আইনজীবীদের শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আগামী ৬ ও ৭ মার্চ। সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের এ নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রচার প্রচারণায় মেতেছেন আইনজীবীরা। এবারের নির্বাচনে সরকার পন্থী সাদা ও বিএনপিপন্থী নীল প্যানেলের বাইরে সভাপতি ও সম্পাদক পদে আরো বেস কয়েকজন প্রর্থী হয়ে ভোটের মাঠে প্রচারণায় নেমেছেন।

জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ সেশনে বার নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) সবার প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। একইভাবে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) থেকেও সবার প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। এই দুই প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ এবং এম কে রহমানের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। সম্পাদক পদে সাদা ও নীল প্যানেলের বাইরে নাহিদ সুলতানা যুথি ও ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়ার প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ পদে সাদা ও নীল প্যানেলের বাইরে সাইফুল ইসলামের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে।

এ বার নির্বাচনে সভাপতি পদে এম কে রহমান প্রার্থী হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালের মার্চে সরকার তাকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেয়। এরপর ২০১৪ সালের মে মাসে সরকার আবার তাকে অব্যাহতি দেয়।

সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে এম কে রহমানের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এ কারণে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে সাদা প্যানেলের ভোট ভাগাভাগি হতে পারে।

অন্যদিকে সাদা প্যানেলের বিপরীতে নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মাহবুব উদ্দিন খোকন নির্বাচন করছেন। তিনি এর আগে সাতবার সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

এ বিষয়ে এম কে রহমান বলেন, আমি মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছি। আশা করছি প্রার্থিতা বৈধ ঘোষিত হবে। আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করব না।

তিনি বলেন, বারটাকে এখানে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি নির্বাচনের যে সাব কমিটি হয়েছে তারা একটি ভালো, একটি সুন্দর নির্বাচন করবে। আমরা শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ বার চাই।

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে সাদা ও নীল প্যানেলের বাইরে সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন, বারের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী নাহিদ সুলতানা যুথি। তিনি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুলা) প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উত্তরবঙ্গ আইনজীবী সমিতির সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে নির্বাচন করে সুপ্রিম কোর্ট বারে কোষাধ্যক্ষ পদেও নির্বাচিত হয়েছেন। আইনজীবী হিসেবে তারও ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

নাহিদ সুলতানা যুথি বিজয়ী হতে না পারলেও দু’জন একই ঘরানার হওয়ার কারণে সাদা প্যানেলের ভোট ভাগাভাগি হবে। এতে নীল প্যানেলের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে এ

এ বিষয়ে নাহিদ সুলতানা যুথি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন দেখতে চাই। যে নির্বাচনে বারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না, কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা আমাদের এই নির্বাচনে দেখতে চাই না। এই নির্বাচন কমিশন সুন্দর একটা নির্বাচন উপহার দেবে এমনটাই আমরা চাই।

তিনি বলেন, আইনজীবীরা ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। আমি সাধারণ আইনজীবীদের একটি কণ্ঠ, তাদেরই একজন বোন আমি। তারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবে, এই প্রত্যাশা করছি। আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করব না। আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবো এবং নির্বাচনে লড়ে যাবো।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ আওসাফুর রহমান বুলু বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে প্যানেলের কোনো কথা নেই। প্যানেল হলে সেটাই অফরাধ। এখানে এম কে রহমান ও নাহিদ সুলতানা যুথি প্রার্থী হয়েছেন নিজস্ব ক্যাপাসিটিতে।

তিনি বলেন, আমরা এই বারের গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা চাই সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। জাতির ক্রান্তি লগ্নে বা জাতির প্রয়োজনে তারা কথা বলবে।

বার নির্বাচন নিয়ে সাদা প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী শাহ মন্জুরুল হক বলেন, আইন পেশাকাকে স্মাট পেশায় রুপান্ত্রিত করতে চাই।

তিনি বলেন, স্মাট আইন পেশার জন্য ডিজিটালাইজেশন প্রয়োজন। আমি নির্বচিত হলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব। তিনি বলেন, এবার নির্বাচনে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। আমি নির্বাচিত হলে আইনজীবীদের পেশাগত এবং আর্থিক যেসব সমস্যা আছে তার সমাধান করব। এছাড়া বারের অবকাঠামো উন্নয়ন লাইব্রেরিসহ পেশাগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখব।

নীল প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের কাজ গভীরভাবে অবজারভেশন করছি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এক ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। তবুও আমরা প্রত্যাশা করছি যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা গত দুই বছরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে নজিরবিহীন ঘটনা কলঙ্কের অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের কাছে আইনজীবীদের মাথা যে হেঁট হয়েছে সেটি থকে বেরিয়ে আসার জন্য অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাজ অবজারভেশন করছি, এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তারা নির্বাচনটা স্বচ্ছ করবেন কি না। তবে আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। আমরা বিজ্ঞ আইনজীবীদের আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা ভোট দিন, আপনারা নেতা নির্বাচিত করুন। সুপ্রিম কোর্ট বারে দীর্ঘদিনের অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতন্ত্রের চর্চা আছে সেটি যেন অব্যাহত থাকে।

নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন পরিচালনা সাব কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক ট্রেজারার মো: কামাল হোসেন বলেন, ভোট সুষ্ঠু হবে। বার নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের জন্য এবার আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছি। সবাইকে নিয়ে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই।

কামাল হোসেন বলেন, আমরা গত দুটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি। তবে আশা করছি এবার একটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে