কিউবান হুটিয়া। তীক্ষè দন্তঅলা স্তন্যপায়ী প্রাণী। এদের শুধু কিউবায় পাওয়া যায়। এটি ডেসমারেস্ট হুটিয়া নামেও পরিচিত। বর্তমানে হুটিয়াদের মধ্যে কিউবান হুটিয়াই সবচেয়ে বড়। বৈজ্ঞানিক নাম ঈধঢ়ৎড়সুং ঢ়রষড়ৎরফবং.
এদের দেহের দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার। ওজন এক থেকে নয় কেজি। দেহ পুরু লোম দিয়ে আবৃত। দেহের লোমের রঙ কালো, বাদামি ও হলুদাভ লাল হয়। মাঝে মাঝে লালও দেখা যায়। দেহের গড়ন বেশ মোটাসোটা। পাগুলো খাটো। দেহের এ নাদুসনুদুস গড়নের কারণেই এরা হাঁসের মতো হেলেদুলে চলাফেরা করে। তবে শিকারের পেছনে ছোটার সময় লাফিয়ে লাফিয়ে বেশ দ্রুতই চলতে পারে। প্রতি পায়ে পাঁচটি করে বড় নখরযুক্ত আঙুল রয়েছে। আঙুলগুলোর সাহায্যে এরা গাছের ডালে ঝুলে থাকতে পারে।
যেখানেই ম্যানগ্রোভ জঙ্গল রয়েছে সেখানেই কিউবান হুটিয়ার আনাগোনা দেখা যায়। ঘন ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে এরা আশ্রয় নেয়। এরা সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় বসবাস করে। তবে মাঝে মধ্যে একা অথবা ছোট দলেও বাস করতে দেখা যায়। এরা দিবাচর প্রাণী। রাতে এরা গাছের গর্তে বিশ্রাম নেয়। কিউবান হুটিয়া সর্বভুক প্রাণী। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই গাছের বাকল, পাতা ও ফল খেয়ে থাকে। মাঝে মধ্যে ছোট মেরুদণ্ডী প্রাণীও খায়।
স্ত্রী হুটিয়া প্রায় ২৩০ গ্রাম ওজনের এক থেকে তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। পাঁচ মাস বয়সে বাচ্চারা মায়ের দুধ ছাড়ে।
কিউবায় এদের মাংসের জন্য অবাধে শিকার করা হয়। তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ১৯৬৮ অনুযায়ী কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কিউবান হুটিয়া শিকার করা অবৈধ।
Ñ শাহরিয়ার মাসুম