১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে যেসব ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটেছে তার মধ্যে চারুকলা অন্যতম। দরিদ্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ উন্নয়নকে বলা যায় মহাউন্নয়ন। অভাবনীয় উন্নয়ন। এ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এ দুই রাষ্ট্রনায়কের অবদান ছাড়া এ উন্নয়ন সম্ভব হতো না। জাতির পিতা, রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনকে শ্রদ্ধা করতেন। চারুকলার উন্নয়নে শিল্পাচার্যকে উৎসাহ দিতেন। যার ফলে দরিদ্র বাংলাদেশে চারুকলার উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। আরেক মহান নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান চারুকলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের সাথে যাতে এশিয়ার দেশগুলোর শিল্পীদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয় সে জন্য তিনি এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন। ১৯৮১ সালে তিনি প্রথম এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছিলেন। এরপর নিয়মিত প্রদর্শনী চলতে থাকে। তবে এই প্রদর্শনী কেন্দ্র করে যাতে এশিয়ার শিল্পী এবং শিল্পরসিকদের মিলনমেলার মাধ্যমে শিল্পীদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং শিল্পীদের শিল্পচর্চার কৌশল সরাসরি সবাই প্রত্যক্ষ করতে পারেন সে উদ্দেশ্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী আবুল খায়ের লিটু এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের নিয়ে চারুশিল্পের কর্মশালার আয়োজন করেন। এই আয়োজন শিল্পীদের ব্যাপক উৎসাহ দান করে। এমন এক ওয়ার্কশপ বা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় ২০০২ সালের জানুয়ারিতে। দশম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ১৭টি দেশের শিল্পীরা এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। দেশগুলো হলোÑ বাংলাদেশ, বাহরাইন, ডেনমার্ক, মিসর, ভারত, ইরান, জাপান, কিরগিজস্তান, লেবানন, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, রাশিয়ান ফেডারেশন, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, ইউএই, ইয়েমেন। অর্থাৎ বাংলাদেশসহ ১৮টি দেশের শিল্পীরা বিশাল এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। এই ১৮টি দেশের শিল্পীর সংখ্যা ৭৮। ঢাকার অদূরে রাজেন্দ্রপুরের ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজন করা হয়েছিল এই কর্মশালা। অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর পরিবেশে শিল্পীরা শিল্পচর্চার স্মরণীয় সুযোগ লাভ করেছিলেন। অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় শিল্পীরা শিল্পকর্ম করেছেন। ভারতের বিখ্যাত শিল্পী অর্পনা কাউর এই কর্মশালায় যোগ দেয়ার জন্য পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য তার একক প্রদর্শনী বাতিল করেছিলেন। তিনি মনে করেছেন, তার একক প্রদর্শনীর চেয়ে ঢাকার কর্মশালায় অংশগ্রহণ করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পী অর্পনা কাউর রাজেন্দ্রপুরের কর্মশালায় অসংখ্য এশীয় শিল্পীর সাথে কাজ করার সুযোগকে বড় পাওয়া মনে করেছেন। অর্পনা কাউর একজন জাতীয়তাবাদী শিল্পী। তিনি নিজের দেশ ভারত এবং ভারতের সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে শিল্পকর্ম করে থাকেন। তিনি তার সেই ধারাকে স্মরণে রেখেই রাজেন্দ্রপুর কর্মশালায় বাউল বিষয়ে চিত্র নির্মাণ করেছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, প্রত্যেক শিল্পীর কর্তব্য তাদের দেশের অতীত ঐতিহ্যকে অনুসরণের মাধ্যমে নিজের পরিচয় বা আইডেনটিটি গড়ে তোলা। আমি সবসময় আমাদের সংস্কৃতি থেকে শিল্পের কর্মকে গ্রহণ করি এবং আমার চিন্তাভাবনাকে প্রকাশ করি আমার শিল্পের মাধ্যমে। আমার সৃষ্ট শিল্পকর্ম সম্পর্কে আমি সবসময় সচেতন থাকি, যাতে দর্শকেরা আমার শিল্পকর্ম দর্শনের মাধ্যমে অনুভব করেন যে, আমি একজন ভারতীয় এবং আমার শিল্প ভারতীয় শিল্প (ঈড়হঃৎসঢ়ড়ৎধৎু ধরংধহ ধৎঃ ড়িৎশংযড়ঢ় ২০০২ চ. ২২, ২৩).
পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে লক্ষ করা গেছে, বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তাদের অঞ্চল, পরিবেশ এবং প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে। ফলে একেক অঞ্চলের সংস্কৃতি হয়েছে একেক রকম। যেমন শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষদের সাথে গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষদের আচার-আচরণ, খাদ্য, বাসস্থান, পোশাকসহ নানা বিষয়ে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে শীতের প্রকোপ প্রচণ্ড রকমের, যেসব অঞ্চল বরফে থাকে ঢাকা, সেসব অঞ্চলের মানুষ প্রায় সবসময়ই মোটা গরম কাপড়ে নিজেদের ঢেকে রাখে। গাছপালা এবং ভূমির ওপরে বরফ পাতের ফলে সেগুলো সাদা ধবধবে রূপ ধারণ করে। এ সব অঞ্চলের শিল্পীদের চিত্রে তাদের নিজস্ব এই দৃশ্যগুলোই উঠে আসে। ফলে শিল্পীর চিত্র দর্শনে বুঝতে অসুবিধা হয় না সেসব চিত্র কোন অঞ্চলের এবং সেসব অঞ্চলের মানুষদের পোশাকইবা কেমন। ঠিক উল্টো চিত্র লক্ষ করা যায় গরম আবহাওয়ায় জীবনযাপন করা মানুষদের চিত্রে। এসব চিত্রে মানুষদের উন্মুক্ত শরীরে চলাফেরা করতে দেখা যায়। সমুদ্রসৈকতে বিবসনা নর-নারীদের দেখা যায় নানা ভঙ্গিতে। এসব অঞ্চলের শিল্পীর ক্যানভাসে নর-নারীর চিত্র এভাবেই উঠে আসে। ফলে এরূপ চিত্রের যৌক্তিকতাও অনুভব করা যায়। এরূপ নানা ধরনের বাস্তবতার কারণে নানারূপ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে পৃথিবীর সর্বত্র। ফলে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের মধ্যে সব ক্ষেত্রে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ করা যায়। আর এ জন্যই শিল্পীদের চিত্রেও এ পার্থক্যগুলো স্পষ্টরূপে আবির্ভূত হয়। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিকতা সব ক্ষেত্রে অক্ষুণœœ থাকলেও ক্ষুদ্র হয়েছে শিল্পকলার ক্ষেত্রে। আধুনিকতা কিংবা পোস্ট মডার্নিজমের নামে পূর্ব-পশ্চিম কিংবা উত্তর-দক্ষিণের শিল্পকর্ম একাকার হয়ে গেছে। এরই স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে কনটেম্পোরারি এশিয়ান আর্টের কর্মশালায় সৃষ্ট শিল্পকর্মের মাধ্যমে। এ কর্মাশালায় যতগুলো দেশ অংশগ্রহণ করেছে সে দেশের শিল্পীদের চিত্রকর্মে প্রায় একই আঙ্গিক ও অনুভূতি ব্যক্ত হয়েছে। অর্থাৎ এশিয়ার শিল্পীদের শিল্পে এশিয়ার কোনো প্রভাব নেই। রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর পশ্চিমা শিল্পধারার উন্মাদনা। এ সব চিত্রকর্মে দেশ বা আঞ্চলিকতার কোনো প্রভাব নেই। ফলে বেশির ভাগ শিল্পী তাদের সৃষ্ট শিল্পকর্মের কোনো নামও দিতে সক্ষম হননি। কারণ তারা নিজেরাই জানেন না কারা কী এঁকেছেন। ফলে চিত্রের নাম দিয়েছেন ‘আনটাইটেল্ড’। অর্থাৎ নামহীন শিল্প। যেমনÑ বাহরাইনের শিল্পী আদনান আল আহমেদ, কাতারের শিল্পী আহমেদ সুলতান, বাংলাদেশের শিল্পী আমিনুল ইসলাম, ইরানের শিল্পী বাহার বেনবাহানি, ভারতের শিল্পী চিন্ময় মোহিয়া, শ্রীলঙ্কার শিল্পী জগৎ রবীন্দ্র, জাপানের শিল্পী নোবোহো নাগাসাওয়া এবং ইউএইর শিল্পী সালেহ শানবিহর চিত্রগুলো। এ ধরনের নামহীন চিত্রের শিল্পীর সংখ্যা ৫৯। ক্যাটালগে ছাপা ৭৭টি চিত্রের মধ্যে ৫৯টির কোনো নাম নেই। এ সব চিত্র দেখে কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয় কোনটা কোন দেশের শিল্পীর আঁকা চিত্র! পশ্চিমা ধারার উন্মাদনার মহাসমুদ্রে এশিয়ার শিল্পীরা এভাবেই হাবুডুবু খাচ্ছেন। এভাবে পশ্চিমা ধারার মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খাওয়া শিল্পীদের সম্পর্কে কলকাতার সোসাইটি অব কনটেম্পোরারি আর্টিস্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এশিয়ার যারা জার্মান বা আমেরিকার আর্থ-সামাজিক পটভূমির পরিপ্রেক্ষিতে ছবি আঁকেন আমরা তাদের সাথে নেই। পোস্ট মডার্নিজমের নামে এক ধরনের নকলনবিশি কাজ যারা করছেন, তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ক্ষতি করছেন (রোদে ধান ছায়ায় পান, নবম সংখ্যা, অগ্রহায়ণ ১৪১৬, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৫৬)। ভারতের বিজ্ঞজনেরাই নন, পশ্চিমা বিশ্বের পণ্ডিত ব্যক্তিরাও পশ্চিমা আধুনিকতার বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে আর শুদ্ধ শিল্পচর্চা হচ্ছে না। চলছে পাগলামি আর স্বেচ্ছাচারিতা। আধুনিকতার নামে শিল্পের মৃত্যু ঘটেছে পশ্চিমে (বাংলা শিল্পচর্চার উত্তরাধিকার, গৌতম দাস, কলকাতা ৭০০০০৯, পৃষ্ঠা ২১৫)। জাপানের জাতীয়তাবাদী ধারার শিল্পীরাও পশ্চিমা ধারার ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, পশ্চিমা ধারার কাজ যত ভালোই হোক, যত প্রশংসিতই হোক, যত পুরস্কারই পাক না কেন, প্রকৃত অর্থে এ ধরনের কাজে জাপান একেবারেই অনুপস্থিত। সুতরাং জাপানের নামগন্ধহীন, জাপানের সংস্কৃতিবিহীন অ্যাবস্ট্রাক্ট বা ওই ধারার শিল্পচর্চা আর পশ্চিমকে অন্ধ অনুসরণ-অনুকরণ করার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না (প্রাচ্যচিত্রের সৌন্দর্য, ড. আব্দুস সাত্তার পৃষ্ঠা ১৫০)। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছেÑ পশ্চিমা ধারার শিল্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা থাকা সত্ত্বে¡ও এক শ্রেণীর এশীয় শিল্পী পশ্চিমের ধার করা ধারায় শিল্পচর্চা করতে পছন্দ করেন। পছন্দের এই বিষয়টি আলোচ্য কনটেম্পোরারি এশিয়ান আর্টের কর্মশালায় স্পষ্ট হয়েছে। তবে ব্যাপকভাবে পশ্চিমা ধারার অনুসরণের মাঝেও কিছু কিছু কাজে জাতীয়তাবোধের পরিচয় মিলেছে। এ কর্মশালার বাস্তবধর্মী কাজের মধ্যে শিল্পী আব্দুস সাত্তার, ফরিদা জামান, কে এম এ কাইউম, রোকেয়া সুলতানা, শেখ আফজাল (বাংলাদেশ); আদেল বাই তারকাভ (কিরগিজস্তান), আল দোসারি জসিম (বাহরাইন), অশোক ভৌমিক, বিজন চৌধুুরী, ঈশা মোহাম্মদ, জতিন দাস, নিরেন সেন, সুনীল দাশ, উমেশ ভর্মা, সুজাতা দিরে (ভারত) প্রমুখ শিল্পীর কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আলোচ্য এসব বাস্তবধর্মী কাজের মধ্যে ভারতীয় শিল্পীদের কাজে ভারতের প্রভাব লক্ষণীয়। যদিও পশ্চিমা ধারার অনুসরণ করে আঁকা এসব চিত্র। যেমনÑ বিজন চৌধুরীর চিত্রে রয়েছে, সমুদ্রের নীল জলরাশি এবং জলের ওপর ভাসমান নৌকা, রয়েছে সূর্য এবং শস্যক্ষেত্র। চিত্রের মূল বিষয় নৌকার গুণ টানা বলিষ্ঠদেহী শ্রমিক। এ চিত্রে শিল্পীর কল্পনাবিলাসেরও সন্ধান পাওয়া যায়। কারণ এ চিত্রে রয়েছে শূন্যে ভাসমান রমণী। রয়েছে উড়ন্ত পাখি।
এ কর্মশালার উল্লেখযোগ্য আরো চিত্র এঁকেছেন ইয়েমেনের শিল্পী মাজহার নিজার। তার চিত্রের বিষয় রমণী এবং নতুন চাঁদ। হতে পারে ঈদের চাঁদ। পশ্চিমা ধারার কৌশলে আঁকা এ চিত্রে মুসলিম সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটেছে। নীল রঙের ওড়নায় মস্তক আবৃত রমণী নবীন চাঁদ দেখতে বাড়ির আঙিনায় দণ্ডায়মান। বাইরে অন্ধকার। আর সেই অন্ধকার আকাশে এক ফালি চিকন সাদা চাঁদ। চিত্রের সার্বিক সৌন্দর্য দর্শকচিত্তকে আন্দোলিত করে। এশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী এ চিত্রকর্মশালায় অঙ্কিত সব চিত্রগুলোর অন্যতম।
নিভৃতচারী প্রচারবিমুখ অসাধারণ সফল একজন বাংলাদেশের শিল্পীর নাম শেখ আফজাল। শিল্পী আফজাল কর্মশালায় আঁকা তার চিত্রের নাম দিয়েছেন, ‘আনএক্সপেক্টেড’। অর্থাৎ অপ্রত্যাশিত। শিল্পী এই শিরোনামে অসাধারণ সুন্দর এক চিত্রের জন্ম দিয়েছেন। চিত্রে অঙ্কিত অপূর্ব সুন্দর এবং অতি আকর্ষণীয় শরীরী সৌন্দর্যের এক যুবতী এমন একজনের সাক্ষাৎ পেয়েছেন যা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। হঠাৎ পাওয়ায় যুবতী মেয়েটি আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে হৃদয়ের উত্তাপ নিবৃত্ত করছে। অভূতপূর্ব এ দৃশ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছে। চিত্রের লাল-নীল এবং সাদা রঙের ব্যবহারের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট সৌন্দর্য যেন অগ্ন্যুৎপাতের উদগিরিত লাল আভার মতো ঠিকরে চার দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। চিত্রে ব্যবহৃত ফুলের সুগন্ধ যেন ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। শিল্পী শেখ আফজালের সৃষ্ট চিত্রের আলোছায়ার গভীরে নানা বিষয় লুকিয়ে থাকে। বিশেষ করে মানবশিশু এবং মানব-মানবীর শরীরী সৌন্দর্য। যা রহস্যের সৃষ্টি করে। এ সৃষ্ট রহস্যের সন্ধানে দর্শক উন্মুখ হয়ে ওঠেন। দর্শকহৃদয়কে আন্দোলিত করার এটি একটি উল্লেখযোগ্য দিক। যা সাধারণত কম শিল্পীর চিত্রেই উপস্থিত থাকে। বাংলাদেশে হাতেগোনা যে ক’জন বাস্তবধর্মী বিষয়কে অবলম্বন করে চিত্রচর্চা করেন শেখ আফজাল তাদের মধ্যে অন্যতম। ওয়ার্কশপে শিল্পী শেখ আফজালের সৃষ্ট চিত্র কিছুটা হলেও এশীয় শিল্পের মর্যাদা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে এবং পশ্চিমা ধারার কুম্ভিলক প্রথার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী এশিয়ার শিল্পীদের বেশির ভাগই হতাশার জন্ম দিয়েছেন পশ্চিমা ধারার প্রমত্তকর সুধা পানে মাতাল হওয়ার মধ্য দিয়ে। প্রত্যাশা আমাদের এ মাতলামির অবসান হবে অবশ্যই এবং এশিয়ার নিজস্ব ধারা বহমান হবে পুনরায় অদূরভবিষ্যতে। বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে এশিয়ার সুখ্যাতি।