রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠান আলিশা মার্টে অভিযান চালিয়ে ৫২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা। ভ্যাট ফাঁকির টাকা ইতোমধ্যে আদায় করা হয়েছে।
রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অনলাইন প্লাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ জুন ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে ভ্যাট গোয়েন্দা। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করে হিসাব বিবরণী জব্দ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির কাগজপত্র ও অন্যান্য ডকুমেন্ট যাচাই করে ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করা হয় এবং ইতোমধ্যে সেটা আদায় করেছে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার ভ্যাট গোয়েন্দা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। আলিশা মার্টের ভ্যাট নিবন্ধন নং- ০০৩৪৮২৪৬৪-০১০১।
ভ্যাট গোয়েন্দা জানায়, আলিশা মার্ট বিভিন্ন ধরণের সামগ্রী অনলাইনে অর্ডার গ্রহণ করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করে; কিন্তু তাদের প্রাপ্ত কমিশনের উপর আরোপিত ভ্যাট যথাযথভাবে জমা প্রদান করেনি।
অভিযানে পাওয়া দলিলাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি গত ১ জানুয়ারি হতে ৩১ মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে মোট ১৮১ কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার ৮৬৮ টাকার পণ্য বিক্রয় করে। এই সময়ে পণ্য বিক্রয়ের বিপরীতে ক্রয় মূল্য ১৭৫ কোটি ৩০ লাখ ৮৭ হাজার ৩৯৬ টাকা। এক্ষেত্রে কমিশন বাবদ প্রাপ্ত ৬ কোটি ৪৮ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭১ টাকা, যার বিপরীত ৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ভ্যাট ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৪ টাকা। অনলাইনে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের উপর প্রযোজ্য ভ্যাট বাবদ ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৪ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনলাইন প্রতিষ্ঠানটি সেটি পরিপালন করেনি। এক্ষেত্রে এই মেয়াদে কমিশন বাবদ অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৪ টাকা পাওয়া যায়।
ভ্যাট গোয়েন্দা আরও জানায়, লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আলোচ্য সময়ে বিভিন্ন কেনাকাটার উপর উৎসে ভ্যাট ৪ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৭ টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৯১৩ টাকা। এক্ষেত্রে অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪৩৬ টাকার ফাঁকি উৎঘাটিত হয়। অর্থ্যাৎ ৫ মাসে কমিশনের উপর প্রযোজ্য ভ্যাট বাবদ ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৪ টাকা এবং উৎসে ভ্যাট বাবদ ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪৩৬ টাকাসহ সবমিলিয়ে ৫২ লাখ ২৯ হাজার ১৬০ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন হয়।
ইতোমধ্যে আলিশা মার্ট ভ্যাট গোয়েন্দা দফতরে অনুষ্ঠেয় শুনানীতে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ মেনে নিয়ে স্বেচ্ছায় ও স্বপ্রণোদিত হয়ে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট ফাঁকির টাকা জমা করেছে।
ভ্যাট গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ ভ্যাট ফাঁকির সাথে জড়িত থাকায় অনলাইন প্রতিষ্ঠান আলিশা মার্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মামলার প্রতিবেদন ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে প্রেরণ করেছে। একইসাথে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম আরো মনিটরিং ও অন্যান্য আর্থিক অনিয়ম আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করেছে উত্তর কমিশনারেটকে।









