বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি মাওলানা আনম শামসুল ইসলামকে গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি মাওলানা আনম শামসুল ইসলামকে বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে।

তিনি বলেন, এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও কেন্দ্রীয় ৬ জন নেতৃবৃন্দসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়- এ ছাড়া গত দু’দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত ও বাংলাদেশ ইসলামী শিবিরের ১৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার পুলিশ দিয়ে একের পর এক জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে হয়রানি করছে। নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করার মাধ্যমে সরকার জামায়াতকে নেতৃত্ব শূন্য করার যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তা কখনো সফল হবে না। আমরা সরকারের অন্যায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, এভাবে গ্রেফতার-হয়রানি ও জুলুম-নির্যাতন করে কোনো আদর্শিক সংগঠনকে দমিয়ে রাখা যায় না। অবিলম্বে গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশে গ্রেফতারকৃত জামায়াত-শিবিরের সকল নেতা-কর্মীকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। 

রাতের আঁধারে সাবেক এমপিকে গ্রেফতার সরকারের ঘৃণ্য ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ : শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খাঁন ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলামকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের একজন সাবেক আইন প্রণেতাকে রাতের আঁধারে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে সরকার তার ঘৃণ্য ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। আ ন ম শামসুল ইসলাম দেশের একজন শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সরকার প্রতিহিংসামূলকভাবে তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে, রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছে। আমরা সরকারের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আপনাদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। অবিলম্বে আ ন ম শামসুল ইসলামকে নিঃশর্ত মুক্তি দিন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা লক্ষ করছি সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। আ ন ম শামসুল ইসলাম সরকারের প্রতিহিংসামূলক অসংখ্য মামলার শিকার। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সকল মামলায় জামিন নিয়েছেন এবং নিয়মিত কোর্টে হাজিরা দিচ্ছেন। এতদসত্তেও সরকারের নগ্ন ইশারায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়া সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাকে গ্রেফতার করেছে। এইভাবে রাতের আঁধারে একজন সাবেক জনপ্রতিনিধিকে গ্রেফতার করে সরকার তার ফ্যাসিবাদী রূপ জনগণের সামনে বারংবার তুলে ধরছে। সরকার জনগণের মনে যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে যেকোনো সময় তার গণবিস্ফোরণ ঘটবে। সরকারের আশঙ্কা আ ন ম শামসুল ইসলামের মতো দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের হাত ধরে তাদের পতন ত্বরান্বিত হবে। তাই আজ সরকার নিজেদের মসনদ ধরে রাখতে রাজনৈতিক ময়দান থেকে প্রথম সারির নেতৃত্বকে সরিয়ে দিতে ষড়যন্ত্রের মহোৎসবে মেতে উঠেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আ ন ম শামসুল ইসলাম দেশের গণমানুষের ও শ্রমিকদের প্রাণপ্রিয় নেতা। তাকে গ্রেফতার করে আপনারা কোটি কোটি শ্রমিকের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছেন। জনতার হৃদয়ে আঘাত দিয়ে পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি স্বৈরাচার সরকার নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারেনি। আপনারা হামলা মামলা দিয়ে যে ফ্যাসিবাদী ও অগণতান্ত্রিক আচরণ শুরু করেছেন আপনাদের পতন অবশ্যম্ভাবী। বাংলাদেশের জনগণ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য অচিরে রাজপথে নেমে আসবে। সেদিন আর বেশি দূরে নয়। সুতরাং অনতিবিলম্বে আ ন ম শামসুল ইসলামসহ সকল রাজবন্দীর আশু মুক্তি দিন। অন্যথায় জনগণ তাদের নেতাকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে দেশে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে এর জন্য আপনারা দায়ী থাকবেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।