বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নির্বাচনের পর গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা যেকোনো দলের সাথে কাজ করতে বিএনপি প্রস্তুত থাকবে।

গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ সরকার ভেঙে পড়ে। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশ ছাড়েন। এর ফলে আওয়ামী লীগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা যেতে পারে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত ছাত্র সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি)। ছাত্রনেতারা মনে করেন, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিনের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের ওপর বিরক্ত এবং তারা পরিবর্তন চায়।

বর্তমানে ড. মঈন খান ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন এবং সেখানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন।

রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে ডিসেম্বরের মধ্যেই একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বরের পরে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।’

তিনি বলেন, দ্রুত নির্বাচন না হলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে, যা কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে বিএনপি এখনো কোনো জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করেনি। তবে নির্বাচনের পর গণতন্ত্রপন্থী যেকোনো দলের সাথে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা আগ্রহী থাকবে।