কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) সভাপতি ও যাত্রাবাড়ি মাদরাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা মাহমূদুল হাসান বলেছেন, আমরা এক আল্লাহ, এক রাসূল সা: ও এক ইসলাম মানি। সবার আক্বিদা এক, তারপরও আমাদের মধ্যে বিভেদ কেন? আমাদের বিভেদ থাকলে হবে না। আলেম-ওলামার ঐক্য দরকার। আমাদের ঐক্য থাকলে পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই আমাদের দাবিয়ে রাখবে। মসজিদ, মাদরাসা যতদিন থাকবে ততদিন কেউ আমাদের শেষ করতে পারবে না।
রোববার রাজধানীর লালবাগ মাদরাসায় আবনায়ে জামেয়া লালবাগ আয়োজিত ‘মুফতী ফজলুল হক আমিনীর জীবন-কর্ম-অবদান’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আল্লামা মাহমূদুল হাসান আরো বলেন, মুফতী আমিনী সত্য প্রকাশে তিনি কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় করতেন না। তার মেধা-মনন ছিল শাণিত। ইসলামী চিন্তার স্বচ্ছতা, যুক্তির দীপ্তি তার ব্যক্তিত্বকে সব সময়ই আলোকিত করে রাখত।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় ভয় পাই, এইতো ঢেউ আসছে। কিন্তু এ কাফেলা সাহাবাদের। দ্বীনের হেফাজত করার দায়িত্ব নিয়েছেন মহান আল্লাহ তায়ালা। এজন্য যখনই কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু করতে গেছে তারাই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে।
সম্মেলনে অন্য বক্তারা বলেন, ঈমান, আমল, খানকা, হাদিসের মসনদ, রাজনীতি সবখানেই মুফতি আমিনীর সরব পদচারণা ছিল। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল সমৃদ্ধ। তিনি ইসলাম ও দেশের স্বার্থ বিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ভূমিকা পালন করতেন। সংসদ সদস্য হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করলেও কোনো গোয়েন্দা সংস্থা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির নুন্যতম অভিযোগ তুলতে পারেনি। তিনি আকাবির ও আসলাফের পথ অনুসরণ করতেন।
তারা বলেন, আন্দোলনের ময়দানেও মুফতী আমিনী রহ: ছিলেন সবার আস্থার জায়গা। এজন্য তিনি ইসলাম, দেশ ও জাতির স্বার্থে কোনো আন্দোলনের ডাক দিলে দল-মত নির্বিশেষে সবাই ছুটে আসতেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশের মুসলমানদের এ দুঃসময়ে মুফতী আমিনীর মতো একজন আপোষহীন নেতার বড়ই প্রয়োজন, যার হুংকারে বাতিলের মসনদ কেঁপে উঠবে। মুসলিম জাতি আজ এমন একজন আলোকিত নেতার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
লালবাগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহিব্বুল্লাহর সভাপতিত্বে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তৃতা করেন, ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, লালবাগ মাদরাসার মজলিসে শুরা প্রধান মাওলানা হাবিবুর রহমান, শায়খ জাকারিয়া রহ: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ, জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা হিফজুর রহমান, শাহতলীর পীর মাওলানা আবুল বাশার, মুফতী আমিনী রহ:-এর ছেলে মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, লালবাগ মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতী ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান-পীর সাহেব বাহাদুরপুর, মাওলানা এহতেরামুল হক-পীর সাহেব উজানি, অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকিব, মুফতী গোলাম রহমান, মাওলানা শাব্বির আহমদ রশিদ, মাওলানা লেহাজ উদ্দিন, বায়তুল মোকাররমের ভারপ্রাপ্ত খতিব মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ আল-বাকী, জাতীয় ইমাম সমাজ বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা ক্বারী আবুল হোসাইন, ইসলামবাগ মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতী তৈয়্যব হোসাইন, খিলগাঁও নতুনবাগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহিউদ্দীন ইকরাম, গাজীপুর খালেকিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ফজলুর রহমান, বড়কাটারা মাদরাসার মুহতামিম মুফতী সাইফুল ইসলাম, মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, জাতীয় ওলামা কল্যাণ পরিষদের মহাসচিব মাওলানা শহীদুল ইসলাম ইনসাফী, আবনায়ে জামেয়া লালবাগের আহবায়ক মাওলানা যোবায়ের আহমদ কাসেমী, যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা মীর হেদায়েতুল্লাহ গাজী, সদস্য সচিব মাওলানা জাহিদ আলম, মাওলানা আনসারুল হক ইমরান প্রমুখ।











