি এলাকায় যেতেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে আপনারা দেখবেন, তিনি সাইকেল চালিয়ে, পায়ে হেটে সংগঠন করেছেন। সেই বঙ্গবন্ধুর সংগঠন আমরা করি।

মনে রাখবেন, ভোটারদের সাথে যদি সম্পর্ক না থাকে শুধু নির্বাচন আসলে তাদের খবর নিবেন অন্য সময় নিবেন না এটা নেতার গুণ হতে পারেনা। একই সময় শুধু বঙ্গবন্ধুর ছবি বেছে (বিক্রি করে), শেখ হাসিনার কথা বলে বারবার নির্বাচিত হওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন মোহাম্মদ নাসিম।

সুজাত চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, অধ্যাপক আলী আশরাফ, এ কে এম শাহজাহান কামাল শিকদার, পঞ্চানন বিশ্বাস প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পার্লামেন্টারিয়ান বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সংবিধান বিশেষজ্ঞও ছি‌লেন তিনি। বাংলার প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন ‌তি‌নি। একই সা‌থে তি‌নি ছি‌লেন মানুষের প্রিয় নেতা। তারা ব‌লেন, সুর‌ঞ্জিত সেন দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদ সহ মোট ৭বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৭০এর নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যও নির্বাচিত হন তি‌নি।

হাওরাঞ্চলের ‘যার যার জলা তার’ আন্দোলনে দীর্ঘদিন তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২০১৭সালের ৫ফেব্রুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।