আজ তোমরা জানবে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নেয়া একটি পার্ক সম্পর্কে। এর নাম প্লিটভিস লেক ন্যাশনাল পার্ক। হঠাৎ দেখে মোহিত হয়ে যাওয়া জলপ্রপাতও রয়েছে পার্কটিতে। আরো রয়েছে নানা ধরনের পশুপাখি, গাছপালা ইত্যাদি। আর এ কারণেই প্লিটভিস লেক ন্যাশনাল পার্কটি বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পেয়েছে।
প্লিটভিস আসলে ১৬টি লেকের সমন্বয়। জলপ্রপাত থাকায় এখানে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১৬টি আলাদা হ্রদ। শুনলে অবাক হবে, এতে নেই কোনো কৃত্রিমতার ছোঁয়া। লেকগুলোর সৃষ্টি হয়েছে শত শত বছর ধরে চুনাপাথরে গড়ে ওঠা বাঁধের কারণে। চুনাপাথর রয়েছে বলে এখানে চকও আছে।
জলপ্রপাতগুলোকে অনেক সুন্দর দেখার কারণ আছে। বেশ কিছু স্থানে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে চুনাপাথর ও চকের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির কারণে। এসবের মধ্যে সবার চেয়ে উঁচু জলপ্রপাতটির নাম ভেলিকি স্ল্যাপ। আর লেকগুলো দিনারিক আলপসের অংশ। লেকগুলোর চার পাশে রয়েছে তিনটি পার্ক। এগুলো হচ্ছে মালা কাপেলা, প্লেসোভিকা ও মেদভেদেক। আর সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত ভেলিকি স্ল্যাপ প্রায় ২৩০ মিটার উঁচু।
প্রাকৃতিক রঙের ছড়াছড়ি হচ্ছে এখানকার আরেক অন্যতম বৈশিষ্ট্য। লেকের পানি নীল, ফিরোজা ও সবুজ রঙের। তার মানে তিন রঙের। নানা সময় নানা রঙ ধারণ করার কারণ আছে। বিচিত্র এসব রঙ তৈরি হয় অণুজীব ও খলিজের ওপর সূর্যের আলোর প্রতিফলনে। এসব ছাড়াও চোখে পড়বে নানা ধরনের পশু। এগুলো হচ্ছে বাদামি ভালুক, বুনো নেকড়ে, বুনো বিড়াল, হরিণ, শিয়াল, ক্যাপারসিয়ালি ইত্যাদি। পাখিদের মধ্যে আছে ঈগল, পেঁচা, লিক্সন ইত্যাদি।
প্রায় ১২০ প্রজাতির পাখির আশ্রয়স্থল রয়েছে এই প্লিটভিস জলপ্রপাতটিকে ঘিরে। এর নানা বৈচিত্র্যই এসব প্রাণীকে কাছে টানে। এবার শোনো এর জন্মবৃত্তান্ত। এটি গড়ে ওঠে ১৯৪৯ সালে। আর তা বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায় ১৯৭৯ সালে। পার্কটির অবস্থান ক্রোয়েশিয়ার বসনিয়া-হারজেগোভিনা সীমান্তে। এর প্রায় ৯০ শতাংশ পড়েছে লিকাসেনজ কান্ট্রিতে। আর বাকি ১০ শতাংশ স্থান পায় কারলোভাক কান্ট্রি নামক স্থানে। পার্ক অঞ্চলে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায় ৮১.০৪ শতাংশ। জানুয়ারিতে গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ০২.০২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্ককালে তা বেড়ে হয় প্রায় ১৭.০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ অঞ্চলের আরেকটি বৈচিত্র্য হলো এখানে বরফও পড়ে। তা দেখা যায় ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে। তখন ঠাণ্ডায় বরফে পরিণত হয় এর পানি। এসব অপার সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকদের ভিড় বেশ লক্ষণীয়। জলপ্রপাত আর লেকের সৌন্দর্য দেখে মোহিত হন তারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকলেও মনে হবে আরো কিছুক্ষণ থেকে যাই এখানে। তবে কিছু হিংস্র বন্যপ্রাণী আছে বলে তাদের কিছুটা হিসাব করে চলতে হয়। হয়তো কিছুটা ঝুঁকি থাকার কারণে পার্ক কর্তৃপক্ষ লেকের পানিতে সাঁতার কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তার পরও ক্রমেই এটি দেখতে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। তবে কর্তৃপক্ষ দেখছে পার্কটির যাতে কোনো ধরনের ক্ষতিসাধন না হয়। কেননা পার্কটি বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক নিদর্শন।