দাদা নানা তর্ক
নজরুল ইসলাম শান্তু
নাক বোঁচালির নাতিরে তোর
নাক ডাকে হাঁক ডাক;
তোর নাকের স্বরে পাগল করে
নাকটা চলে রাত্রি ভরে
শুনলে সবার পায় যে হাসি
নাকটা যেন পাতার বাঁশি
বাঁশির সুরে হয় উতালা
খায় সবে ঘুরপাক;
তোর নাকের স্বরে ঢাকনা পড়ে
তোর দাদা যখন নাকটা ধরে
ঠেকায় মাথার টাক।
সে টাকনা মাথার ঢাকনা উদোম থাকে
সে পাকনা টাকে ঠোঁট ঘষে দাঁড় কাকে।
দাদাটা তোর বড্ড মোটা তাজা,
নিজকে ভাবে শিষ মহলের রাজা।
পেটটা যেন ময়দা পচার আড়ৎ,
পেট কমাতেই আসল ঘুরে ভারত।
তোর কী তাতে (?) উলকুপালের নাতি,
তোর নানায় যেন একটা বিরাট হাতি।
সবার সাথে করে মাতামাতি,
দিন দুপুরে জ্বালায় মোমের বাতি।
তাইতো সবাই হাবলা বলেই ডাকে,
একলা পেলেই মাথায় গোবর মাখে।
হাঁটা চলায় রামগোতালের মতো
প্যাঁচড়া ঘায়ে মলম মাখে যতো।
তারপরে যে অন্যকে খুব বলিস,
তুইতো গেদু নানার তালেই চলিস?
কইচ্যে তোরে (?) যা গোঁচারা থুঁত...
তোর মাথার ভেতর একশ আজব ভূত।
নেইতো শরম, হসনে নরম
তোর নিজের মাথায় পড়বে খড়ম
তোর দাদার মতো আমার নানার
একটুও নেই খুঁত!
তোর দাদায় হলেন একটা হালের বলদ
বুইড়্যা নাডুর মাথায় ভীষণ গলদ।
দেখ গেদু তুই সামলে কথা বলিস!
মুখটাকে তোর সামাল দিয়ে চলিস।
দুই নাতিতে হয় না কথায় কাত
তর্ক করেই পার করে এক রাত।
তারপরেও চলছে ওদের আঁড়ি,
এবার বুঝি ঘটল মারামারি!
এমন সময় শ্যামবাজারের কসাই
ঝগড়া শুনে দু’জনকে চড় বসাই
ধাক্কা দিয়েই অমনি পাঠায় বাড়ি।
পুকুর জলে চাঁদের খেলা
মিনহাজ ফয়সল
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে
বইয়ের পাতায় ডুব
রাত্রি এসে বললো হেসে
ব্যস্ত নাকি খুব?
মন খারাপের গল্প ভুলে
হেসে বলি রাত,
বন্ধু এসো, ঘরে আলো
ধরো আমার হাত।
রাত্রি ডাকে বাইরে এসো
ঘরে আলোয় ভয়
পুকুর জলে রাতের বেলা
চাঁদের খেলা হয়।
বায়না করি ঘরে এসো
রাত্রি করে জিদ
অভিমানে রাত্রি হারায়
আমায় জড়ায় নিদ।
বাঙলার নবান্ন
কাজী ইমাম রত্ন
মুক্তা ঝরায় ভোরের শিশির
দূর্বা ঘাস চূড়ে,
মজার পিঠা খেজুর রস আর
নবান্ন শীতজুড়ে ।
কুসুম শীতে সুখ নিদ্রা
আরাম ছোট্ট কুঁড়ে
উষ্ণতাকে নিয়ে সবাই
থাকে কাঁথা মুড়ে।
মায়ায় রাখি অতিথি পাখি
নীড় বিবাগী দুখে,
শোভা বাড়ে জলাধারে আহার
খুঁজে সুখে।
বাতাস বহে ঢেউ বিলাসী
অরূপ পটের ছবি
ধানের ক্ষেতে রঙ মেখে যায়
অস্তরাঙা রবি।
সজন সভায় মিলন মেলা
ভোজের পরে গান
চাষী ভাইয়ের মুখে হাসি
কাটে সোনার ধান।
সূর্য মেঘের আড়ে
রেজা কারিম
সূর্য গেছে মেঘের আড়ে
রোদ নিয়েছে ছুটি
মেঘের গুড়ুম গুড়ুম ডাকে
সবার ছুটোছুটি।
কেউ ছুটেছে ধানের ক্ষেতে
কেউবা নদীর ঘাটে
ভর দুপুরে সূর্যটা কি
নামলো তবে পাটে।
ধান শুকানো হয়নি আজও
কালও ছিল সাঁঝ
বউ-ঝিরা তাই ব্যস্ত ভীষণ
কাজের পরে কাজ।
তীব্র রোদের পরে এবার
কঠিন কালো মেঘ
উড়ছে ধুলো শুকনো পাতা
বাযুর তুমুল বেগ।
কিশোরেরা বৃষ্টি এলে
খাবে লুটোপুটি
বলছে সবাই, চল সকলে
মাঠের পানে ছুটি।
মেঘের ডাকে বজ্রপাতে
ভয় পেয়ে দেয় ছুট
দৃশ্যগুলো হচ্ছে জানি
ধীরে ধীরে লুট।
হেমন্তের হাসি
বিল্লাল মাহমুদ মানিক
হেমন্তকাল এলে দেশে
হাসে সোনার ধান,
সেই হাসিতে হেসে ওঠে
চাষা-চাষির প্রাণ।
ধান মাড়াইয়ের শেষে হাসে
নতুন চালের পিঠা,
মায়ের হাতে তৈরি খাবার
সবচেয়ে হয় মিঠা।
হালকা শীতল বায়ুর হাসি
ঠাণ্ডা নামায় দেশে,
ফসল মাঠে নজর কাড়ে
রবিশস্য হেসে।
রাত্রি-ভোরে শিশির ঝরে
দেয় ভিজিয়ে ঘাস,
নবান্ন উৎসবের হাসি
রাঙায় চারিপাশ।
মাকে ছেড়ে
কাউসার সাদী
ফুলের কথা লিখতে গিয়ে
মায়ের কথা লিখি
দেশের ছবি আঁকতে গিয়ে
মায়ের ছবি আঁকি।
মায়ের কথা মনে হলে
ভাল্লাগে না পড়া
বিস্বাদ লাগে মণ্ডামিঠাই
ভাল্লাগে না ছড়া।
মায়ের লাগি মনটা আমার
কেমন কেমন করে
মা’কে ছেড়ে ছোট্ট আমি
থাকি কত দূরে।
