বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, শুধু মুসলমানদের জন্য নয় বরং মহাগ্রন্থ আল কুরআন গোটা মানবজাতির জন্য কল্যাণময় পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।
বুধবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সেক্রেটারিয়েট সদস্যদের অর্থসহ কুরআন তিলওয়াত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সেক্রেটারি জেনারেল রাশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে মানুষ পাঠিয়েছেন। সাথে দিয়েছেন সর্বোত্তম গাইডলাইন আল কুরআন। প্রত্যেক নবী ও রাসুলগণের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হেদায়াতের জন্য কিতাব দান করেছেন। সে ধারায় সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করেছেন আল কুরআন। আল কুরআন এমন একটি ঐশি কিতাব যার ভাষা, ভাব, অলংকার, উপমা, ছন্দ, ভাবের গভীরতা, অভিনব গ্রন্থনা, বাক্যের অনুপম বিন্যাস, মর্মস্পশী গুণাবলী সব কিছু মিলে তার তুলনা হয় না। যা অর্থসহ অধ্যায়ন না করলে সম্পূর্ণ রূপে বোঝা সম্ভব নয়। অর্থসহ কুরআন অধ্যায়ন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সরাসরি নির্দেশনা। আবু মুসা আল আশ‘আরী (রা) থেকে বর্ণিত।
এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে তার উদাহরণ হলো লেবুর মতো তার স্বাদও ভালো আবার ঘ্রাণও ভালো। মুমিনের উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, তার স্বাদ ভালো কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই, আর কুরআন তিলাওয়াতকারী পাপী ব্যক্তির উদাহরণ হলো ফুলের মতো ঘ্রাণ ভালো কিন্তু স্বাদ তিক্ত, আর কুরআন তিলাওয়াত না করা হাফেজের উদাহরণ হলো মাকাল ফলের মতো যার স্বাদ তিক্ত এবং সু-গন্ধ নেই।’ (সহিহুল বুখারি, হাদিস: ৭৫৬০)।
অন্য হাদিসে ‘আয়িশা রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কুরআন তিলাওয়াত পারদর্শী ব্যক্তিরা সম্মানিত ফেরেশতাগণের সাথে থাকবে। আর যারা আটকিয়ে কষ্ট করে কুরআন তিলাওয়াত করে তারা দ্বিগুণ সওয়াব পাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৯৮)।
এ সময় তিনি আরো বলেন, পবিত্র মাহে রমজান মাসের সার্বিক আমল একজন মুসলমানকে প্রকৃত মুসলমান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেয়। এ মাসে অর্থসহ কুরআন তিলওয়াত ও চর্চা আত্মগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা পরবর্তী ১১ মাস ধরে রাখতে পারলে যে কেউ দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হবে। আমরা প্রত্যাশা করি কুরআন চর্চার এ ধারা সব সময়ই অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আল কুরআন অধ্যায়ন, চর্চা এবং বাস্তব জীবনে তার বাস্তবায়ন করা আল্লাহ ও আল্লাহ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ। সুতরাং আমরা যারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে লালন করি, সমাজে বাস্তবায়ন করতে চাই তাদেরকে পবিত্র কুরআনের চর্চা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যারা কুরআনের আলোকে একটি ছাত্রের সার্বিক জীবন গঠনের প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছি তাদের জন্য আজকের এ অনুষ্ঠান নতুন করে আগ্রহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে ইনশাআল্লাহ। যা কুরআনের আলোকে ব্যক্তি ও সমাজ গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন শাখাসহ সমাজের সর্বস্তরে অর্থসহ কুরআন চর্চায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে সবাই সচেষ্ট হবে। বিজ্ঞপ্তি।








