দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে মাতৃভূমিতে ফিরে সকলকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা মঞ্চে যাওয়ার পথে আজ দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’ ওই পোস্টের সাথে তিনি চারটি ছবিও শেয়ার করেছেন।
বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তার গাড়িবহর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস দেখা যায় সেসব ছবিতে।
এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট (বিজি-১০২) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রথমে ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকেসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে বুকে বুক মেলান তিনি। এছাড়া, উপস্থিত নেতাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
বেলা সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সবার আগে বাংলাদেশ খ্যাত লাল-সবুজ রঙের বিশেষ নিরাপত্তা সম্বলিত বাসে চড়ে ৩০০ ফিটের কাছে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে আসেন।
সেখানে পৌঁছে নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এ সময় বিশেষ মঞ্চে উঠে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভাষণ দেন তিনি।
ভাষণে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ আপনারা জানেন, এখান থেকে আমি আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাবো। যে মানুষটি এ দেশের মাটি, এ দেশের মানুষকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। তার সাথে কী হয়েছে আপনারা জানেন। সন্তান হিসেবে আমি চাইব, আপনারা আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার মন পড়ে আছে আমার মায়ের হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সেজন্যই হাসপাতালে যাওয়ার আগে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি আমি।’
আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা জিয়াউর রহমানের মাজার ও সাভার স্মৃতিসৌধে যাবেন তারেক রহমান। শনিবার নির্বাচন কমিশনে এনআইডি কার্যক্রম শেষ করে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন তিনি। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যাবেন।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, কৌতূহল ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং সর্বজনীন প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন। যার সাথে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাগমের সম্ভাবনা।
একদিন পাহাড়সম অভিযোগ মাথায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে, ছিলেন নির্বাসনে। আজ দেড় যুগ পরে তিনি দেশের মাটিতে ফিরে এসেছেন আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি জনপ্রিয়তা নিয়ে; গণ-মানুষের নেতা আর জাতির ঐক্যের প্রতীক হয়ে। বাসস








