ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। বছরে ছয়টি ঋতুর পালাবদলে আসে বাংলার প্রকৃতি। হেমন্ত হলো ষড়ঋতুর চতুর্থ ঋতু যা আশ্বিনের কাশফুলের ঋতু রাণী শরৎ বিদায়ে আসে। এ সময়ে আকাশের হালকা মেঘের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দেখা যায়। নীল আকাশের বুকে ভেসে বেড়ায় পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ। মেঘহীন নীল আকাশে রাতের সময়ে মিটি মিটি আলোয় জ্বলে ওঠে অগণিত তারাগুলো। মেঘমুক্ত রাতে জোসনার আলোয় বেড়ানো যে কী মজা তা গ্রামের রূপ পিয়াসু মানুষ ছাড়া অন্য কেউ অনুভব করতে পায় না। এ সময়ে নদ-নদী,খাল বিল ও পুকুরের পানি কমতে থাকে। গ্রাম বাংলার লোকজন এসব জায়গায় দেশী প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে এবং শহরে বিক্রির জন্য পাঠায়। হালকা কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় হেমন্তের প্রকৃতি। হেমন্তে হালকা শিশির ভেজা ঘাসের ডগা যেন মুক্তার মতন জ্বলজ্বল করে। সবুজ শ্যামল গাছগাছালির নতুন নরম কচি পাতাগুলোর ফাঁকে মিষ্টি রোদ আর সুনীল আকাশ যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। কৃষকের কষ্টশ্রমে বপণ করা আমন ধানের থোড় যেন স্বস্তির পরশে মনকে প্রফুল্লিত করে। বাতাসে বাতাসে ধানের চারার দুলনি কৃষকের মনকে আনন্দে ভরে তোলে। হেমন্তের শুরুতেই খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা প্রস্তুত হয়। খেজুরের রসের গুড় একটি লোভনীয় মুখরোচক খাবার, যা গ্রাম বাংলার লোকজন খাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে থাকে। খেজুরের রসের ক্ষীর, পিঠা, পায়েস খেতে কতোই না মজা। হালকা কুয়াশায় নতুন ধান কাটার হিড়িক পড়ে। কৃষক কৃষাণি নতুন ধান ঘরে তোলার জন্য হাতে কাস্তে নিয়ে মাঠের উদ্দেশ্যে কাকডাকা ভোরে বের হয়। নতুন ধান ঘরে তুলতে পেরে তাদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়। ধান কাটা শেষে কৃষকরা নবান্ন উৎসবের জন্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাক্সক্ষীদের দাওয়াত করেন। আত্মীয়স্বজনের দাওয়াত খেতে নিয়ে আসা মিষ্টির ঘ্রাণে পাড়া যেন মুখরিত হয়। সব আত্মীয়স্বজনের আনন্দ হাসির মিলন মেলায় এ নবান্ন উৎসব পালিত হয়। এ সময়ে প্রকৃতির কোমল ছোঁয়ায় প্রস্ফুটিত হয় শিউলি, ছাতিম, কামিনী, জবা, গোলাপ, রাজ অশোক ও বক ফুল ইত্যাদি। এ সময়ে কিছু কিছু গাছের পাতাও ঝরতে থাকে এবং শীতের আগমনে অধিকাংশ গাছ পাতাশূন্য হয়ে পড়ে। প্রকৃতির বিবর্ণতা এ ঋতুতেই দেখা যায়।