ঈদের ছুটিতে হঠাৎ আকস্মিক সফরে সিলেট আসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সিলেটে এসে আলোচিত ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান নাসিরের প্রতিষ্ঠান আল হারামাইন হাসপাতালে অবস্থান করা নিয়ে সিলেটজুড়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। যদিও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে শুধুমাত্র পায়ে ব্যাথাজনিত কারণে ট্রিটমেন্ট নিতেই তিনি ওই হাসপাতালে গিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে , বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুর সোয়া ২টার দিকে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে (বিএস-৫৩৫) স্ত্রীসহ ঢাকা থেকে সিলেট আসেন নাহিদ ইসলাম। পরে বেলা ৩টার দিকে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় অবস্থিত আল হারামাইন হাসপাতালে যান। সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর সড়কপথে মৌলভীবাজারে উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

এদিকে আল হারামাইন হাসপাতালে নাহিদ ইসলামের অবস্থানের বিষয়টি শুক্রবার জানাজানি হলে সিলেটজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলতে থাকে সমালোচনা। অনেকেই এ নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনা করছেন।

যদিও হাসপাতালের জিএম পারভেজ আহমদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পায়ে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন নাহিদ। অর্থোপেডিক্স ডাক্তার দেখিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। শুক্রবার রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি শ্রীমঙ্গলের একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। শনিবার রাতে তাঁর ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে এনসিপি সিলেটের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নাহিদ ইসলাম স্ত্রীকে নিয়ে দুই দিনের পারিবারিক সফরে বৃহস্পতিবার সিলেট আসেন। সেখানে পৌঁছে পায়ে তীব্র ব্যাথা অনুভুত হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটস্থ আল হারামাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাজনিত কারণে কয়েকঘণ্টা অবস্থান করে তিনি ফিরে যান।

আলোচিত ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমানের সাথে নাহিদকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো নানা অপতথ্যকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন এনসিপি সিলেটের ওই সূত্র। তারা বলেন, এই সফর একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ছিল। তাই এনসিপি নেতৃবৃন্দকেও জানানো হয়নি। এছাড়া কোনো ডিল থাকলে কেউ স্ত্রী নিয়ে হাসপাতালে যেতো না। রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতেই তিনি আল হারামাইনে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে এনসিপি সিলেটের সূত্রটি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে শিগগিরই এনসিপি কেন্দ্র থেকে বিবৃতি আসবে বলে শনিবার বিকেলে দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক।

প্রসঙ্গত, আল হারামাইন হাসপাতালের মালিক মাহতাবুর রহমান নাসিরের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিদেশে কোটি কোটি পাচারের অভিযোগ উঠে। আতর ব্যবসার আড়ালে হুন্ডির মাধ্যমে এ টাকা পাচার করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এমনকি ৫ আগস্টের পর তার বিলাসবহুল বাড়ি কাজী ক্যাসলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এলাকার লোকজন ওই বাড়িতে হামলা চালায়। এ ঘটনার পর বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। দুদক ও এনবিআর তার সম্পদের গোপন রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।