তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষে জন্য হোক। এই স্লোগান দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে ছাত্র-সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে তোমরাই তোমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ তোমাদের সাথে আছে। আগামীতেও থাকবে। গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী খুন হয়েছে। এ সময় হামলা-মামলা, নির্যাতন, গুমের শিকার হয়েছে। নিষ্ঠুর-নির্মমতা চালিয়েও ছাত্রদলকে দমিয়ে রাখতে পারেনি ফ্যাসিস্ট হাসিনা।

তারেক রহমান বলেন, সবার কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। একাধিক ভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা, ইংরেজি ছাড়াও অন্তত দুই ভাষা শিক্ষার সুযোগ রাখার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত দেড় দশকে ৪ কোটির বেশি নতুন ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এবার তোমাদের হারানো অধিকার ফিরে পাওয়ার সময়। ধানের শীষ প্রতীকে তোমাদের প্রথম ভোট হবে তোমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার।’

তিনি বলেন, ‘চলো, আজ আমরা সকলে একসাথে প্রতিজ্ঞা করি- আমাদের প্রথম ভোট হবে বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য। আমাদের প্রথম ভোট হবে শহীদদের রক্তের মর্যাদা রাখার জন্য। আমাদের প্রথম ভোট হোক ধানের শীষের জন্য, ইনশাআল্লাহ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘ছাত্রসমাজই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমরাই গড়ে তুলবে শহীদদের স্বপ্নের সেই বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, আমাদের প্রয়োজন শিক্ষিত, দক্ষ, প্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন একটি প্রজন্ম, যারা জ্ঞান ও মানবিকতা দিয়ে দেশকে নেতৃত্ব দেবে।’

ছাত্রদলের হাজারো নেতাকর্মী জেল, নির্যাতন, খুন-গুম এবং হামলার শিকার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে শতাধিক ছাত্রদল কর্মী শহীদ হয়েছেন, গ্রেফতার হয়েছেন দুই হাজারেরও বেশি। কিন্তু এই ত্যাগ বৃথা যাবে না।’

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে গুণগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার

তারেক রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যতের শিক্ষানীতিতে আমরা চাই, স্কুল থেকেই ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষার সংযোগ। যাতে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শেষে চাকরির জন্য পথে বসে না থেকে নিজের দক্ষতা দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’

তিনি জানান, বিএনপি পরিকল্পনা করছে স্কুল পর্যায়ে আইটি, ডেন্টাল হাইজিন, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য কারিগরি শিক্ষা চালু করার। এর পাশাপাশি থাকবে একাধিক ভাষা শিক্ষার সুযোগ- ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জার্মান, ফরাসি, জাপানি ও চীনা ভাষা শেখার সুযোগ থাকবে।

ই-কমার্স ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিস্তৃত পরিকল্পনা

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য দেশের প্রতিটি জেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে সহায়তা করা হবে, যাতে তারা নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে বিশ্বমানের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আউটসোর্সিং বৈদেশিক আয় দেশে আনার নীতিগত উদ্যোগ

ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় আয় করলেও অনেকেই তা দেশে আনতে পারছেন না। এই সমস্যা সমাধানে বিএনপি সরকার গঠন করলে আন্তর্জাতিক লেনদেন নিরাপদ করতে জরুরি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তারেক রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে গবেষণার পরিবেশ, আবাসন সঙ্কট এবং খাবারের মান উন্নয়ন জরুরি। আমরা চাই, প্রতিটি ক্যাম্পাস হোক নিরাপদ ও মুক্ত চিন্তার স্থান।’