আজ বুধবারই গঠিত হতে পারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। খসড়া প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন কমিটির। যতটুকু জানা যাচ্ছে, তাদের মনে হচ্ছে যে এতে নাম নেই আলেম কোনো প্রতিনিধির। এতে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে নানা মহল থেকে।
আলেমদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একজন অভিজ্ঞ আলেমকে প্রতিনিধি হিসেবে অবশ্যই নিয়োগ দেয়া উচিৎ। এছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আলেমদের অবদানও অস্বীকার করার উপায় নেই।
এ বিষয়ে বুদ্ধিজীবী আলেম মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে কোনো আলেমের সদস্যপদ না থাকা খুবই দুঃখজনক। বর্তমানে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে, তাদের যে কারোর চেয়ে সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অনেক বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন, এমন শীর্ষ, যোগ্য ও প্রবীণ আলেম অনেকেই রয়েছেন। কাজেই, দেশ, ধর্ম ও নৈতিকতা সুরক্ষার স্বার্থে অন্তত একজন আলেমের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই প্রয়োজন।
আরেকজন বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সাইফ সিরাজ বলেন, মুসলিম প্রধান একটা রাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মুসলমানদের ধর্মীয় নেতৃত্ব না থাকাটা হাতাশাজনক। এছাড়াও আজকের এই স্বৈরাচারের পতনে আলেম সমাজের ধারাবাহিক ত্যাগের বিপরীতে এইটা ডিজার্ব করে আলেম সমাজ। ১৩ সালের শাহবাগ যখন একটা নয়া বাকশাল হয়ে উঠেছিল এবং ক্রমশ আমাদের কণ্ঠ ও অধিকারকে চেপে ধরছিল, ঠিক তখনই আলেম সমাজ হেফাজতের ব্যানারে এসে সেই নব্য বাকশালকে ঠেকিয়েছিল। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে মোদিবিরোধী আন্দোলন (যা মূলত রেজিমের বিরুদ্ধেই ছিল) শিক্ষানীতি নিয়ে আন্দোলন নিয়ে আলেমরা এই স্বৈরতন্ত্রের বিরদ্ধে মাঠে-ময়দানে-মিছিলে কথা বলা ও প্রতিবাদ জারি রেখেছিলেন। ফলে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব থাকাটা জরুরি, ন্যায এবং নৈতিক।
তিনি আরো বলেন, যদি আলেমদের প্রতিনিধিত্ব না থাকে, তাহলে এটা আলেমদের ক্ষেত্রে অবশ্যই সেই স্বৈরতান্ত্রিক সেক্যুলারিজমের মনস্তত্বের ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ হবে।
বিশিষ্ট লেখক ও বুদ্ধিজীবী মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম। ইসলাম এ দেশের রাষ্ট্র ধর্ম এবং অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ফলে বিশেষভাবে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করবেন, এমন কেউ একজন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত বলে মনে করি। যদিও অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম। কিন্তু তারা কেউ-ই এমন না, যিনি মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একজন বিজ্ঞ ও রাষ্ট্র-সচেতন আলেমকে যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে রাখা হতো, তবে মুসলিমরা কিছুটা স্বস্তি পেত। পাশাপাশি তিনি শরীয়তের আলোকে নানান পরামর্শ দিয়েও এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহায়তা করতে পারতেন। যেটা আপামর মুসলিম জনসাধারণের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হতো।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে আলেমদের প্রতিনিধি এখন সময়ের দাবি হয়ে ওঠেছে। স্বৈরাচার পতন-পরবর্তী করণীয় নির্ধারণী বৈঠকে আলেমদের অংশগ্রহণ দেখে সবাই আশাবাদী হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে আলেমদের প্রতিনিধি না থাকায় হতাশ হয়েছে। সেজন্য আলেম সমাজ ও সাধারণ মুসলিমদের ধর্মবোধকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন সরকারের কমিটিতে একজন আলেম প্রতিনিধি রাখা প্রয়োজন।
এই কমিটিতে কে থাকতে পারেন, সে বিষয়েও আলোচনা উঠেছে। আলেম বুদ্ধিজীবীরা এক্ষেত্রে কয়েকজন আলেমের নাম প্রস্তাব করেছেন। তাদের মধ্যে মাওলানা শরীফ মুহাম্মাদ, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, ড. আ ফ ম খালেদ হোসেন, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী ও মাওলানা মাহফুজুল হক অন্যতম। তবে এদের মধ্যে বিতর্কমুক্ত ও অরাজনৈতিক হওয়ার সুবাদে মাওলানা শরীফ মোহাম্মাদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখিত হচ্ছে। আলোচনায় ড. আ ফ ম খালেদ হোসেনের নামও বিশেষভাবে আসছে।
নতুন সরকারের কমিটিতে যেকোনো আলেম প্রতিনিধি যুক্ত করে ধর্মপ্রাণ মানুষের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে আলেম সমাজসহ ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।





