বিজয় সুখে
নূর মোহাম্মদ

স্বাধীনতার যুদ্ধপটে, লাখ শহীদের রক্ততটে
পাখিদেরও মৃত্যু ঘটে, যুদ্ধ স্মৃতির দুঃখ ওঠে
তাই তো আমার কান্না আসে
সত্যি কথা গল্প না;
শাপলা বকের বিল সন্ধিতে, পানকৌড়িদের ডুব ঢঙ্গিতে
মাছরাঙ্গাদের ভাব ভঙ্গিতে, দোয়েল পাখির গান সঙ্গীতে
বিজয় সুখের চিহ্ন ভাসে
সত্যিকথা অল্প না।

বুলেট বোমার বজ্র ঝড়ে, মানুষ পশু বৃক্ষ মরে
যুদ্ধরাতের অন্ধকারে, রক্তপাতের গন্ধ বাড়ে
কখনো বা চাঁদনি রাতে
ভাসায় বেশি চোখের জল;
কালো রাত্রি পণ্ডু করে, পল্লিবালার অশ্রু ঝরে
মুক্তো হয়ে শিশির গড়ে, আমার দেশের ঘাসের তরে
সূর্যি মামা রক্ত মেখে
বিলায় বিজয় সুখের ঢল।

মুক্ত বায়ু বইছিল না, পালতোলা নাও চলছিল না
সবুজ সুখের ঢেউ ছিল না, খোকার ঘুড়ি উড়ছিল না
ছিল শুধু শহীদ মিছিল
লড়ছে বেশি বীর জোয়ান;
স্বাধীন হাওয়ায় হৃদয় জুড়াই, লাল সবুজের নিশান উড়াই
পরাধীনের শিকল পুড়াই, বিজয় সুখে সাহস কুড়াই
জান দেবো তো মান দেবো না
আসুক যত ঝড় তুফান।

 

 

 

ইচ্ছে ডানায় স্বাধীনতায়
আলমগীর কবির

রোজ দু’টি হাত মেলে দিয়ে ভাবি আমার ডানা,
মাঠ প্রান্তর বনভূমি আমারই ঠিকানা।
বনের কাছে নদীর কাছে ছুটে যেতে যেতে
মন ভরে যায় সবুজ গাঁয়ের আদর পেতে পেতে।

খোলা আকাশ চিঠি লিখে সবুজ মাঠের কাছে,
মাঠ বলে যায় আমার কাছে স্বাধীনতা আছে।

বাঁকের পরে বাঁক পেরিয়ে বইছে নদী প্রিয়,
নদী বলে সুখে দুখে খবর আমার নিও।
তিতির ডাহুক জলপিপিদের সাথে আছে জানা,
রোজ দুটি হাত মেলে দিয়ে ভাবি আমার ডানা!

আমার ডানায় ঝলমলে রোদ খেলা করে হেসে,
ফুলের সুবাস নিয়ে আসে চপল হাওয়া ভেসে।
ইচ্ছে ডানায় স্বাধীনতায় উড়তে উড়তে উড়তে,
স্বপ্ন আকাশ যাই ছুঁয়ে যাই ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে।

 

 

শীতবুড়ি
এম আবু বকর সিদ্দিক

শীত বুড়ি
দিয়ে তুড়ি
এলো হিম বাতাসে
সূর্যটা
মন মরা
দেখ ওই আকাশে।
দাদু ভাই
পরা চাই
জুতো মোজা জাম্পার
শীতবুড়ি
অভিমানে
পুড়ে হবে ছারখার।

 

 


হেমন্ত
সাদমান হাফিজ শুভ

শিশির-নাওয়া শীতল হাওয়া
উথালপাথাল মন,
মিষ্টি আমেজ গাঁয়ে-গাঁয়ে
খুশির নিমন্ত্রণ।

মাঠে-মাঠে স্বপ্ন দোলে
বাবুই পাখির গান,
কাস্তে হাতে কৃষক ছোটে
কণ্ঠে কলতান।

উঠোন মাঝে মিষ্টি রোদে
পিঠেপুলির ধুম,
মিষ্টি ঘ্রাণে পুলক মনে
নিখোঁজ কচির ঘুম।

শিশিরভেজা দূর্বা বনে
ঘাসফড়িংরা নায়,
হাঁটি-হাঁটি শীতল পাটি
চুম দিয়ে যায় পায়।

ব্যস্ত গাছি সাত সকালে
রসের হাঁড়ি ওই,
মিঠা! মিঠা! সয় না যে তর
উতল হয়ে রই।

 

 


শীতের কাকুতি
মো: মাইন উদ্দিন মাহমুদ

শীত এলো তাই
রস খাবো ভাই
খেজুর গাছটা কাটোনা!
রস দিয়ে মা
বানবে পিঠা
একা একা খাবো না।

বলো না ভাই
শুনতে যে চাই
রসের হাঁড়ি বাঁধব না!
মন যে আমার
জানতে যে চাই
রস কি ভাগে জুটবে না?

 

 

সূর্যি মামা
হাফিজ মুহাম্মদ

সূর্যি মামা এবার শোনো
একটু ধরো হাল
রাগ করেছে শীতের বুড়ি
তাইতো বেসামাল।

পাড়াগাঁয়ে খোকন সোনার
নেইকো শীতের জামা
কনকনে শীত তাড়াও তুমি
ওগো সূর্যি মামা?

গরিব দুঃখীর সঙ্গী হবে
ছড়িয়ে আলো তেজ
শীতের বুড়ি হুমড়ি খেয়ে
গুটিয়ে নিবে লেজ।

দুষ্টু খোকন শীত সকালে
থাকবে না আর টাল
ভোর বিহানে উঠবে আবার
আকাশ করে লাল।