নয়া দিগন্ত : ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কর্মোপযোগী কোন কোন প্রোগ্রাম চালু রয়েছে?
অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমান : এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ছয়টি প্রোগ্রাম পড়ানো হয়। এসব প্রোগ্রামের সবগুলোই কর্মোপযোগী। স্থায়ী ক্যাম্পাসে মূল ভবনের ১২ তলার কাজ শেষ হয়েছে। যেহেতু এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করানোর মতো অনেক জায়গা রয়েছে। তাই আমরা আরো নতুন বিভাগ খোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। তবে আমাদের বর্তমান পরিকল্পনা হলোÑ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হোস্টেল চালু করা। আমরা চাই, ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসের কাছেই থাকুক, যাতে তারা পড়াশোনা ও রিসার্চে আরো বেশি সময় ও মনোযোগ দিতে পারে।
নয়া দিগন্ত : শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমান : বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির পাঠ্যক্রম ভালো, কিন্তু শেখানোর পদ্ধতির মধ্যে ত্রুটি আছে। কেননা এইচএসসি পাস করার পরও অনেক শিক্ষার্থী ভালো করে ইংরেজি লিখতে ও বলতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য চলতি সেমিস্টার থেকে দু’টি ইংরেজি কোর্স এবং লাইফস্কিলের ওপর একটি কোর্স চালু করা হয়েছে। এসব কোর্সে শিক্ষার্থীদের মোটিভেশনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রথম দু’টি সেমিস্টারে সপ্তাহে ছয় ঘণ্টা ইংরেজি কোর্স করতে হয়। বর্তমানে ৩২টি কম্পিউটার ও হার্ডওয়্যার ল্যাব চালু আছে। এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের জন্য জুন মাসের মধ্যে জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার খোলার চেষ্টা চলছে। আমরা ইনকিউবিশন সেন্টার করার চেষ্টা করছি। যেসব কোম্পানির অনেক ভালো আইডিয়া রয়েছে, কিন্তু অফিস না থাকায় বাস্তবায়ন করতে পারছে না। আমরা তাদের অল্প টাকায় অফিস স্পেস দেবো, যাতে তারা তাদের আইডিয়া বাস্তবায়ন করতে পারে।
নয়া দিগন্ত : বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমান : আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলোÑ আগামী কয়েক বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এক নম্বর স্থানে নিয়ে যাওয়া। এ ছাড়া, এশিয়ান কিউএস র্যাংকিংয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বর্তমানে যে র্যাংকিংয়ে রয়েছে তা ধরে রাখার চেষ্টা করা।
নয়া দিগন্ত : এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ সম্পর্কে বলুন।
অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমান : ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সব নিয়মকানুন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। পড়ালেখার মানের বিষয়ে এখানে কোনো রকম কম্প্রোমাইজ করা হয় না। এটি ধূমপানমুক্ত অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস। আমাদের লক্ষ্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বাজার উপযোগী করে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের হার্ড স্কিল এবং সফট স্কিল অর্জনে সহায়তা করা। আমাদের শিক্ষার্থীরা জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সুনামের সাথে কাজ করছে। আমেরিকায় অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ইউআইইউ একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ছয়টি স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। এ স্কিমের আওতায় ১৫০ শিক্ষার্থী ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এক থেকে দুই বছর মেয়াদে পড়াশোনা শেষ করে এসেছেন।
নয়া দিগন্ত : পাঠক্রমের বাইরে ছাত্রছাত্রীদের কো-কারিকুলার কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন।
অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমান : পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে ১২টি ক্লাব (স্পোর্টস ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, থিয়েটার ক্লাব, ডিবেট ক্লাব) ও ১৬টি ফোরাম (অ্যাকাউন্টিং ফোরাম, ফিন্যান্স ফোরাম, বিজনেস ফোরাম) রয়েছে। এসব ক্লাব ও ফোরাম নিয়মিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া, প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগ, ফ্যাকাল্টি ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেবিলটেনিস, ইন্টার কলেজ ফুটবল ও শীতকালে ইন্টার কলেজ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধার জিমনেসিয়াম রয়েছে।
নয়া দিগন্ত : নি¤œ মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমান : বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ট্রাইমিস্টারের ফলাফলের ওপর ২০ ভাগ শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ সুবিধা দেয়া হয়। এর মধ্যে চার ভাগ পায় শতভাগ বৃত্তি, ছয় ভাগ পায় ৫০ শতাংশ এবং ১০ ভাগ পায় ২৫ শতাংশ বৃত্তি সুবিধা। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ প্রাপ্ত মেধাবীরা ৫০ শতাংশ এবং সাধারণ জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ২৫ শতাংশ বৃত্তি সুবিধা পায়। দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে শিক্ষার্থীদের ফি প্রদানে অসুবিধা হলে মানবিক বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থাও রয়েছে।
নয়া দিগন্ত : শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমান : প্রতিযোগিতার এ যুগে বিশ্বে সুযোগ যেমন বেশি, তেমনি কারো কারো সামর্থ্যও বেশি। কাজেই প্রযুক্তির এ যুগে টিকে থাকতে হলে তোমাদের অবশ্যই বিশ^ায়নের দিকে জোর দিতে হবে। মানুষের জীবনে সফল হওয়ার জন্য দৃষ্টিভঙ্গি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাফল্যের জন্য অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে, কষ্ট করতে হবে। সাফল্যের কোনো শর্টকাট পথ নেই। ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির জন্য প্রতিদিন নিজেকে অন্তত আধা ঘণ্টা সময় দিতে হবে। কর্মব্যস্ততার বাইরেও কিছু সময় নিজের জন্য রাখবে। পাস করে চাকরি পাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করে যাও, দেখবে চাকরি তোমাদের হাতের মুঠোয় এসে ধরা দেবে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মাহমুদ কবীর