দীর্ঘ দিন পর রাজনীতি ও রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সরব হচ্ছে বিএনপি। বিএনপির গত কয়েকটি কর্মসূচিতে বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। আর ওই রাজপথে আন্দোলনে অংশ নেয়ার সুযোগ চেয়ে গত কয়েক দিন ধরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আকুল আবেদন করে আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস লিখতে দেখা গেছে একাধিক বহিষ্কৃত ছাত্রনেতাকে।
গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে একাধিক নেতার এমন স্ট্যাটাস দেখে বহিষ্কৃত ছাত্রনেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৩ বছর নিজের জীবন যৌবন শেষ করে সহকর্মীদের সাথে রাজপথে ছিলাম আজ তারা কেউ আমাদের সাথে প্রোগ্রাম করতে চায় না।
আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। বহিষ্কৃত নেতাদের সাথে থাকলে দলে তাদের অবস্থান নষ্ট হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে তারা ভয় পায়।
তারা আরো বলেন, ‘মানুষের জীবনে ভুল হয়। আমরা ভুল করেছি। আমাদের অভিভাবক দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে জোড় হাতে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমাদের বিশ্বাস একটি ভুলকে দিয়ে আমাদের ১৭ থেকে ১৮ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগকে প্রিয় অভিভাবক দেশনেতা তারেক রহমান মূল্যায়ন করবেন না। আমরা দলে আর কোনো পদ চাই না। বহিষ্কার নামক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি প্রার্থনা করি এবং রাজপথে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের কর্মী পরিচয়ে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেয়ার সুযোগ চাই।’
এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন লিখেন, ‘প্রিয় অভিভাবক ভালোবাসি আপনাকে এবং ভালোবাসি তোমাদের ও প্রিয় রাজপথকে!!’ আলহামদুলিল্লাহ আমি বেঁচে আছি। সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া, যিনি নিজ রহমত দ্বারা আমাকে সবার মাঝে বাঁচিয়ে রেখেছেন। হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা সব উজাড় করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতিটা কর্মীর অভিভাবক আগামীর বাংলাদেশ তারেক রহমানের প্রতি, যিনি আমার মতো একজন অধমকর্মীর সুচিকিৎসার সকল দায়িত্বভার গ্রহণ করে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন বলে। তিনি প্রমাণ করলেন, ‘শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে’, তারেক জিয়া মানে আরেক জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া।’
তিনি তার স্ট্যাটাসে আরো উল্লেখ করেন, ‘প্রিয় অভিভাবক দেশনায়ক নিজের জীবনের চাইতে বেশি ভালোবাসি আপনাকে, ভালোবাসি দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে। তাই আমি বেঁচে থাকতে চাই দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কাফেলায় যোগদানের জন্য, আমি বেঁচে থাকতে চাই যেদিন আপনি বীরের বেশে এই বাংলাদেশে ফিরে আসবেন, সেদিন কোটি জনতার মিছিলে যোগদান করার জন্য। আমি বেঁচে থাকতে চাই ভালোবাসার সেসব প্রিয় বড় ভাইদের জন্য, যারা মৃত্যুপথযাত্রী মানুষটার সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে বিন্দু মাত্র কার্পন্য করেননি, সাংগঠনিক অবস্থা চিন্তা না এনে যারা হাসপাতাল বাসা সবখানে ছুটে গেছেন, ভালোবাসা দিয়ে পাশে এসে সাহস যুগিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ওই বড় ভাইদের জন্য।’
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে চাই তাদের জন্য, যে সমস্ত ছোট ভাইয়ের জন্য যারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে আমার পাশে ও আমার পরিবারের পাশে থেকে অবিচল সাহস যুগিয়েছে বাঁচার জন্য। ভালোবাসাহীন মানুষটাকে তারা এতোটা ভালোবাসে সেটা লিখে বুঝাবার ভাষা আমার জানা নেই। তাদের ঋণ শোধ করার দুঃসাহস বা ধৃষ্টতা দেখাবো না, শুধু বলবো আমি এতটার যোগ্য ছিলাম না। স্বার্থপর আমি শুধু নিয়েই গেলাম কিছু দিতে পারলাম না। তবে জেনে রেখ আমিও ভালোবাসি তোমাদের। ভালোবাসা রইলো প্রিয় বন্ধুদের জন্য যারা অসুস্থতার কথা শোনার পর সব রাগ অভিমান ভুলে গিয়ে ভালোবাসা বুকে নিয়ে ছুটে গিয়েছে ,সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। আমি বেঁচে থাকতে চাই তাদের জন্য।’
তিনি সবার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে লিখেন, আমি ভালোবাসি আমার সীমান্ত-স্বপ্নীল ও তাদের মাসহ আমার পরিবারকে, তাই আমি বেঁচে থাকতে চাই সবার দোয়া ও ভালোবাসায়। ভালোবাসি আত্মীয়-স্বজন, সহযোদ্ধা বন্ধু-বান্ধব, শ্রদ্ধা স্নেহ ভালোবাসার অগ্রজ-অনুজদের যারা সেদিন কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, শুধু আমায় ভালোবেসে হাসপাতালে ছুটে গেছেন, যাদের দোয়া আল্লাহ পাকের দরবারে কবুল হয়েছে বলেই আমি বেঁচে আছি, আমি ভালোবাসি তাদের। আমি ভালোবাসি প্রিয় রাজপথকে তাই আবার ফিরে আসতে চাই। সেই অপেক্ষায়...।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি ইখতিয়ার কবির এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আমরা (বহিষ্কৃত) দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে চাই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে আবেদন, দেশ ও জাতির এই দুঃসময়ে আমরা (বহিষ্কৃত) দলীয় একজন নগণ্য কর্মী হিসেবে অতীতের মতো আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে দল ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে চাই। আমাদের বহিষ্কার প্রত্যাহার পূর্বক সেই সুযোগ প্রদান করতে আপনার কাছে বিনীত আবেদন জানাই।’
বহিষ্কৃত আরেক সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট লিখেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে আকুল আবেদন, দেশের এই চলমান চরম ক্রান্তিকালে জাতির এই দুঃসময়ে আমরা (বহিষ্কৃত) দলীয় একজন নগণ্য কর্মী হিসেবে অতীতের মতো আমাদের সর্বোচ্চটা নিয়ে দল ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে চাই। আমাদের বহিষ্কার প্রত্যাহারপূর্বক সেই সুযোগ প্রদান করতে আপনার কাছে বিনীত নিবেদন জানাই।’
বহিষ্কৃত ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আযম সৈকত তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের কাছে আমাদের আকুল আবেদন বর্তমানে দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা (বহিষ্কৃত) দলীয় একজন নগণ্য কর্মী হিসেবে অতীতের মতো আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি সামর্থ্য দিয়ে দল ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে চাই। আগের মতো মামলা হামলা নির্যাতন সহ্য করে আপনার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে রাজপথে জীবন উৎসর্গ করতে চাই। দয়া করে আপনি আমাদের বহিষ্কার প্রত্যাহার করে এই অধিকারটুকু ফিরিয়ে দিতে আপনার কাছে বিনীত আবেদন জানাই।’





