কার ইশারায়
সৈয়দ মাশহুদুল হক

খোকন সোনা ভাবছে বসে
আকাশপানে চেয়ে
সাদা সাদা মেঘের চাদর
কে রাখছে বিছিয়ে?

কার ইশারায় চন্দ্র তারা
শুধুই ভাসে রাতে
আঁধার টুটে কেমন করে
সূর্য উঠলে প্রাতে?

কার হুকুমে বাতাস বহে
কে নাড়ে সেই পাখা
বনে বনে ফুল ফুটায় কে
ফল দেয় কে পাকা?

বীজ বুনলে চারা গজায়
তাতেই ফসল ফলে
কার হুকুমে ঘটে এমন
কিসের শক্তি-বলে?

মায়ের কথায় খোকা বুঝে
কে ঘটায় এসব
তিনিই হলেন সৃষ্টিকর্তা
মাবুদ আল্লাহ-রব।

ফুটবল খেলা
পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী

বিশ্ব কাঁপিয়ে ফুটবল শুরু
বাজল খেলার বাঁশি
শিশু-কিশোরেরা সুর তুলে বলে
ফুটবল ভালোবাসি।

তারা তো এখন ¯œান-ঘুম ছেড়ে
খেলায় দিয়েছে মন
তাদের মাথায় ফুটবল ছড়া
করতেছে ভন ভন।

আজ তাই আমি খাতা ও কলমে
তাদের জন্য লেখি
পড়া, খাওয়া, ঘুম ঠিক রেখে যেন
ফুটবল খেলা দেখি।


বিশ্বকাপ জ্বর
তুফান মাজহার খান

বিশ্বকাপের জ্বরে দেখ
কাঁপছে পুরো বিশ্ব,
ছোট-বড়, গরিব-ধনী
আছেন গুরু-শিষ্য।

জমবে খেলা মাঠের পরে
উঠবে সবাই মেতে,
আলাপ হবে বিশ্বকাপের
রাস্তায় যেতে যেতে।

চায়ের স্টলে, শপিংমলে
সব স্থানেই এক তর্ক,
বিশ্বকাপে কে কার আগে
এই নিয়ে বিতর্ক।

যে যাই বলুক, যে যাই করুক
দিন শেষে সব এক যে,
বিশ্বকাপের ঘোরে এখন
টুকরো টুকরো মেঘ যে।

বাবার গান
রুহুল আমিন রাকিব

বাবা মানে একটি হাসি
এগিয়ে চলার বল,
আমার মুখে দেখতে হাসি
খুঁজে মিছে ছল।
বাবা মানে পুরান জামায়
কয়েক বছর পার,
আমার জন্য সুখ খুঁজিতে
জীর্ণ শরীর হাড়।
বাবা মানে স্নেহের পরশ
আমার মাথার ঢাল,
স্বপ্ন দেখার প্রথম মানুষ
তিল থেকে হয় তাল।
বাবা মানে রাতের আকাশ
আমি হলাম চান,
সার্থক হলো জন্ম আমার
লেখে বাবার গান।

বৃষ্টির গান
সালাম হাসেমী

ঝম ঝমা ঝম বৃষ্টি ঝরে
সারা দেশে মাটির পড়ে
বিশাল বনের বুকটি জুড়ে
পাতার বুকে ছন্দ সুরে
কী যে মধুর বাদল ঝরার তান।
নদীর জলে ঢেউয়ের বুকে
বৃষ্টি ঝরে মনের সুখে
টিনের চালে শব্দ করে
মিষ্টি মধুর বৃষ্টি ঝরে
শুনায় যেন ঝনঝনিয়ে বৃষ্টি পড়ার গান।


বৃষ্টি এলো
শরীফ সাথী

গরম দিনে বৃষ্টি এলো
অবাক চাওয়ার দৃষ্টি এলো
স্বস্তি এলো মিষ্টি এলো
হীমশীতলের ভেলা নিয়ে
এলো খুশির হাওয়া,
ঘর-বারান্দায় বসে বসে
আনন্দে গান গাওয়া।

এই প্রকৃতির ছবি এঁকে
বন্ধুবান্ধব সবাইরে ডেকে
মুরব্বিদের কাছে থেকে
দৈত্য-দানব ভূত-পরীদের
গল্পগুজব শোনা,
অবাক মনে নিরিখ হয়ে
বৃষ্টি ফোঁটা গোনা।