আসাদ চৌধুরী
শহীদের প্রতি
তোমাদের যা বলার ছিলো
বলছে কি তা বাংলাদেশ?
শেষ কথাটি সুখের ছিলো?
ঘৃণার ছিলো?
না কি ক্রোধের ,
প্রতিশোধের,
কোনটা ছিলো?
না কি কোনো দুঃখের
না কি মনে তৃপ্তি ছিলো,
দীপ্তি ছিলোÑ
এই যাওয়াটাই সুখের।
তোমরা গ্যালে, বাতাস যেমন যায়Ñ
গভীর নদী যেমন বাঁকা
স্রোতটিকে লুকায়,
যেমন পাখির ডানার ঝলক
গগনে মিলায়।
সাঁঝে যখন কোকিল ডাকে
কার্নিশে কি ধূসর শাখে,
বারুদেরই গন্ধস্মৃতি
ভুবন ফ্যালে ছেয়ে
ফুলের গন্ধ পরাজিত
স্লোগান আসে ধেয়ে।
তোমাদের যা বলার ছিলো
বলছে কি তা বাংলাদেশ?
সানাউল হক খান
পথ
হাঁটতে-হাঁটতে চলতে-চলতে নিজেকে দেখবে
বয়সোর্র্ধ্ব, বয়সহীন, অন্তহীন আয়ুষ্কালে বাঁধা
যেখানে বাল্য নেই, কৈশোর নেই, যৌবন বার্ধক্য নেই
অনেক ‘নেই’ আর শূন্যতার আনন্দে ভরা
এই হচ্ছে তোমার পথ, নিজেকে আবিষ্কারের নেশায়
টইটম্বুর হৃদয়ে জাগবে আলো
যেখানে মাটি নেই, আগুন-পানি, পাথর, কয়লা
উদ্ভিদ-লতা নেই, মৌন বিষণœতা ঠেলে-ঠেলে
যেতে হবে তোমাকে আসমান ছাড়িয়ে আরশে
সেই না-দেখা, না-পাওয়া প্রেমের পরশে
পৌঁছে যেতে হবে নির্ভয়ে একা
একা
এবং একা
যে রকম
পানি তার প্রবাহের পথ নিজেই খুঁজে নেয়, একা
হাসান হাফিজ
একুশের অগ্নিগিরি
এই সত্য সকলেই জানি আমরা
অগ্নিগিরি তিন প্রকার। জীবন্ত, মৃত ও সুপ্ত।
কোনটা যে কীরকম, কার শক্তি প্রকৃতি ক্ষমতা
তীব্র কত, কীরকম ধ্বংসের ক্ষমতা
আমাদের জানা আছে ভালো।
যদিও গাঙ্গেয় বদ্বীপে কোনো
অগ্নিগিরি নেই,
ছিল কোনো কালে
ইতিহাস এ রকম
সাক্ষ্য দেয় না, ভাই।
অমর একুশে তুমি চিরঞ্জীব অগ্নিগিরি বটে।
তারও চেয়ে ভয়ঙ্কর,
মৃত নও,পরিত্যক্ত নও
জ্বলন্ত জাগর তুমি ছিলে এককালে
প্রয়োজন যখন যেমন ছিলÑ
এখন রয়েছ তুমি সুপ্তিতে মগ্ন
পুনর্বার জ্বলে উঠতে পারো
কারণ একুশে এই শব্দজাদু প্রাণের প্রতীক
প্রজ্বলিত বিদ্রোহের নাম
অত্যাশ্চর্য ক্রোধে টলোমল
তমিজ উদ্ দীন লোদী
একটি সরল কবিতা
নানা ভাষার মধ্যে খুঁজে ফিরি আমার ভাষাটি
বর্ণমালায়, সাহিত্যে, লালন শাহ-এর গানে
স্বরলিপি আর চিত্রচর্চায়
দেখি, আমার ভাষাটির মতো খুব কম ভাষা আছে পৃথিবীতে
দেখি অনেক জাঁদরেল ভাষারই কোনো বর্ণমালা নেই
ছায়ামানুষের মতো তারা আছে
ভাষার জন্য এমন রক্তক্ষরণ কিংবা রক্তপাত নেই
এত প্রাণখোলা সঙ্গীত নেই, ভাটিয়ালি ভাওয়াইয়া নেই
এত কবিতা কিংবা কবিতাই নেই
শহীদের রক্তস্নাত এমন ভাষা নেই, কোথাও নেই ।
রেজাউদ্দিন স্টালিন
উৎসর্গপত্র
মৌমাছির গানে অস্থির
স্বপ্নের চেয়ে দুর্লভ যে দেশ
তার সব দরোজায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক
ক্ষুধার্ত শীর্ণ অবরুদ্ধ দৃষ্টিতে নেই স্পন্দন
তার আকাক্সক্ষার ডানা থেকে ক্রমাগত
খসে পড়ছে নিরাপত্তা
সে কান্নাও কর্জ নিচ্ছে বিশ্বব্যাংকের কোষাগার থেকে
তার আবেগের সব উচ্চারণ এসএমএসের দখলে
এবং সন্তানের জন্য বিলাপ বিজ্ঞাপনের
ক্রোধের কথা জমা দিতে হচ্ছে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে
ধানশীষ দুলে উঠতে লাগছে ওআইপোর নির্দেশ
পুলসেরাত পার হতে মাইক্রোক্রেডিট কার্ড
এইভাবে একের পর এক তার পদক্ষেপেÑ শেকল
স্বপ্নেÑ বেড়ী
এবং আকাক্সক্ষায়Ñ হ্যান্ডকাফ
জীবনধারণের প্রয়োজন মাপছে সুশীল সমাজ
চলছে নিবন্ধন : মানুষ না শ্রমিক
: কৃষক না ক্রীতদাস
: বাদশাহ না গোলাম
: প্রভু না ভৃত্য
: দালাল না দ্রোহী
কিন্তু হায় কারো মূল্য এক আউন্স রক্তের বেশি নয়
কারো প্রয়োজন নয় মৃত্যুর অধিক
প্রতিটি আত্মত্যাগ সুদূর আকাশের আশ্চর্য
সমৃদ্ধ উৎসর্গপত্রে কত শহীদের নাম
বৃষ্টিতে আচ্ছন্ন অঞ্চল ধ্বংসের ভেতর থেকে অঙ্কুরিত
ফিনিক্সভূমিÑ বাংলাদেশ
শাহীন আরা আনওয়ারী
চেতনার গভীরে
বৃষ্টির সুধায় ধুইয়ে যাক হৃদয় গহিন
মনোবৃক্ষের পাতারা সবুজের
চেতনায় জ্বলে উঠুক
বর্ণীল স্বপ্নেরা সীমান্তের বাঁধ ভেঙে
নক্ষত্রের আলোয় প্লাবিত করুক সময়ের বুক
মহাকালের উজ্জ্বল লিপিতে নাচুক অক্ষর
সফলতার উড্ডীয়মান স্বপ্নের পতাকা
দিকচক্রবালের রেখায় শিরা-উপশিরায়
সূর্যের আলো এসে বাক্সময় করুক
সুরে সুরে, আহা কি বর্ণীল স্বপ্ন!
আনন্দকে টেনে নিয়ে স্বপ্নের ঈগলেরা
বাজায় জীবন বাঁশি
এবং প্রজাপতির রঙিন পাখায় তুলে দিয়ে
বাতাসকে বলে স্বপ্নের পাল ওড়াতে
হৃদয়ের গহিনে জাগুক বেঁচে থাকার
বর্ণীল ভোরের দিকে। আর নয় কষ্টের
ভাঙাচোরা সিঁড়ি। সবাই খুঁজে পাক
জীবনের বর্ণীল স্বপ্নের ছন্দময় গতি
জীবনগুলো ভেসে উঠুক সুখসাগরের
জীবন্ত দোলায়।
এসব লিখিত হোক বাংলা বর্ণমালায়
ইদ্রিস সরকার
মানুষেরা
জীবনের ফাঁকে তোমাকে শুধু দেখেছি একবার
আরো একবার দেখেছি সপ্তর্ষীমণ্ডলের বাঁকে
তারপর দিন গেল মাস গেল বর্ষ গেল শুধু
অনন্ত আমিই দেখো বসে আছি ভাঙা সাঁকো ধরে
জোছনা এসেছে যৌবনের ফাঁকে শুধু একবার
আরো একবার এসেছিল শাশ্বত সত্যের দেশে
তারপর তার সাথে দীর্ঘকাল দেখা নেই কথা
নেই গলাগলি নেই বহুদিন স্নিগ্ধ হেসে হেসে
ট্রেনের বগির মতো জীবন থাকে রাস্তায় পড়ে;
মৃত মানুষের মতো গড়ে থাকে যৌবন রোদ্দুরে
প্রাণ গেল বংশ গৌরব গেল মান গেল আহা
মানুষেরা তবু আজো স্বপ্ন দেখে যাবো বহু দূরে।
মোশাররফ হোসেন খান
কোনো কোনো ভুুল
কোনো কোনো ভুল ফুলের চেয়েও সুন্দর
কোনো কোনো ভুল মরণব্যাধির
চেয়েও ভয়ঙ্কর, আত্মঘাতী
ভুল থেকে যদি ফুলের সৃষ্টি হয়
তাহলে সেই ভুলের পরিণাম হয়
ভীষণ সুন্দর
ভালো এবং কালো...
এই দুটির মাঝে পার্থক্য যদি কেউ বোঝে
তাহলে সেই বোধের উপমা হয় ফুলের মতো
সেখানেও দেখা যায় অজস্র ফুলের শোভা
ভুল থেকে ফুল হোক কামনার অধিক
উত্তম ও অধমের মাঝে তফাতটা
বোঝে যে জন
সেই তো মহৎ
দিন যায়, সময় যায়, বয়ে যায় নদী
ভুল থেকে ফুল হোক কাল নিরবধি
আনন্দমোহন রক্ষিত
একুশে ফেব্রুয়ারি
তোমার পায়ের শব্দে কেঁপে ওঠে মাটি
নিতম্ব কাঁপানো বৃক্ষরাজি পুষ্পভারে নত
অপূর্ব আলোর ঝরনা উচ্ছ্বসিত ঢেউয়ের
তরঙ্গে নাচে ফিঙে পাখির স্বভাবে।
কোথায় দাঁড়াব বলো যেদিকে তাকাই
শুধু কামরাঙা বন, নিশীথ রাত্রির মতো
বেজে চলে ভোরের সানাই।
খামারে খামারে ফসলের স্বর্ণকণা
তোমার আঁচল ছুঁয়ে দোল খায় বাতাসের দোলে
কী অপূর্ব মায়ার খেলা চৈতন্যে
দোলায় কেবল রঙিন স্বপ্ন, সবুজ ওড়না।
গোড়ায় গলদ ছিল, তাই অহল্যা পাথরে
ফুল ফোটেনি অনেক দিন, ছিল না
সুবাতাস বাংলাদেশজুড়ে, আগুনমুখো
হিংস্ররা বেণু বনে দেয়নি বাজাতে বাঁশি।
এখন সময় আমাদের, পরাজিত শকুনেরা
পালিয়েছে এ দেশ ছেড়ে চিরতরে।
বসন্ত জেগেছে আবার বাগান ভরে গেছে
মৌসুমি বাহারে প্রকৃতির আঙিনাজুড়ে।
হাসান আলীম
রুমালের কথা
একখণ্ড রুমাল ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলাম
সে রুমাল উড়তে উড়তে হয়ে গেল
শ্বেতকবুতর,
কখনো কখনো শ্বেতপুষ্প, রজনীগন্ধার
মঞ্জরী বিলাস।
রুমাল তোমাকে খুব দরকার
ভেসে ভেসে তুমি আর যেও নাকো
সুদূরের টানে
তুমি এসো উড়ে উড়ে কবুতর পাখি থেকে
তুমি এসো দ্রুততম শ্বেতপুষ্প থেকে
হাতের মুঠোয়,
অনন্য অতুল অনবদ্য ফুলেল রুমাল।
আবু হেনা আবদুল আউয়াল
খয়ের খাঁ
বুঝেও না-বোঝার ভান করে বলে
সব ঠিক, কোনো অনিয়ম হয়নি কোথাও
সাক্ষী গাছপালা পশুপাখি আকাশ-বাতাস
সাক্ষী অন্ধরাও, চোখ মুখ বন্ধ রেখে
জি হুজুর জি হুজুর বলে
কেউ কেউ আখের গুছিয়ে নেয়
ভূড়িভোজে আপ্যায়িত মহল্লার
সব কালো কাক, ময়ূর পাখিটি
রেনি দেখে কে কী করে ফিরনি-পায়েসের
গন্ধ নাকে আসে, মুর্দারাও খেয়ে দেয়ে
চুপচাপ ঢু’কে পড়ে গোরের গহিনে
ঘড়ির কাঁটাও মাঝে মাঝে
উল্টো দিকে ঘোরে, ভোর হতে-না-হতেই
ফের গভীর রাতের দিকে চ’লে যায় দ্রুত
কাঁধ বরাবর দু’হাত উঠিয়ে কেঁদে কেটে
দোয়া করে বেলেহাজ বেরাদরগুলো
খয়ের খাঁ দিশেহারা তুমুল তোয়াজে
সৈয়দ রফিকুল আলম
আশ্লেষ
কার না স্বাদ হয় ওপরের তারকাখচিত পাদপীঠ আশ্লেষে?
আর কতটুকু নিচে নামলে কালো মাটি তলে গিজগিজ ক্লিশে?
জঠর ক্ষুধায় হাড্ডিচর্ম মিশে যায় বিকলাঙ্গে উদ্ভট নট-
দ্বারে দ্বারে পা বাড়ালে নাই হয়ে যায় আশার ঘট?
কতটা ধাপ ঘর্মাক্তে উঠলে-পরে আকাশ ছোঁয়া যায়?
সমুদ্র গভীরে ডুব দিলে কতটাই বা তলের সীমা পায়?
আশা-দুরাশা গোলক স্ফুলিঙ্গে পাখির ডানা পুড়ে ছাই হয়ে যায়?
শাহীন রেজা
জলরঙ প্রজাপতি
আজ আমার প্রজাপতিটা কেমন বিষণœ, বিমূঢ়
ওর পাখায় কিছুতেই পাচ্ছি না খুঁজে রঙের আঁচড়
অথচ গতকালও সে ছিলো প্রাণবন্ত ভীষণ
তার উদ্দাম ওড়াউড়ি এবং রঙের ছটায় আলোময়
ছিলো সমস্ত ঢাকা, এমনকি সমগ্র বাংলাদেশও
আমিও উড়ছিলাম প্রাণের পাখায় তার কাছাকাছি
শান্তিনগর মোড়ে ঠিক বারোটায়
পিঠে ব্যাগ পরনে সাদা শার্ট আর গাঢ় নীল প্যান্ট
কী দুরন্ত উড়ছিলো সে
তার মুষ্টিবদ্ধ হাত আর কণ্ঠের তীব্র নিনাদ
উন্মাতাল করে রেখেছিলো অন্যদের
অসংখ্য প্রজাপতির ভিড়ে তার তীব্র উপস্থিতি
জানান দিচ্ছিলো কোনো এক স্পার্টাকাস অথবা তিতুমীরের আবির্ভাব বার্তা
আমার চোখের চূড়ায় তখন স্বপ্নের আস্ফালন
আমি অবাক বিস্ময়ে দেখে যাচ্ছিলাম আমার আগামীকাল ;
যে উত্তরাধিকার বায়ান্ন, ঊনসত্তর কিংবা
একাত্তরের আর ক্রমাগত সিক্ত হচ্ছিলাম আনন্দঘোরে
আমার পেছনে যে নীল আকাশ আমি সেখানে দেখতে পাচ্ছিলাম
অজস্র প্রত্যয়দীপ্ত চোখ যেন অনন্ত
নক্ষত্রপুঞ্জ অফুরান
মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেইসব এখন শুধুই কোনো এক মেঘের আকাশ
আর আমার প্রজাপতিটা যেন ডানাভাঙা কোনো এক ফেরারী দিনের চিল
জলরঙ প্রজাপতির জন্য এখন শুধুই সিক্ত ভালোবাসা
শুধুই গোপন কান্না অফুরান।
দিলীপ কির্ত্তুনিয়া
চর্চা
শুদ্ধ আগুনের চর্চা না হলে
আর কোনো কথা নেই।
সব কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।
প্রতিটা হৃদয়ে এসে লাগবে সেই আঁচ
প্রতিটা দেহে।
আমরা কতটা প্রস্তুত আছি
সেই আগুনের
অনিবার্য হিমশিম ঠেকাতে।
মোস্তফা শাওন
রক্তে লেখা বাংলা
রক্তে লেখা বর্ণমালা ছড়িয়ে গেল বিশ্বময়
ধমনি হতে কণ্ঠে এঁকে কৃতজ্ঞতা অন্তরময়
মা শব্দে শেখা নামে লিখছি তোদের নাম
বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম।
অ আ ক খ দিয়ে লিখেছি একটি দেশ
ত্রিশ লাখ শহিদ লিখেছে বাংলাদেশ
বাংলা থেকে পেয়েছি এই প্রিয় দেশ
শাশ্বত বাংলা জননী তুমি অনিঃশেষ।
রক্তে কেনা বাংলা বানান আজ ভয়ে লিখছি নানান
প্রমিত বাংলা বানান তোকে নির্ভয়ে দেবো জানান।
ভালোবাসি তোকে অনেক ভালোবেসে যাব
ঋণশোধের এমন সুযোগ আর কোথায় পাব?
রক্তে লেখা বাংলা বানান
লিখব সবে প্রমিত বানান
মাথা উঁচে দেবো জানান
রক্তে কেনা বাংলা বানান।
জামসেদ ওয়াজেদ
একটি একুশ
কেমন আছো ও হে আমার বর্ণমালা
কালো মেঘ আর কৃষ্ণচূড়ার লাল শাড়িতে
নগ্নপায়ে প্রভাতফেরির দুঃখ নিয়ে
মন মননে কেমন আছ জানতে যে চাই
রোদের আড়াল চোখের কোণের অগ্নি দহন
সহ্য করে আলোর পথে হাঁটতে গিয়ে
কেমন আছে , আছ কেমন বর্ণমালা
শহীদ মিনার শুধু কেবল কাঁদতে থাকে
কী শূন্যতা মনের মাঝে এখন যে তার
বীর সেনারা ঘুমিয়ে গেছে তাই বলে কী
নাকি আছে এ ছাড়া আর অন্য কারণ
এসব বিষয় এখন নাকি বলতে বারণ
একে একে শূন্য সকল আলোর দোকান
রোদ পালাবার ভয়ে ভয়ে আর কতকাল
বর্ণমালা তুমিই বলো লুকিয়ে থাকি
উজাড় করা বসন্তদিন শান্তপায়ে
সেই বায়ান্নর অগ্নি থোকা ফুলের মতো
একটি একুশ দাও না আবার আমায় কিনে
সাহস শূন্য শুধুই কেবল এ দুর্দিনে ।
