একসময় তথা ইংরেজ আমলে প্রতিটি জেলা শহরে একটি সরকারি জেলা স্কুল ছিল। আর মহকুমা শহরে বেসরকারি-সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল ছিল। ওইসব স্কুলকে বলা হতো উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়। আমি যেসব স্কুলে পড়েছি, যেমন বাগেরহাট হাই ইংলিশ স্কুল, সাতক্ষীরা পিএন হাই ইংলিশ স্কুল, নারায়ণগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল। সরকারি চাকরি করার উপযুক্ত জনবল সৃষ্টি করাই ছিল এসব বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য। এসব স্কুল থেকে পাঠ সমাপ্ত করে সবচেয়ে ভালো ফল যারা করতেন, তারা পরবর্তীকালে হতেন আইসিএস। খোদ ইংরেজ প্রভুর প্রতিনিধি। মেকলের পরিকল্পনামতো কালো ইংরেজ। আরো কিছু পেশাজীবী তৈরি হতেন। তাদের কথা নাই-বা বললাম। নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম হয়ে আইসিএস হয়ে ভারত সরকারের একজন সচিব হয়েছিলেন। ১৯৫০ সালে লিয়াকত-নেহরু চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি একবার এসেছিলেন স্কুলে, তখন আমরা দশম শ্রেণীর ছাত্র। (নাম বোধ হয় করুনাকেতন?) তখন তাকে দেখেছিলাম। একসময় শিক্ষকতাকে বলা হতো মানুষ গড়ার কারিগর, এখনো বলা হয়। তবে আমরা কতটুকু মানুষ আর কতটুকু চাকুরে হতাম বা হয়েছি তা বিবেচনার বিষয়। এই দশম শ্রেণীর সমষ্টিগত পরীক্ষার নাম ভিন্ন সময় ভিন্ন হয়েছে। প্রথমে বলা হতো প্রবেশিকা, আমাদের সময় ম্যাট্রিক, এখন বলা হয় এসএসসি। নাম ভিন্ন হলেও বিষয় মোটামুটি এক রয়ে গেছে। একসময় পরীক্ষা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে, পরে ঢাকা বোর্ডের অধীনে, এখন অনেকগুলো বোর্ডের অধীনে।
অন্য দিকে বেশ কয়েক বছর ধরে আমি কানাডায় বাস করছি। আমার নাতিদের কিন্ডারগার্টেন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে দেখেছি। কাউকে কিন্ডারগার্টেন, কাউকে কানাডায় যাকে বলে স্কুল ফাইনাল শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে দেখেছি। স্কুল ফাইনাল মানে স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর শেষ পরীক্ষা। এই পরীক্ষা এতদিন যে শিক্ষক পড়িয়েছেন, তিনি নেন। বাইরের কোনো পরীক্ষক আসেন না পরীক্ষা নিতে। এই নম্বর দেখিয়েই সে টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রি-মেডিক্যাল জীববিজ্ঞান পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছে। আমাদের দেশে পদে পদে পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার মান উন্নত হয়েছে বলে কেউ মনে করেন না। আমার বন্ধু-বান্ধব ও তাদের ছেলেমেয়ে সেসব বাংলা স্কুলে পড়াশোনা করে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকায় কাজ করছে। কিন্তু নাতি-নাতনী যারা দেশে আছে, তারা আর সেসব স্কুলে পড়ছে না। তারা দেশে বাস করেও বিদেশী স্কুলে পড়ছে। এর কারণ আছে নিশ্চয়ই।
কানাডায় আমার নাতিদের দেখি ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যায়; কিন্তু সেই ব্যাগে কোনো পাঠ্যবই থাকে না। থাকে টিফিন বক্স, পানির বোতল, খাতা- পেন্সিল ও লাইব্রেরির গল্পের বই। এদের কি কোনো পাঠ্যবই নেই? এরা কি কেবল গল্পের বই পড়ে? না, এদের পাঠ্যবই আছে। সেগুলো বেসরকারি প্রকাশকরা প্রকাশ করে, স্কুল সেগুলোর মধ্য থেকে পছন্দ করে কিনে ছাত্রদের পড়তে দেয়। তবে বাড়িতে নিতে দেয় না। সেগুলো ক্লাসেই থাকে। ক্লাসেই পড়ে। ক্লাসেই পরীক্ষা হয়। শিক্ষক মূল্যায়ন করেন। তার শিক্ষক তার মূল্যায়ন করেন। অন্য কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষক নয়। এখানেও বিভিন্ন পর্যায়ে বোর্ডের পরীক্ষা হয় স্কুলের মান নির্ণয়ের জন্য।
আমার দ্বিতীয় নাতি ইলহামকে তার শিক্ষকরা মূল্যায়ন করে বললেন, সে তার ক্লাসের বেশির ভাগ ছাত্র অপেক্ষা অগ্রগামী বা অধিক মেধাবী। এতদিন সে বাড়ির কাছের প্রাথমিক বা অ্যালিমেন্টারি স্কুলে পড়ত। এই স্কুলে কেজি-১, কেজি-২ থেকে অষ্টম শ্রেণী পড়ানো হয়। এরপর নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত হাই স্কুল। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হতে পারবে; নির্ভর করবে হাইস্কুলের ফলাফলের ওপর। তৃতীয় শ্রেণীর ফলাফল দেখে তার শিক্ষক সুপারিশ করলেন তাকে মেধাবীদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। অতএব তাকে এমন এক স্কুলে পড়তে হবে যেখানে বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী তার মতো মেধাবী। অ্যালিমেন্টারি ও হাই স্কুলের পাশাপাশি চতুর্থ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেধাবীদের জন্য এক ধরনের পৃথক স্কুল রয়েছে। মেধাবীদের স্কুলে পড়ার চাপ একটু বেশি। মেধাবী বলে তাকে চাপের মধ্যে নিয়ে আসা হলো। এ সবই সরকারি স্কুল। এগুলো পরিচালনা করে স্থানীয় সরকার। আগেই বলেছি, পাঠ্যবই ক্লাসে থাকে, ক্লাসেই পড়ে শেষ করতে হয়। ক্লাসেই পরীক্ষা দিতে হয়। হোম টাস্ক থাকে, সেগুলো অ্যাসাইনমেন্ট। তার জন্য পাঠ্যবইয়ের প্রয়োজন হয় না। এরা বিষয় অধ্যয়ন করে নানা বই পড়ে, এদের সব বই পড়ার বই। এখানে শিক্ষকেরা কোনো কোচিং ক্লাসে পড়ান না। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে এখানকার ছাত্রছাত্রীদের তাদের ক্লাসের শিক্ষকদের কাছে কী নম্বর পায় সেটাই বিবেচনা করা হয়। সেই সাথে বিবেচনা করা হয়, সে কোন কোন কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছে তার জন্যও যে ১০০ নম্বর ধরা আছে তা পেয়েছে কি না।
এ দেশ তথা কানাডায় স্বেচ্ছাশ্রম দেয়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার কারিকুলামের অন্তর্গত। আমার নাতিদের দেখলাম নবম শ্রেণী থেকে আরম্ভ করে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত এই চার বছরের স্কুল ছুটির সময় কয়েক দিন করে সরকারি তথা মিউনিসিপ্যালিটির বিভিন্ন সংস্থায় স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে কাজ করে নম্বর সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কখনো গণগ্রন্থাগারে, কখনো বৃদ্ধাশ্রমে, কখনো কোনো কমিউনিটি সেন্টারে, কখনো মিউনিসিপ্যাল অফিসে কয়েক ঘণ্টা করে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে কাজ করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় এই নম্বর কাজে লাগবে। একই সাথে অভিভাবকদেরও স্কুলে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে হয়। অবশ্য যে সব অভিভাবকের সময় আছে।
ইংরেজ আমল থেকে বাংলাদেশে কোনো কোনো স্কুলে বয়েজ স্কাউট দল তৈরি করা হতো। একজন স্কাউট স্যার থাকতেন। এই স্কাউটদের দিয়ে মাঝে মধ্যে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কিছু সেবামূলক কাজ করানো হতো। সব স্কুলে এটা ছিল না। কিছু সরকারি জেলা স্কুলে ছিল। তার জন্য অবশ্য কোনো নম্বর দেয়া হতো না। পরে বাংলাদেশে একসময় মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীর জন্য এমন অতিরিক্ত ৫০ নম্বর লাভ করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল।
পরীক্ষার্থী যদি কোনো অশিক্ষিত বয়স্ক ব্যক্তিকে শিক্ষিত করতে পারত, তাহলে সে ৫০ নম্বর পেত। এই অতিরিক্ত নম্বর তাকে ডিভিশন তুলতে সাহায্য করত। ফলে প্রতিবছর যতজন ছাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতো, ততজন বয়স্ক অশিক্ষিত ব্যক্তি শিক্ষিত হতো। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিনা অর্থে, বিনা-বাজেটে এমন প্রকল্প পছন্দনীয় ছিল না। তারা এটি বন্ধ করে দিলো। এক সময় পাকিস্তান আমলে সৃষ্টি করা হয়েছিল সমাজকল্যাণ বিভাগ, সমাজকল্যাণ কলেজ।
আশা করা হয়েছিল, ওই কলেজ থেকে যারা পাস করবে, তারা সমাজকল্যাণের কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হবে। কিন্তু তারা ব্যক্তিগতভাবে কেউ কোনো সমাজের কল্যাণ হয় এমন কাজ করতে পারলেন না, পারেনও না। তাদের চাকরি দেয়ার জন্য সমাজকল্যাণ বিভাগ সৃষ্টি করতে হলো। তারা হলেন সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা। তারা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন না, সমবেত হয়ে বা এককভাবে জনকল্যাণ বা সমাজকল্যাণমূলক কাজ করতে। তারা পারেন কেউ কোনো এতিমখানা খুললে তাকে সাহায্য করতে। বার্ষিক সরকারি কিছু অনুদান বরাদ্দ করাই তাদের একমাত্র কাজ।
বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশার ও বিষয়ের সংগঠন বা সমিতির সংখ্যা কম নয়। তারা প্রতি বছর বেশ বড় করে সম্মেলন করে থাকে। সেখানে মূল্যবান বক্তব্য দেয়া হয়। কিন্তু সমাজ উন্নয়নমূলক বা পেশা উন্নয়নমূলক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। প্রায় প্রত্যেক পেশাজীবীর সমিতি আছে। যেমন ইতিহাস সমিতি, শিক্ষক সমিতি, গ্রন্থগারিক সমিতি, বিজ্ঞান সমিতি ইত্যাদি। আমি জানি না, তারা তাদের বিষয়ে গবেষণা করার জন্য বা পড়ার জন্য কোনো বৃত্তি দেয় কি না। তবে বাংলাদেশের গণিত বিশেষজ্ঞরা গণিত অলিম্পিয়াড সংগঠন করে এক অসাধারণ কাজ করেছে। কানাডায় বিজ্ঞান সমিতি আছে, তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচের ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিজ্ঞানকে আনন্দদায়ক করার নানা প্রকল্প তৈরি করে স্কুলগুলোকে সাহায্য করে। এমন একটি কার্যক্রম ঝপরবহঃরংঃ রহ ঃযব পষধংংৎড়ড়স বা শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞানী এমন একটি কর্মসূচি যার মাধ্যমে দেশের সব প্রাথমিক স্কুলের একেবারে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষকদের রিফ্রেশার্স কোর্স করিয়ে, পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা। তারা যোগাযোগ করে শিক্ষক, স্কুল কর্তৃপক্ষ, সরকার ও শিক্ষাবিদদের সাথে। বিজ্ঞানীদের এই সংগঠনের নাম ঘঈঝঊ, বা ঘধঃরড়হধষ ঈবহঃৎব ভড়ৎ ঝপরবহপব ঊফঁপধঃরড়হ তাদের আরো অনেক কাজের একটি কাজ প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীর মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করা। সে জন্য তারাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে কর্মসূচি তৈরি করে। যেমনÑ গত বছর আমার নাতনীকে বুঝিয়েছিল, মেটামরফেসিস বলতে কী বুঝি, যা আমাদের অনেক শিক্ষিত ব্যক্তিও জানেন না। সেই বিজ্ঞানী শুয়া পোকার ডিম এনে সব ছাত্রকে দিয়েছে। আমার নাতনীও পেয়েছিল, তাকে রূপান্তরিত হতে দিয়েছে। অবশেষে প্রজাপতি হয়েছে। অমার নাতনী প্রতিদিন তাকে লালন করেছে, নিজের চোখের সামনে এই প্রজাপতিকে ডিম থেকে প্রজাপতি হতে দেখেছে। সেকি আনন্দ ও উত্তেজনা।
তাদের আর একটি কর্মসূচি ঞযব এৎড়-িঅ-ঞৎবব চৎড়মৎধস। প্রত্যেক শিশুকে ছোট একটি টব, মাটি ও কোনো গাছের বীচি এনে দেয়। শিশু সেই বীচি টবে বপন করে পানি দেয়, রোদে রাখে এমনি করে সে নিজে দেখে অঙ্কুরের উদগমন ও চারা গাছ হওয়া। তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষককে বিজ্ঞানের আধুনিকতম বিষয়ে আলোচনা করে প্রশিক্ষণ দেন পরোক্ষভাবে।
আর একটি সংগঠন ঞযব খবধৎহরহম চধৎঃহবৎংযরঢ় তারা ১ নভেম্বরকে বলে ঞধশব ুড়ঁৎ পযরষফ ঃড় ড়িৎশ ফধু। সেদিন কানাডার সব স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রকে বাবা, অভিভাবক বা অপর কোনো ব্যক্তির কর্মস্থলে যেতে হয় ও তাদের কাজ দেখতে হয়। ব্যাংক, দোকান, অফিস, কারখানা ইত্যাদি হতে পারে। সেদিন আমার নবম শ্রেণীতে পড়ে যে নাতি, সে গিয়েছিল কানাডার সর্বাধিক জনপ্রিয় ‘গ্লোব অ্যান্ড মেল’ পত্রিকা অফিসে। তার সাথে আরো অনেক স্কুলের ছাত্র ছিল। সেখানে তাদের সারাদিন বিভিন্ন বিভাগে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখানো হয়, পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। ১ নভেম্বর যে বাবা-মায়ের কর্মস্থল ছাত্রছাত্রীর এক দিনের শ্রেণিকক্ষ হতে পারে তা কি আমরা কল্পনা করতে পারি? অথচ কানাডায় এই দিনটি জাতীয়ভাবে পালিত হয়। সব অফিস, আদালত, দোকান-পাট, বানিজ্য প্রতিষ্ঠান এই দিনে অপেক্ষা করে ছাত্রছাত্রীর জন্য। তারা সেই ভাবে প্রস্তুত থাকে। কারণ, এ বয়স থেকে ছেলেমেয়ে ভাবতে শুরু করে ভবিষ্যতে সে কি হবে।
কানাডার আরেকটি জাতীয় সংগঠন রয়েছে, যার কাজই হচ্ছে সরকারের শিক্ষানীতির মূল্যায়ন করা, পাঠক্রমের মূল্যায়ন করা, গবেষণা ও সুপারিশ করা। এ সংগঠনের নাম পিপল ফর এডুকেশন। এখানে সরকার এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না। কানাডার শিক্ষাব্যবস্থা, তথা প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর বাধ্যতামূলক অবৈতনিক শিক্ষার কারিকুলাম, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের যোগ্যতা নির্ণয় পদ্ধতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে যথাযথ পরামর্শ প্রদানের জন্য শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাপ্রেমীদের নিয়ে গঠিত সংগঠনের নাম পিপল ফর এডুকেশন। এমন একটি সংগঠন তৈরি করা যায় না? বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদেরা এগিয়ে আসতে পারেন।
পিপল ফর এডুকেশন বা গণশিক্ষার জন্য গণমানুষ ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠন। এটি একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে দান করলে আয়করে রেয়াত পাওয়া যায়। এই প্রতিষ্ঠানের কাজ শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা করা, নীতি নির্ধারণের সুপারিশ করা, সমৃদ্ধশালী সমাজ গঠনের জন্য শক্তিশালী গণশিক্ষা গড়ে তোলা। তারা স্বাধীনভাবে গবেষণা করে, স্কুলগুলোর বার্ষিক জরিপ পরিচালনা করে, বার্ষিক সম্মেলন করে, বক্তা নির্বাচন করে, নীতিনির্ধারকদের সাথে আলোচনা করে ইত্যাদি শিক্ষাসংক্রান্ত নানাবিধ কর্মের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমকে যুগোপযোগী রাখে। আমরা কি উন্নত দেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি না। সরকারের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেরা কিছু করতে পারি না? হ
একসময় তথা ইংরেজ আমলে প্রতিটি জেলা শহরে একটি সরকারি জেলা স্কুল ছিল। আর মহকুমা শহরে বেসরকারি-সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল ছিল। ওইসব স্কুলকে বলা হতো উচ্চ ইংরেজি...
