শেখ হাসিনা যখন দাবি করছিলেন, এটা আমার বাপের দেশ। আমার বাপ এ দেশকে শাসন করেছে। সুতরাং আমি এটা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। প্রকারান্তরে রাজতন্ত্রই দাবি করছিলেন। না হলে আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছে আমি কী করেছি! আমি তো কিছু করিনি। তাহলে আমি উত্তরাধিকারী হলাম কী সূত্রে? রক্তের সূত্রে! এটাই হচ্ছে মূলনীতি। রক্তের সূত্রে রাজপরিবার হবে। রক্তের সূত্রে অভিজাততন্ত্র হবে। সেটা পৃথিবীতে বহু জাতি সংগ্রাম করে পেয়েছে। ইউরোপীয়রা, ফ্রান্সে, ইংল্যান্ডে, নেদারল্যান্ডসে বিপ্লব করে এটা উদঘাটন করেছে। তারা বলছে আমরা রিপাবলিক করব।
আমাদের দেশে এনজিওগুলো, সিভিল সোসাইটিগুলো এবং বর্তমান সরকারের মধ্যে যারা ক্ষমতায় তাদের অধিকাংশের ধারণা আমাদের আসল সমস্যা বোধহয় সংবিধান। কিন্তু সংবিধান আসল সমস্যা নয়। আমাদের শ্রেণী সম্পর্ক, যেটা সংবিধানকে নির্ধারণ করে সেটাই আসল সমস্যা। কিন্তু সেটা ওপর থেকে দেখা যায় না। ওটা পানির নিচে থাকে। বরফ যখন সমুদ্রে ভাসে তার নয় ভাগের এক ভাগ উপরে থাকে। বাকিটা থাকে নিচে। আমি নিচের কথাটা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি যে শ্রেণী সম্পর্কটা কিভাবে সংবিধানকে নির্ধারণ করে। আসল ক্ষমতা কার হাতে? ব্যবসায়ীদের হাতে! এ ব্যবসায়ী শ্রেণীর একটি অংশ যারা নিজেদের শিল্পপতি দাবি করে। কিন্তু শিল্পপতি একেবারে নেই। এখানে ব্যবসা করেই পয়সা উপার্জন করা যায় এবং সেই পয়সাটা বিনিয়োগ না করে অন্য দেশে রফতানি করা যায়। দুবাই কিংবা সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগ করা যায়। এই যে ব্যবস্থাটা ইংরেজি ভাষায় বলে ক্ল্যাপটোক্রেসি বা চোরতন্ত্র। যে কারণে লোকে বলছে- একজনকেও বিশ্বাস করা যায় না। একজনকেও না। যারা ভালো অনুবাদ করেন তারা বলেন ‘মুষ্টিমেয়তন্ত্র’। আমি বলি- ‘একহাততন্ত্র’। পাঁচজনের শাসন। তো ভালো কি বহুজনের শাসন! এটার নাম হচ্ছে পলিটি। মানে ভালোতন্ত্র। অর্থাৎ জনগণের শাসন। এটাও আবার খারাপ হয়ে যায়। যেখানে যার জোর আছে সে ক্ষমতা দখল করে। লাঠি দিয়ে ভোট আদায় করে নেয়। মানুষ ভোট দিতে পারে না বা মানুষকে ভোট দিতে দেয় না।
ফলে রাজতন্ত্র এবং গণতন্ত্রকে এক সময় মনে করা হতো পরস্পরবিরোধী। অথচ এখন একসাথে থাকতে পারে। আমাদের দেশে যারা মনে করছে শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিলে বুঝি আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং পার্লামেন্ট এককক্ষ আছে যদি দ্বিকক্ষ করে দেই তাতে একটা পরিবর্তন হবে। কিন্তু আমি সবিনয়ে বলতে চাই, এই পরিবর্তন মৌলিক কোনো পরিবর্তন হবে না। এমনকি আপনি বলতে পারেন রাজতন্ত্র আর গণতন্ত্রে কোনো প্রার্থক্য নেই। জাপান তো রাজতন্ত্র ছাড়েনি। কিন্তু সেখানে পার্লামেন্ট আছে। ডেমোক্র্যাসি আছে। প্রধানমন্ত্রী আছে। এই দেশগুলো এবং নানা দেশের সংবিধান আমরা যদি একটু পর্যালোচনা করি তাহলে আমাদের কিছু কিছু শিক্ষা হতে পারে। আমাদের দেশে আমরা এখন এই কথাগুলো বলছি। যদি গণতান্ত্রিক বিপ্লব না হতো এই কথাগুলোও বলতে পারতাম না। গত ৫ই আগস্টের ঘটনা যদি না ঘটত, বলতে পারতাম না। এটা গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান হয়েছে। এটা বিপ্লব হবে কি না! যেখানে জনগণ নিজের উদ্যোগে আসে এবং তাদের আশা-আকাক্সক্ষা বা তাদের কামনা-বাসনা বা তাদের দাবিটাই সংস্কারের বা সংবিধানের মূলশক্তি হয় এটাই হলো বিপ্লব। এই গোড়ায় না গেলে যতই সংবিধান পঞ্চদশ সংশোধনী, ষোড়শ সংশোধনী, সপ্তদশ সংশোধনী করেন না কেন কিছুই হবে না। কাজেই আমার বন্ধুরা যারা বলছেন আমাদের সংবিধান সংশোধন করতে হবে, আবার আরেকজন বলছে পুনঃলিখন করতে হবে, এটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে, এগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক দম্ভোক্তি মাত্র। আসল কাজটা কি! আসল কাজ হলো যেন সংবিধান জাতীয় সংবিধানে রূপ নেয়।
প্রশ্নটা হলো জাতীয় বলতে কী বুঝাচ্ছি! আমরা যে রাষ্ট্রটা গঠন করেছি এখানে শক্তির কেন্দ্র আছে। আমাদের সেনাবাহিনী আছে, পুলিশ আছে, নানা রকম শক্তি প্রয়োগের হাতিয়ার আছে, এসব হাতিয়ারের সমন্বয় যেখানে তাকে রাষ্ট্র বলা হয়। এখানে কোর্ট আছে। আপনারা কোর্ট ব্যবহার করেন আর না করেন কোর্টের বিল্ডিং দাঁড়িয়ে থাকে। এখানে শক্তি আছে। জেলখানা আছে, এগুলো হচ্ছে রাষ্ট্রের শক্তির উদাহরণ। এখানে লক্ষ করার বিষয় যত ক্ষমতাওয়ালা ইংরেজিতে বলে কোয়ার্সেপ আওয়ার। তাদের হাতে অস্ত্র আছে, মনোপলি অব ভায়োলেন্স। কেউ প্রাইভেট অস্ত্র রাখতে পারবে না, লাইসেন্স না পেলে। সমস্ত অস্ত্র রাষ্ট্রের হাতে থাকবে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মানুষের ওপর ভায়োলেন্স বা অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারবে। এইভাবে রাষ্ট্র গঠিত হয়।
কিন্তু রাষ্ট্রের পেছনে যে জনবল ছিলাম অর্থাৎ আমরা, আমাদের অবস্থা কি তখন! আমরা কিন্তু তখনো রাষ্ট্রের মালিক হয়েছি। তাহলে রাষ্ট্র হচ্ছে একটা সংস্থা। যেটা আমরা গঠন করেছি। আমরা তার মালিকানা ছেড়ে দেইনি। আমরা যে মালিক আমাদের মালিকানার যে তালিকা। রাষ্ট্র আমাদের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারবে কিন্তু যেকোনোভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যেমন আমাকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবে না। আমাকে বিনাবিচারে শাস্তি দিতে পারবে না। আমাকে খুন করতে পারবে না। আমাকে গুম করতে পারবে না এবং কেউ যদি আমাকে গুম খুন করে আমাকে রক্ষা করবে রাষ্ট্র। এটি রাইট অর্থাৎ অধিকার-প্রতিষ্ঠান। রাইটের মধ্যে তিন ধরনে শব্দ আছে, একটা রাইট, একটা প্রোটেকশন আরেকটা ফ্রিডম। আমাদের কনস্টিটিউশন যারা লিখেছেন শ্রদ্ধা রেখে বলছি তারা কনস্টিটিউশন কিভাবে লিখতে হয় সেটাও জানেন না। তাদের উচিত ছিল আমেরিকার কনস্টিটিউশনটা পড়া। আপনি আমাকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালাল মনে করলেও করতে পারেন। কিন্তু যেখানে সাহিত্যের প্রশ্ন আছে সেখানে আমাকে সত্য কথাই বলতে হবে। এখন জনগণ যে কথাটা বলছে ধরেন ড. ইউনূস সাহেব জাতিসঙ্ঘে গিয়েছেন। তিনি সেখানে দুই বা তিনজন ছাত্র নেতাকে সাথে নিয়ে গেছেন। সেখানে তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তিনি যদি বলে থাকেন অমুক ছেলে মাস্টারমাইন্ড। লোকে এটা নিয়ে কতরকম লেখালেখি করছে ফেসবুকে! এটাকে বলে কুতর্ক।
এটা তো প্রতীকী। উনি বলেছেন, এই ছাত্ররা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। এটা এদের মাথা থেকে এসেছে। কথা যদি আক্ষরিক অর্থে সত্য হতো তবে তো কোনো দরকার নেই। উনি ছাত্রদের কৃতিত্বটা প্রতীকী আকারে বুঝিয়েছেন। তিনি তো ১৫৮ জন সমন্বয়ককে সাথে করে নিয়ে যাবেন না। কিন্তু আগের তুলনা করুন ১৯৭২এর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিরা যখন জাতিসঙ্ঘে গিয়েছিল, তখন তারা কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে গিয়েছিল? যারা শহীদ হয়েছে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে তাদের তো নিয়ে যেতে পারবেন না। যারা বেঁচে ছিলেন বীর উত্তম ছিলেন তাদের একজনকে তো নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু নিয়ে যাননি। রাজনৈতিক নেতাদের তো নিয়ে যাননি। এই হলো প্রার্থক্য।
বিপ্লব তখনই বেহাত হয়েছে যখন জনগণের কর্তৃত্ব থাকে না। ইনফেক্ট দেখা গেছে ১৯৭০এর নির্বাচনে যারা জিতেছিলেন তারাই পরবর্তীতে গণপরিষদ গঠন করেছিলেন। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে নতুন গণপরিষদে নতুন নির্বাচন দিতে হয়। আমরা যুদ্ধের মাধ্যমে গণপরিষদ দিয়েই আইন তৈরি করেছি। ফলেই বৃক্ষের পরিচয়। সেই সংসদ ছিল জনগণকে ক্ষমতাহীন করার সংসদ। এমনকি তাজউদ্দিন আহমদ যখন ফিরে এলেন কলকাতা থেকে, মুজিবনগর থেকে। ফিরে এসে ২২ ডিসেম্বর যে ভাষণ দিলেন, মুজিবুল হকের মূলধারার একটি বই দেখেন তিনি কিন্তু বলেছিলেন রাষ্ট্রে মূলনীতি হবে তিনটি- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। জাতীয়তাবাদটা পরে যোগ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। আমি বলব তাজউদ্দিন সাহেবও ওই তিনটা মূলনীতি থেকে সরে গিয়েছিলেন। এখন রাষ্ট্রের মূলনীতি হবে তিনটা- সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার। এটি ঘোষিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। এটার নামেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমাজতন্ত্রের নামে যুদ্ধ করিনি।
গত সরকারের আমলে একটা কথা ছিল- উন্নয়ন উন্নয়ন। আমাদের উন্নয়নের দরকার নেই। আমাদের কাজের দরকার। কর্মসংস্থানের দরকার। যেটা আমি সহজ শব্দে বলি আমাদের দরকার প্রোডাকশন বা উৎপাদন। তিনি উৎপাদন না করে শুধু উন্নয়নের বয়ান দিচ্ছেন। উন্নয়নের বয়ানের লক্ষ্যটা কি? মাথাপিছু আয় আমাদের বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর। গত বছর দুই হাজার ডলার ছিল এ বছর আড়াই হাজার ডলার। এই বলে শিশুর হাতে চকোলেট ধরিয়ে দেয়ার মতো। আমার দেখা উচিত গত বছর আমার ন্যূনতম মজুরি কী ছিল, এ বছর কত হয়েছে। আমাদের বেকারত্বের হার গত বছর কত ছিল, এ বছর কত হয়েছে। মানুষের কর্মসংস্থান এবং মানুষের ন্যূনতম মজুরি এ দুটোকে একসাথে ধরলে আপনি বলতে পারেন যে দেশে কেমন উৎপাদন হচ্ছে। কেমন ব্যবসায়ী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। ইকোনমির কী হচ্ছে। এটাই তো আসল কথা। উৎপাদন তো একটা সহজ কথা আমরা সবাই বুঝি। উৎপাদন, বিতরণ, বণ্টন সবই একই কথা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। তা না বলে আমরা শুধু উন্নয়নের কথা বলছি। এটুকু আমাদের অধিকারের লঙ্গন। আমার কাজ নাই। আমি মেডিক্যালে ভর্তি হতে চাই। কিন্তু ১০টা মেডিক্যাল কলেজ নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই, দেশে যথেষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় নাই। এটা তো রাষ্ট্র তার চুক্তি লঙ্ঘন করছে। মানে রাষ্ট্রের ম্যানেজার জনগণের সাথে বেঈমানি করছে। কাজেই সেটা আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা ভবিষ্যতে যে সংবিধানের কথা বলব তাতে মৌলিক অধিকারগুলো কি কি এটির পূর্ণ সূত্রায়ন করি এবং মৌলিক অধিকার যে শুধু আমাকে গ্রেফতার করা হবে না, ভোট দিতে পারব না তাতে সীমিত রাখবে কেন। আমার কতগুলো চাওয়ার অধিকার আছে- আমি রাষ্ট্রে থাকলে আমার একটি কাজ পাওয়ার অধিকার থাকবে। এবং একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম যা লাগে সে পরিমাণ বেতন না হলে কাজ করতে পারব না। আমি উৎপাদন করার জন্য আমার দুটো হাত আছে। মানুষজন তো মূক হয়ে জন্মায় না। এ জন্যই তো রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলাম। আমার কর্মসংস্থান আমার শিক্ষাব্যবস্থা, আমার যাতায়াতের ব্যবস্থা এই কথাগুলো যদি আমি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করি বাস্তবায়নের জন্য তাহলে এটাই হবে গণতান্ত্রিক সংবিধান। এ জন্য আমার গণতান্ত্রিকের সাথে একটা শব্দ যোগ করতে হবে গণতান্ত্রিক এবং ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক এবং সমতাভিত্তিক। ইংরেজিতে বললে ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইকুইটি। এই ইকুইটির কথা যদি আমি না আনি তাহলে আমরা গণতান্ত্রিক সেই লিবারেল ডেমোক্র্যাসির চোরাবালিতে ঘুরপাক খেতে থাকব।
তারপরও আমি বলব সংবিধানে লিখলেই সবকিছু বাস্তবায়িত হবে না। আপনাকে জাগ্রত প্রহরি হতে হবে। পাহারা দিতে হবে। সেটা কি করে দিতে হবে? জনগণের যদি নিজস্ব কমিটি না থাকে এটা বাস্তবায়নের জন্য শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করে আপনি এটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। সে জন্য আমি বলব- আমাদের গণতান্ত্রিক সংবিধানের ওপর একটা বর্তমানে সম্ভাবনাময় সুযোগ মুক্ত হয়েছে। এই বিপ্লব এটা যদি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবে রূপান্তরিত করতে চাই, আমাদের হাতে বেশি সময় নাই। দাবিগুলো যদি পরিষ্কার করে তুলতে পারি, এর কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করে তুলতে পারি, তাহলে আমাদের পক্ষে এর কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন আশা করা সম্ভব। নতুন করে যেভাবে গণতন্ত্রের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তা রক্ষা করতে হলে আমাদের ঘরে বসে থাকলে চলবে না। তা না হলে যেকোনো মুহূর্তে এটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। আমাদের মূল দাবি হবে সবার জন্য সমান অধিকার। প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ধন সম্পদের ক্ষেত্রে যদি সমতা প্রতিষ্ঠা করা না হয় তাহলে শুধু ভোটাধিকার দিয়ে তেমন কিছুরই পরিবর্তন ঘটানো যায় না। আমরা সমাজেও তাই দেখতে পাই। বড় লোকেরা শুধু নির্বাচিত হতে পারে। আর গরিবদের কাজ শুধু এই পক্ষকে ভোট দাও নয়তো অন্য পক্ষকে ভোট দাও। গণতন্ত্রের ধারণাকে যদি ভোটের অধিকার থেকে সরিয়ে আনি তাহলে সবাইকে সমান সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। সর্বশেষ যে আন্দোলন হলো সেটাও গণতন্ত্রের একটি উদাহরণ।
অনুলিখন : মেজবাহ মুকুল
