ব্যবসায়ী সিন্ডিকিটের কবল থেকে চামড়া শিল্পকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে আসন্ন কুরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে দাবি জানিয়েছে জাতীয় উলামা পরিষদ।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। এতে বক্তব্য রাখেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি সাইফুল্লাহ, মাওলানা বশির আহমদ, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাওলানা নূরুল্লাহ প্রমুখ।
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, দেশের অতি সম্ভাবনাময়ী চামড়া শিল্প ধ্বংসে যেমন দেশের উন্নয়নবিরোধী একটা চক্র কাজ করে যাচ্ছে, তেমনি এই শিল্পের সাথে জড়িত ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটও কাঁচা চামড়ার মূল্যে ধ্বস নামিয়ে এতিম, গরিব ও নিঃস্ব মানুষের অধিকার লুটে নিতে তৎপর। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার গরিব ও এতিমদের অধিকার রক্ষার পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের চাহিদা মতো সিদ্ধান্ত দিচ্ছে। যে কারণে গত কয়েক বছর ধরে কাঁচা চামড়ার মূল্যে বিশাল ধ্বস নেমেছে। এতে এতিম ও গরিবরা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি। দেশের অর্থনীতিকে রক্ষার পাশাপাশি চামড়ার প্রকৃত হকদার এতিম, গরিব ও দুস্থ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সিন্ডিকেট চক্রকে উৎখাত করে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় গত বৎসরের মতো লাখ লাখ চামড়া বিনষ্ট হওয়ার মতো ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে ব্যর্থ হলে দেশের তাওহিদি জনতা মাঠ পর্যায়ে কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে। এতিম ও গরিবের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, আজকের এই মানববন্ধন থেকে আমরা সরকারের কাছে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবি জানাই। যাতে দেশের লাখ লাখ এতিম, গরিব ও নিঃস্ব মানুষের অধিকার রক্ষা হয় এবং কওমি মাদ্রাসা সমূহের বিপুল সংখ্যক এতিম ও গরিব ছাত্রের ভরণ-পোষণে সহযোগিতা হয়।
মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর) বলেন, চামড়া ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যাব্যসায়ীদের সিন্ডিকেট একজোট হয়ে গরিবদের অধিকার লুটে নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমি উদাত্ত আহ্বান জানাবো, আপনি দেশের গরিব-দুখি মানুষকে অনেক দান-সদকা ও ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন। অনুগ্রহ করে কুরবানির চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এতে এতিম, গরিব ও অসহায় মানুষ অনেক উপকৃত হবেন।
সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত একঘন্টা স্থায়ী মানববন্ধনে কয়েকশত আলেম, মাদ্রাসা ছাত্র ও সাধারণ জনতা অংশগ্রহণ করেন। সবশেষে মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর)-এর মুনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচী শেষ হয়।





