মানব প্রকৃতির মাঝে সৃজনের সুর বহমান থাকে। মৌলিক চাহিদার পরও মানুষের ভেতরে তাই গুঞ্জরিত হয় সৃষ্টির তাড়না। মানুষ জীবসত্তা সর্বস্ব নয়; ভাব, চিন্তা, স্বপ্ন, কল্পনা, অনুভূতি, আবেগ ও বিকাশের ধারায় সে মানবসত্তা অর্জন করে একটা সোপানের মাধ্যমে। এই সোপান হলো শিল্প ও সাহিত্য। সেজন্য সে পৃথিবীর আদিকাল থেকে চিত্র আঁকে, কাপড়ে নকশা তোলে, পোড়ামাটির বাসনে কারুকাজ করে, মুখে মুখে ছড়া কাটে, মনের সুখে বা দুখে সুর ধরে গান গায়। এভাবে মানবসভ্যতার সঙ্গে সঙ্গে শিল্প-সাহিত্যের প্রবাহ এগিয়ে যায় সৃষ্টির আনন্দে। এই সৃজনধারা শুধু যে আনন্দ ও সৌন্দর্য দান করে তা নয়; জীবন ও জগতকে নতুন আলো দেখায়, শুভবোধে উদীপ্ত করে, কল্যাণব্রতে প্রেরণা জোগায়, প্রাণ জাগাতে ও সমাজ বিনির্মাণে উদ্দীপকের ভূমিকা পালন করে। এককথায় জীবনের জন্য নান্দনিকতা ও দায়বদ্ধতা সৃষ্টিতে তা অনন্য।
আমরা যে জীবনযাপন করি তা নিয়েই শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি। ধরা যাক জয়নুল আবেদিনের ছবি; বিশেষভাবে দুর্ভিক্ষের ছবি; একদিকে শিল্পকর্ম, অন্যদিকে অমানবিকতা ও মানবিক বিপর্যয়ের অবস্থার উপস্থাপন; শেষ পর্যন্ত মানবিক উদ্বোধনে উজ্জ্বল। একইভাবে এস এম সুলতানের শিল্পকর্ম আবহমান বাংলার জনজীবন ও লোকসংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেছে জোরালোভাবে। পশ্চিমের শেকড়হীন সংস্কৃতির বিপরীতে প্রাচ্যেও মাটিলগ্ন ঐতিহ্যেও দায়বদ্ধতার রঙরেখা ও রূপের উপস্থিতি। কামরুল হাসানও শিল্পকে একান্ত নিজস্ব দৃষ্টিতে দেখেছেন। এই দেখা দুই ধরনের : নান্দনিক ও দার্শনিক। পশ্চিমের ধার করা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলাদা হয়ে যান জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান ও এস এম সুলতান।
সুলতান স্বতন্ত্র দৃষ্টি অর্জন করেন আপন চোখে নিজস্ব স্থানিক বাস্তবতাকে কল্পনা, ইচ্ছা ও স্বপ্নের রঙ মিশ্রণ করে। সুলতানের ছবিতে দেখা যায় বিশাল ক্যানভাসে কৃষকের উপস্থিতি: কর্ষণের দৃশ্য, বীজবোনা-রোদে পুড়ে ধান রোপণ, নিড়ানি দেয়া, ফসলকাটা, গরুর গাড়িতে বা মাথায় করে ফসল নিয়ে বাড়িফেরা, গরুর মাড়াই ও ঝাড়া, ঢেঁকিতে ধান ভানা ইত্যাদি বাস্তব কর্মযজ্ঞের দৃশ্যকল্প। এই কিষানের সঙ্গে কিষানীর সার্বক্ষণিক উপস্থিতিতে সম্মিলিত আবাদ-মেহনত-কর্মকৌশল। জমিন ও নারী একই সঙ্গে বিরাজমান; কারণ-শস্য ও সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্র যথাক্রমে জমিন ও নারী। আর কিষান-কিষানীর স্বাস্থ্য পেশিবহুল এবং ভঙ্গি ঋজু-দৃঢ়-কর্মঠ। এ ধরনের শারীরিক ধরন তার কাম্য, তিনি স্বপ্ন দেখেন এই রকম; সঙ্গে প্রেরণা জুগিয়েছে অতীতের কৃষি সমৃদ্ধি ও ইতিহাস। কোনো কমনীয়-নমনীয় সুন্দরের রঙরেখা ও ভঙ্গির আশ্রয় নেননি শিল্পী। একই সঙ্গে নদীতে-খালে-বিলে লোকযন্ত্রের সাহায্যে মাছধরা, কামারের কৃষিযন্ত্র তৈরি করা, কুমারের মাটির পাত্র-বাসন-হাঁড়িপাতিল বানানো ইত্যাদি গ্রামজীবনের নানা উপকরণ নির্মাণের ছবি তিনি আঁকেন অত্যন্ত কাছে থেকে। গ্রাম বাংলার শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামী জীবনের উপস্থিতি ও কাক্সিক্ষত দৃশ্যকল্প সুলতানের কাজের প্রধান দিক। এখানে আছে একদিকে ঐতিহ্যে রূপায়ণ, সরলতা, সজীবতা ও সচলতা; অন্যদিকে মূর্ত রূপের প্রাধান্যÑ এসব বৈশিষ্ট্য পশ্চিমের শিল্পকলায় নেই; সেখানে আছে শেকড়ছিন্ন, জটিল ও বিমূর্ত ধারা। সুলতান তাই গ্রাম বাংলার সরল নায়ক, যে সংগ্রামী জনতার জীবন-জীবিকার এবং ঐতিহ্যিক সংস্কৃতির রূপায়ণ ঘটিয়েছেন রঙরেখার সাহায্যে তা একান্ত বঙ্গীয় ও এশীয়। এভাবে সৃজনের প্রেরণায় চিত্রকলায় জীবনের দায় গ্রন্থিত হয়ে যায়। নন্দন ও মানিবক দায় একই সূত্রে কার্যকর হতে থাকে। তবে সব শিল্পীর কাজ সম্পর্কে একথা প্রযোজ্য নয়। শিল্পের জন্য শিল্প তত্ত্বও এক সময় চর্চা হয়েছে। এখন জীবনের জন্য শিল্প। যে শিল্প জীবনকে সাজাতে ও জাগাতে মুখ্য উপায় হিসেবে কাজ করে থাকে।
শিল্পের জগতে সঙ্গীতের ভূমিকা তুলনাহীন। গান যেভাবে মানুষকে আলোড়িত করে অন্য কোনো মাধ্যমে সেভাবে সম্ভব নয়। অন্য কোনো ভাষার গানের কথা বাদ দিয়ে যদি শুধু বাংলা গানের কথাই ধরি তাহলে তাও এক বিশাল ভূমিকায় উজ্জ্বল। আমাদের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, নিজস্ব জলবায়ু, পদ্মা-মেঘনা-যমুনার পলিময় ধারা, ঋতুবৈচিত্র্য ও ফসলের সৌরভ আমাদেরকে কথা ও সুরের মূর্ছনায় আবুলব্যাকুল করে তোলে। মাঠে, বটের ছায়ায়, মেঠোপথে, নদী-বিল-হাওড়-সাগরের জলতরঙ্গে সৃজনমুখর মানুষের কণ্ঠে আপনা আপনি জাগ্রত হয় গানের বাণী। এই বাণী যখন সুরের তালে লয়ে শ্রোতার কানে পৌঁছে যায় তখন অন্য এক অনুভব ও ভাবনা ডানা মেলে ধরে। জনমনে ও জনসমাজে কখনো কখনো গান হয়ে ওঠে প্রবল প্রভাবসঞ্চারী। মন ও মননকে করে তোলে মুগ্ধ, মোহিত ও প্রশান্ত; আবার অনেক সময় অশান্ত, জাগ্রত ও সহসা সচকিত। বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি, জারি-সারি, লোকগান, পঞ্চকবির গান, গজল বা আধুনিক গান বাংলার আপামর জনসাধারণকে তৃপ্ত করে আসছে আজ পর্যন্ত। ভাববাদী বা রোমান্টিক গান অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও মানবতাবাদী গানগুলোই বেশি বাংলার জনমনে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। বিবিসি বাংলা শ্রোতা জরিপে ভূপেন হাজারিকার ‘মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য/ একটু সহানুভূতি কী পেতে পারে না’ গানটি বাংলা গানের মধ্যে সেরা গান হিসেবে মনোনিত হয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণসঙ্গীত ও গণজাগরণের গান অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। মানে জনচিত্ত ও জনসমাজের প্রাণপ্রবাহে গান হয়ে ওঠে উদ্দীপকের মতো প্রভাবসঞ্চারী এক শক্তিশালী মাধ্যম। ফলে জীবনের প্রতি দায় রেখেই জীবনের জন্য নির্মিত হয় মানবিক ও মাঙ্গলিক সুরেলা জগৎ।
মানব সভ্যতার সমান বয়সী হিসেবে সাহিত্য বিরাজমান। লেখকের মনের ও মননের উৎসারণ সাহিত্য আকারে সৃজিত হয়। জীবন ও জগতের প্রতি লেখকের দৃষ্টি ও অভিজ্ঞতা থেকে একটা নির্মাণশৈলীতে সৃষ্টি হয় সাহিত্য। জীবনের জন্য যা হয়ে ওঠে নান্দনিক ও মানবিক উপাদান। বহু শতাব্দী কেবল মৌখিক সাহিত্য হিসেবেই সমাজে প্রচলন থেকেছে; এখনো অনেক জাতির নিজস্ব লিপি নেই। তারা মুখে মুখেই রচনা করে মৌখিক সাহিত্য। লিখিত সাহিত্য প্রচলনের পর আধুনিককালে মুদ্রিত হয়ে বই আকারে পাঠকের হাতে যখন আসতে থাকে, তখন সেটা একটা বিশাল বাঁক ও বিপ্লব সংঘটিত হয়।
ব্রিটিশ উপনিবেশকালে বালা সাহিত্য একটা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের জনগণ ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্ত হতে দু’বার স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করে। উপনিবেশের জাল থেকে ছিন্ন হতে প্রয়োজন স্বাধীন, মুক্ত ও দ্রোহী মনোভাব। এসব গুণ অধিকাংশ লেখকের না থাকার ফলে স্বাধীন বা উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য সৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক লেখককে অগ্রসর হতে দেখা যায়। আত্মপরিচয়ে সমৃদ্ধ, ঔপনিবেশিক প্রভাবমুক্ত, সেই শক্তির সংঘাতে দ্রোহী, স্বাধীনচেতা সাহিত্যকেই উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পশ্চিমের বিপুল প্রভাব সত্ত্বেও বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ দাশ অনেকটাই এই ধারার সৃষ্টিতে যতœবান শিল্পী। তবে পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন সাহিত্যসৃজনে সাফল্য দেখান কাজী নজরুল ইসলাম ও জসীমউদ্দীন। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনোত্তর কালে এই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যান স্বদেশ ও ঐতিহ্যবাদী সাহিত্যিকরা। স্বাধীন বাংলাদেশের সাহিত্য স্বাধীন, স্বকীয় ও আত্মপরিচয় সহকারে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে। আয়ারল্যান্ডকে ডব্লিউ বি ইয়েটস, আমেরিকাকে হুইটম্যান, রাশিয়াকে মাক্সিম গোর্কী, তুরস্ককে নাজিম হিকমত, নাইজেরিয়াকে চিনোয়া আচেবে, মিসরকে নাগিব মাহফুজ, ফিলিস্তিনকে মাহমুদ দারবিশ যেভাবে রিপ্রেজেন্ট বা প্রতিনিধিত্ব করে শিল্পচেতনায় ও জীবনস্পন্দনে; আমরাও চাই এ দেশের সাহিত্যিকরা পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।
প্রত্যেকটি সাহিত্যান্দোলন, সাহিত্যাদর্শ, নতুন মতবাদের জন্ম হয় সেই দেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির রূপান্তরের ভিত্তিতে। তার উপযোগিতা নির্ভর করে সে দেশের বিরাজমান সমাজ ও সাহিত্যের প্রেক্ষিত বিবেচনা করে।
বাংলাদেশ বা প্রাচ্যকে দেখতে হবে নিজস্ব দৃষ্টিতে; মতবাদের চশমায় নয়। গন্তব্যে যাওয়ার পথ সহজ ও সরল নয় বরং বঙ্কিম ও কাঁটাযুক্ত। এই ধারাকে আরো সৃষ্টিশীল করার জন্য প্রয়োজন নিজেকে জানা-বোঝা, নিজের ইতিহাস, সমাজ-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য, মানুষÑপ্রকৃতি সম্পর্কে খোলা চোখে-মনে দেখা-শোনা ও উপলব্ধি। সেই বাস্তব জীবনাভিজ্ঞতার আলোকে আবহমান ঐতিহ্যের শেকড়ের সূত্রে নিজস্ব সাহিত্যের গন্তব্য বাংলাদেশের প্রাণের স্পন্দনে। সুদূর গন্তব্যের পথ অজানা, অচেনা নয়; এই পথে দৃঢ় মাইলস্টোন ও ল্যাম্পপোস্টের সারি দাঁড়িয়ে আছেÑ রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’, ‘ডাকঘর’, ‘অচলায়তন’, ‘কালান্তর’; নজরুলের ‘অগ্নিবীণা’, ‘সাম্যবাদী’, ‘মৃত্যুক্ষুধা’, ‘যুগবাণী’; জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’; মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’ ও ‘অপরাজিত’; তারাশঙ্করের ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’ ও ‘কবি’; অদৈত মল্লবর্মণের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’; জসীম উদ্দীনের ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’, ‘সোজনবাদীয়ার ঘাট’; আহসান হাবীবের ‘দু’হাতে দুই আদিম পাথর’; ফররুখ আহমদের ‘মুহূর্তের কবিতা’, শামসুর রাহমানের ‘বন্দী শিবির থেকে’, ‘নিজ বাসভূমে’; সৈয়দ শামসুল হকের ‘পরাণের গহীন ভিতর’, ‘নুরুলদীনের সারাজীবন’; আল মাহমুদের ‘সোনালি কাবিন’, ‘উড়াল কাব্য’, ‘দ্বিতীয় ভাঙন’; হাসান হাফিজুর রহমানের ‘বিমুখ প্রান্তর’; মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’; হুমায়ুন কবিরের ‘নদী ও নারী’; সত্যেন সেনের ‘বিদ্রোহী কৈবর্ত’; শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’; আবু ইসাহাকের ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’; জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’; শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সারেঙ বৌ’ ও ‘সংসপ্তক’; আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল রোটি আওরাত’; আহমদ ছফার ‘ওঙ্কার’ ও ‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ’; আসকার ইবনে শাইখের ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘অনেক তারার হাতছানি’; ‘মমতাজ উদদীন আহমদের ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’; সেলিম আল দীনের ‘কিত্তনখোলা’, ‘হাত হদাই’, ‘বনপাংশুল’, ওমর আলীর ‘এদেশে শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি’; ফরহাদ মযহারের ‘খোকন ও তার প্রতিপুরুষ’ ও ‘এবাদতনামা’; আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ‘বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা’, শাহেদ আলীর ‘জিবরাইলের ডানা’ ইত্যাদি। এই সব মাইলস্টোন তথাকথিত বৈশ্বিক আধুনিকতার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে আমাদের নিজস্ব আধুনিকতা বা লোকজ আধুনিকতা। এই আধুনিকতাই আমাদের সাহিত্যে নির্মাণ করবে একদিকে নিজস্ব ঘরানার সাহিত্য অন্যদিকে ঐতিহ্যবাদী ও জনজীবনকেন্দ্রিক মানবিক সাহিত্য।
বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয় লোকসংস্কৃতির মাঝে বিরাজমান। উপনিবেশকালে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে লোকঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি। সেজন্য আমাদের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ধারার পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। এই নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সৃজিত হবে আত্মপরিচয়সমৃদ্ধ সৃষ্টিসম্ভার এবং মানবিক ভাবাদর্শে উজ্জীবিত চেতনাপ্রবাহ। হ