তিন বছরেরও বেশি সময় পর নিজের গাড়িতে চড়লেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ গাড়িটিতে তিনি সর্বশেষ উঠেছিলেন ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ওই গাড়িতে করেই পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়েছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার নিজের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে তাকে তার সবসময় ব্যবহৃত গাড়িটিতে করে যেতে দেখা যায়। এর আগে তিনি সাজা স্থগিতাদেশ পেয়ে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে গুলশানের বাসায় এসেছিলেন সেদিন তিনি অন্য একটি প্রাইভেটকারে করে আসেন। পরে তিনি যতবার বাসা থেকে বের হয়েছেন ততবারই অন্য প্রাইভেটকারে করে বের হয়েছেন। এবারই তিনি তার নিজের ব্যবহৃত গাড়িতে চড়ে বাসা থেকে বের হলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার নয়া দিগন্তকে বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার নিজের ব্যবহৃত গাড়িটি ব্যবহার করলেন। দেখে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আমি মনে করি নেতাকর্মীরাও এতে অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবদল নেতা বলেন, ম্যাডামকে তার ব্যবহৃত গাড়িটিতে দেখে আজকে অনেক ভালো লেগেছে। আজকের ম্যাডামের বের হওয়াটাও অন্যরকম ছিল। আমার কাছে মনে হচ্ছিল ম্যাডাম ঠিক আগের মতো মুক্তভাবে বের হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শুরুতে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায়ই চিকিৎসা চলছিল বিএনপি নেত্রীর। ১৫ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে সিটিস্ক্যান করানো হয় খালেদা জিয়ার। এরপর ফিরিয়ে আনা হয় গুলশানের বাসভবনে। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ এপ্রিল একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি-প্রধানকে।

৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বিএনপি থেকে খালেদা জিয়ার করোনামুক্তির খবর দেয়া হয় ৯ মে।

তবে সিসিইউতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কেবিন ফিরিয়ে আনা হয়। এর ১৬ দিন পর বাসায় ফেরেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।