বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব যেকোনো বিশ্লেষণে অন্যান্য বিপ্লব থেকে আলাদা। এর সাথে ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব, চীনা বিপ্লব এমনকি নিকট অতীতের আরব বসন্তের কোনো তুলনা হয় না। যদি ’৭১ পূর্ববর্তী ’৬৯-এর গণ-অভুত্থান বা ৯০-এর গণ-অভুত্থানের সাথে তুলনা করি তাতেও জুলাই বিপ্লবের সাথে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। রুশ ও চীনা বিপ্লব রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করেছে। পুরনো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভেঙে চুরমার করে একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন প্রবর্তিত হয়েছে। ফরাসি বিপ্লবেও রাজতন্ত্রের অবসান করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আরব বসন্ত ছিল গোটা আরব জনপদে শেখ বাদশাহ আমির শাসনের বিরুদ্ধে আমজনতার উত্থান। সেই আন্দোলনে তিউনিসিয়া ও মিসরে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বেশি দিন তারা টিকতে পারেননি। তিউনিসিয়ায় কায়েদ ও মিসরে জেনারেল সিসির হাত ধরে ফিরে আসে স্বৈরতন্ত্র। মিসরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে কারাগারে নির্যাতনের মধ্য দিয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করা হয়।
বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যে সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আইনি ভ্রƒণ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। এতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার ঘোষিত হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাম্য প্রতিষ্ঠার নামান্তর। এই আন্দোলন হঠাৎ করে সূচিত হয়নি। ২০১৬ সালে স্কুলছাত্রদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে এর ভ্রƒণ রচিত হয়। তখনই রাষ্ট্র মেরামতের আওয়াজ তুলেছিল কোমলমতি শিশু-কিশোররা। ২০১৮ সালে দানা বেঁধে ওঠে কোটাবিরোধী আন্দোলন। কোটাপ্রথা পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ব্রেইন চাইল্ড। এটি প্রথম চালু হয় ১৯৭২ সালে, তখন চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ছিল প্রায় ৮০ ভাগ। ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার সরকার সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রবর্তন করে। তন্মধ্যে ৩০ শতাংশ পদ নির্ধারিত ছিল কেবল মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনীদের জন্য। যাদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ০.১ শত্যাংশের কম। ২০১৮ সালের আন্দোলনের ফলে কোটাপ্রথা বাতিল হয় এবং সরকার এতদসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে। পরবর্তীতে কোটাপ্রথা বাতিলের সরকারি প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়। শুনানি অন্তে হাইকোর্ট ডিভিশন কোটা বাতিলের সরকারি প্রজ্ঞাপন বেআইনি বলে ঘোষণা করেন। এর পরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হয়। পতিত স্বৈরাচারী সরকার শুরু করে পাতানো খেলা। সর্বোচ্চ আদালতকে ব্যবহার করে আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। সে সময় তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেন এবং কোটার পরিসর ৭ শতাংশে নামিয়ে এনে মুক্তিযোদ্ধা ৫ শতাংশ এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ২ শতাংশ নির্ধারণ করেন। কিন্তু এই রায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। কারণ তার আগেই তাদের সতীর্থদের শতাধিক লাশ পড়েছে এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছে। উপরস্তু শিক্ষাঙ্গনে ফিরে গেলে তারা হলে উঠতে পারবে কি না, তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত শত শত মামলায় তাদের হয়রানি করা হবে কি না সেই প্রশ্ন সামনে আসে। ফলে আন্দোলন আরো বেগবান হয়। এক পর্যায়ে বহুল আলোচিত ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চার সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে তাদের হেফাজতে রাখেন এবং তাদের নামে একটি বিবৃতিও প্রচার করেন। অন্য দিকে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের কটাক্ষ করে প্রকারান্তরে রাজাকারের বাচ্চা বলে অ্যাখ্যা দেয়ায় এবং তার মন্ত্রী ওয়াবদুল কাদের আন্দোলনরত ছাত্রদের দমনের জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট বলে আস্ফালন করায় আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। এরপর সরকার ঘোষিত কারফিউ উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’য় ঢাকার প্রতিটি প্রবেশ পথ দিয়ে শহরে ঢুকতে থাকলে সেনাপ্রধানসহ তিন বাহিনী প্রধানের মধ্যস্থতায় শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে তার বোন শেখ রেহানাসহ হেলিকপ্টারে ভারতে পালিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে সেনাপ্রধান রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেন এবং তার উদ্দেশে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের শীর্ষ নেতারা এবং ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সাথে পরামর্শ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন। উপদেষ্টা পরিষদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো মহলই কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দাবি করেনি। বরং সব পক্ষই সংবিধান, আর্থিক ব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ইত্যাদির সংস্কার চাচ্ছেন। কেউ কেউ সংবিধান পুনঃলিখন-এর কথা বললেও এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা রাষ্ট্রপতির সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের কোনো ম্যান্ডেট বা ক্ষমতা নেই। সে ক্ষেত্রে সংবিধান প্রণয়ন ও গ্রহণের জন্য নির্বাচিত গণপরিষদ গঠন করতে হবে যা বিদ্যমান পরিস্থিতি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কার্যত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমূল পরিবর্তনের কোনো পদক্ষেপও নেয়নি। তারা সংবিধান সংস্কার, নির্বাচনী সংস্কার, বিচারব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতিবিষয়ক সংস্কার, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার এবং প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য ৬টি কমিশন গঠন করেছে। কমিশনগুলোকে ৯০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংস্কার এবং নির্বাচনী রোড ম্যাপ নিয়ে বিএনপি জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতাদের সাথে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তৃতীয় রাউন্ডের সংলাপ সম্পন্ন করেছেন। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলেও সংস্কার শেষে নির্বাচনী রোড ম্যাপ ঘোষণার তাগিদ দিয়েছে।
সংস্কার প্রসঙ্গে নাগরিক সমাজ থেকে নানা রকমের বক্তব্য ও দাবি উত্থাপিত হচ্ছে। তন্মধ্যে একটি অভিন্ন দাবি হলো প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস, দুই মেয়াদের পর প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন বারিত করা, সরাসরি নির্বাচনের পরিবর্তে আনুপাতিক নির্বাচন ইত্যাদি। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(ক) তে বলা হয়েছে যে, ‘প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতা জনগণের ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং জনগণের পক্ষে সে ক্ষমতার প্রয়োগ কেবলমাত্র সংবিধানের কর্তৃত্ববলে কার্যকর হবে।’ সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদে বর্ণিত জনগণের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার সাথে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫(২) এর বিধান সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। যেখানে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত হবে। এর ফলে বাংলাদেশে প্রায়ই সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। সে জন্য প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওপরে ন্যস্ত করার পরিবর্তে যৌথভাবে মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত করা বাঞ্ছনীয়। তাহলে সেটি ৫৫(৩) অনুচ্ছেদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে যেখানে বলা হয়েছে যে, মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবে। অন্য দিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য। ফলে তিনি দেশের ক্রান্তিকালে বিবদমান পক্ষের মধ্যে কোনো সংলাপ ডাকতে বা কোনো সমঝোতার উদ্যোগ নিতে পারেন না। বিশেষ করে দলীয় সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালনকালে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব রোধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি রাষ্ট্রপতির অধীনে ন্যস্ত করার বিধান করা যেতে পারে। এর বাইরে বড় ধরনের কোনো সংবিধান সংশোধন বা এর আমূল পরিবর্তনের কোনো সুযোগ বর্তমানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই। উপরে যেসব সাংবিধানিক সংস্কারের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে সেগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐকমত্যে উপনীত হয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে সংসদ কর্তৃক রেটিফিকেশন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে আনুপাতিক নির্বাচনের প্রস্তাবনা এসেছে। পাকিস্তান শাসন আমলে সংখ্যালঘুদের স্বার্থে এবং সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল এবং সে সময়ে তার প্রয়োজনীয়তাও ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আনুপাতিক নির্বাচন কতটা যুক্তিসঙ্গত ভাবতে হবে। এটির ইতিবাচক দিক আছে। কিন্তু নেতিবাচক দিকগুলোও ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর হাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সংসদীয় আসন ন্যস্ত হবে। রাজনৈতিক দল আসন্ন বণ্টনের ক্ষেত্রে কতখানি স্বচ্ছতা বজায় রাখবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ প্রত্যাশীরা অর্থ, বিত্ত প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়ে এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে তুলকালাম কাণ্ড বাধিয়ে দেবেন বলেই প্রতীয়মান হয়। এ ক্ষেত্রে জনগণের পছন্দের পরিবর্তে রাজনৈতিক দলের কর্ণধারদের সিদ্ধান্ত একক ভূমিকা পালন করবে। মনোনয়ন এর ক্ষেত্রে তৃণমূলের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের পরিবর্তে হাইব্রিড বা অর্থ বিত্ত, প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী প্রার্থীরা অনেক বেশি সুবিধা পাবে। রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্র পরিপূর্ণ গণতন্ত্রায়নের আগে আনুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থা চালু হলে জাতীয় সংসদে অপ্রত্যাশিত এমপিদের আধিক্য তৈরি হবে এবং সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদে জনগণের ক্ষমতা তাদের প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত না হয়ে রাজনৈতিক দলের হর্তাকর্তাদের হাতে ন্যস্ত হবে। এ ক্ষেত্রে শ্রেণী,-পেশা এবং এলাকাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ব্যাপকভাবে ক্ষুণœœ হতে পারে।
বিচার বিভাগের সংস্কারের ক্ষেত্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে নিজস্ব সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং মাজদার হোসেন মামলার রায়ের স্পিরিট পুরোপুরি নস্যাৎ করে প্রণীত অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, চাকরিচ্যুতি এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন। মূলত এই বিধিমালা প্রণয়ন নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সাথে তদানীন্তন আওয়ামী লীগ সরকারের বৈরিতার সৃষ্টি হয়। এরপর তাকে চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করে বিচারপতি আব্দুল ওহাব মিয়াকে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয় এবং তার আমলে সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রণীত রুলস অনুমোদিত হয়। সেই রুলসে একটি শব্দের ব্যাখ্যার আড়ালে অধঃস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়। সেই শব্দটি হচ্ছে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’। ফরমায়েসি রুলস এ ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’ বলতে ‘আইন মন্ত্রণালয়’কে বুঝাবে বলে উল্লেখ করা হয় এবং এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকাকে এডভাইজরি পর্যায়ে অবনমিত করা হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রিভিউ মামলা ফাইল করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সঠিক ব্যাখ্যা অর্থাৎ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বলতে ‘সুপ্রিম কোর্ট’কে বোঝাবে সন্নিবেশিত করতে পারে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে অভিজ্ঞ লোকদের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠিত হয়েছে। আশা করি তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিমালা এমনভাবে সংস্কার ও পরিমার্জন করবেন যেন সব দলের জন্য সমতল ক্ষেত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আমার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা এই যে, নির্বাচনী ব্যবস্থা থেকে জনপ্রশাসনকে পুরোপুরি দূরে রাখতে হবে। অর্থাৎ এত দিন সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসককে রিটার্নিং অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের যে রেওয়াজ ছিল তা সম্পূর্ণরূপে বাদ দিতে হবে। তার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এসব পদে নিয়োগ দিতে হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা যেতে পারে। সব ধরনের নির্বাচনী আপিল নিষ্পত্তির দায়িত্ব বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের হাতে ন্যস্ত করতে হবে। সর্বোপরি সংসদ নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে।
লেখক : সিনিয়র অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
