জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও ১০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দাবি জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সফলতার পেছনে কোনো বড় ডোনার ছিল না কিন্তু এই প্রবাসীরাই ছিল আমাদের বিপদের পাশে, তারা আমাদের সফলতার একটি অংশ। ১০ শতাংশ প্রবাসী প্রতিনিধিত্ব এর বিশেষ কিছু ভালো দিক আছে, যেমন রেমিট্যান্স একটি বড় মাধ্যম অর্থনিতির জন্য, প্রবাসী প্রতিনিধিত্ব থাকলে তারাই প্রবাসীদের ভালো-মন্দ নিয়ে কথা বলতে পারবেন। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হবে উচ্চকক্ষের যে ১০০ প্রতিনিধি এটা আনুপাতিকপ্রাপ্ত ভোটে নিশ্চিত করা হবে, সেটাও যদি করা হয় সেখানে শ্রমজীবী, পেশাজীবী, রাজনীতির বাইরে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রাখার বিষয়ে চিন্তা করছেন সেখানে যদি প্রবাসীদের রাখা হয় তাহলে খুবই ভালো হবে।’

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটে অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও ১০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমাদেরকে অনেকেই নিজেদের স্বার্থের প্রয়োজন সাপেক্ষে ব্যবহার করেছে কিন্তু আমরা সংগ্রাম করেছি নিজেদের বুদ্ধি এবং বিবেকের তারণা থেকে। আমাদেরকে অনেক ভাবেই বিনাশ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু আমরা বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি আর এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে যাদের সিংহভাগ অবদান রয়েছে তারা হলো প্রবাসী অধিকার পরিষদ এবং প্রবাসী ভাই-বোনেরা।’

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো: রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে অবশ্যই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত না করে গণঅধিকার পরিষদ নির্বাচনে যাবে না। প্রবাসীরা রেমিট্যান্স শাটডাউন ঘোষণা না করলে হাসিনার পতন হতো না। প্রতিটা দলকে বলব, প্রবাসী প্রতিনিধিদের নমিনেশন দিন। আমরা ৩৬টি আসন করেছি, এরমধ্যেও কয়েকজন প্রবাসী প্রতিনিধি রয়েছে। আমরা প্রবাসীদের দাবির সাথে রয়েছি।’

অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো: কবীর হোসেন। তিনি বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের যৌক্তিক ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন :

প্রবাসীদের যৌক্তিক ১০ দফা দাবি :

১. অনিয়মিত, আনডকুমেন্টেড, দুস্থ এবং অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীর লাশ পরিবহন ব্যয় সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২২ এর দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।

২. প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র চাই ও বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট/প্রক্সি ভোটে নয় বাংলাদেশী দূতাবাস ও নির্বাচনী বুথে ব্যালট বাক্সে স্ব-শরীরে অথবা অনলাইনে প্রবাসীরা নিজের ভোট নিজে দিতে চাই এবং জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ চাই।

৩. বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধ, যথাযথ সম্মান ও বাংলাদেশ বিমানসহ বেসরকারি অন্যান্য বিমানের সিন্ডিকেটমুক্ত সুলভ মূল্যে বিমান টিকিট চাই।

৪. প্রবাসীদের জন্য যুগপোযোগী দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন প্রনোয়ন ও পেনশন সুবিধা চাই।

৫. সহজ প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট সংশোধনের সুযোগসহ দালাল ও হয়রানি মুক্ত পাসপোর্ট ও দূতাবাস সেবা চাই।

৬. প্রবাসী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং প্রবাসী ও প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের সুচিকিৎসার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা সেবা ও বিশেষায়িত হাসপাতাল চাই।

৭. জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের জন্য প্রতি বছর (৫ শতাংশ) বিশেষ বরাদ্দ চাই।

৮. বিদেশে কাগজপত্র বিহীন প্রবাসীদের বৈধকরণে সরকারের সহযোগিতা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সব দেশের ভিসা ঢাকা থেকেই পাওয়ার ব্যবস্থা চাই।

৯. বাংলাদেশী কর্মী যেসকল দেশে আছে সেসকল দেশে পর্যাপ্ত প্রবাস বান্ধব বাংলাদেশী দূতাবাস/হাইকমিশন ও শ্রম কল্যাণ উইং চাই।

১০. অভিবাসন ব্যয় এক লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, জি টু জি-এর মাধ্যমে প্রবাসে কর্মী প্রেরণ ও প্রবাস ফেরতদের কর্মসংস্থান, সুদমুক্ত পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধা চাই।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন দলের মুখপাত্র ফারুক হাসান, উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের মনজুর মোর্শেদ মামুন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মায়া ও প্রবাসী অধিকার পরিষদের নেতারা।

প্রোগ্রাম সঞ্চালনায় ছিলেন শাহাব উদ্দিন শিহাব, মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ ও সভাপতিত্বে ছিলেন আব্দুস সোবহান হাওলাদার, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন আসিফ আহমেদ জনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, দুলাল আল মাইজ ভান্ডারী, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, মো: জুয়েল মুন্সী, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী, দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, নয়ন খান কবির, কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ সম্পাদক, সম্রাট আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, ব্রুনাই শাখা, ইলিয়াস হোসাইন, সহ-সভাপতি, সৌদি আরব শাখা, মো: জনি সদস্য, কুয়েত, ইমরান হোসেন প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি