বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি একজন মেডিক্যাল শিক্ষাবিদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় দায়িত্ব পালন করার আগে তিনি বাংলাদেশের সেন্টার ফর মেডিক্যাল এডুকেশন এবং ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের (আইপিএইচ) পরিচালক ছিলেন। এর আগে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসরের পর তিনি বাংলাদেশ পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি ছিলেন এর প্রথম প্রেসিডেন্ট। এ ছাড়া মেডিক্যাল শিক্ষা প্রসারে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব মেডিক্যাল এডুকেশনের’ সিনিয়র উপদেষ্টা ছিলেন এই অল্প কয়েক দিন আগেও। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, মেডিক্যাল শিক্ষা নিয়ে নয়া দিগন্তের পক্ষ থেকে তার সাক্ষাৎকার নেন নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার হামিম উল কবির
নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশের চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন বলে আপনি মনে করেন ?
মোজাহেরুল হক : এক কথায় বলতে গেলে সীমিত সম্পদের মধ্যে আমাদের চিকিৎসা অবকাঠামো প্রশংসা করার মতো। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সরকারি চিকিৎসা পৌঁছে যাচ্ছে। প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সেখানে সরকারি ওষুধও পাচ্ছে মানুষ। সীমিত হলেও সরকার গ্রাম পর্যন্ত তার সেবা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। এটা পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই। এবার আসি মেডিক্যাল শিক্ষার কথায়। আমাদের দেশের মেডিক্যাল শিক্ষা কাক্সিক্ষত মানের নয়। আমি মনে করি, এটা সর্বকালের সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে গেছে। এর জন্য দায়ী আমাদের সরকারি ব্যবস্থাপনা।
নয়া দিগন্ত : চিকিৎসা সেবা নিয়ে চিকিৎসকেরা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা সেবার চেয়ে অর্থ আয়কে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?
মোজাহেরুল হক : এটা ঠিক যে আমাদের অনেক চিকিৎসক সেবার চেয়ে অর্থ উপার্জনটাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। অর্থ উপার্জন করতে হবে জীবনের প্রয়োজনেই। তবে চিকিৎসকদের সেবা করার যে ইচ্ছা নেই, এমন নয়। অনেক চিকিৎসক আমাদের দেশে আছেন যারা সেবাটাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তারা সংখ্যায় কম হতে পারেন, তবে তারা আছেন। তারা প্রশংসাও পাচ্ছেন চিকিৎসায় তাদের অসামন্য অবদানের জন্য।
নয়া দিগন্ত : অনেক চিকিৎসক আছেন যারা রোগীকে কথা বলতে দিতে চান না। কী হয়েছে শুধু এই প্রশ্নের উত্তর শুনেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিশাল একটি লিস্ট ধরিয়ে দেন। তারা রোগের সঠিক ইতিহাস মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করেন না। অভিযোগ রয়েছে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যে টাকা রোগীকে ব্যয় করতে হয় এর একটি অংশ কমিশন হিসেবে ওই চিকিৎসকেরা পেয়ে থাকেন। এ ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?
মোজাহেরুল হক : এটা দুর্ভাগ্যজনক যে রোগীর কথা ভালো করে না শোনে, রোগের সঠিক ইতিহাস না নিয়েই কিছু চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য লিস্ট ধরিয়ে দেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যে অর্থ ব্যয় করে রোগী এটা থেকে কিছু চিকিৎসক কমিশন নিয়ে থাকেন, অবশ্য সবাই নন। এমন হওয়া উচিত ছিল না। এটা খুবই অনৈতিক, অমানবিকও বটে। কারণ আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র। পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ করার পর হাতে ব্যয় করার জন্য অর্থ থাকে না। একটু জটিল চিকিৎসা করতে হলে অনেকেই প্রয়োজনীয় সম্পদ বিক্রি করে আসেন চিকিৎসকদের কাছে সুস্থ হতে। আর চিকিৎসক রোগীকে সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে, রোগের সঠিক ইতিহাস না নিয়ে তিনি কেবল মেশিন নির্ভর হয়ে যাবেন তা হতে পারে না।
এই রাজধানীতেই এমনও অনেক চিকিৎসক রয়েছেন যারা রোগীর সাথে কথা বলেই ওষুধ-পত্র লেখেন। আমি মনে করি, সব চিকিৎসক না হলেও বেশির ভাগ চিকিৎসক তা করতে সক্ষম। তবে খুবই জটিল রোগ হলে এবং অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি মেশিনের সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু সাধারণ রোগের বেলা এটি না করলেই ভালো হয়। চিকিৎসকদের উদ্দেশে আমি বলব, ‘কমিশন বাণিজ্য নিয়ে চিকিৎসকদের বদনাম হয়েছে। এটি আপনারা করবেন না। কমিশন গ্রহণ থেকে বেরিয়ে আসুন।’
নয়া দিগন্ত : চিকিৎসকদের এই কমিশন বাণিজ্য কিভাবে বন্ধ করা যায় ?
মোজাহেরুল হক : প্রথমত আমি বলবÑ আমাদের মেডিক্যাল শিক্ষায় গলদ আছে। শিক্ষার শুরুতেই নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিশেষ করে মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সময় উন্নত নৈতিকতা শিক্ষা নিয়ে ২৫ অথবা ৫০ নম্বর অথবা ১০০ নম্বরের একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এর বাইরে চিকিৎসকদের সংগঠন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং সর্বোপরি সরকার এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে এটি বন্ধ করা সম্ভব। একটি কল্যাণমুখী উন্নতমানের চিকিৎসা পদ্ধতি চালু করতে হলে সরকারকে চিকিৎসায় আরো কিছু ব্যয় বাড়াতে হবে।
নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশ থেকে বছরে অনেক রোগী ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর যাচ্ছে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। বিশেষ করে ধনী পরিবারের লোকজন বিদেশ চলে যাচ্ছেন এমনকি হার্নিয়া অপারেশন করতে। এতে কি প্রমাণ হয় যে, বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত মানের নয় অথবা বাংলাদেশের চিকিৎসকদের ওপর কিছু মানুষের আস্থা নেই।
মোজাহেরুল হক : প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে অনেক। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এমনকি প্রতিবেশী ভারতে চিকিৎসাবিষয়ক সর্বশেষ প্রযুক্তি যত দ্রুত ও যত সহজে রোগীরা পায়, বাংলাদেশে সে রকম উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি সহজলভ্য নয়। এখানে কেবল রোগ বুঝে চিকিৎসক তৈরি হয় এবং এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি আনা হয়। আমাদের দেশে সরকারি ব্যবস্থার চেয়ে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার প্রসার বেশি হয়েছে। সাধারণ সব ধরনের চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালগুলোতে দিতে পারলেও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নত মানের মেশিনের মাধ্যমে চিকিৎসায় এগিয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও কিছু কিছু চিকিৎসা প্রযুক্তি এ দেশে নেই। না থাকলেও কিছু মানুষ তো বিদেশে যাবেই। এটি ছাড়াও মেডিক্যাল ট্যুরিজম বলতে একটি থিম চালু হয়েছে। চিকিৎসাও করা গেল আবার বিদেশ ভ্রমণটাও হয়ে গেল। এসব কারণে উচ্চবিত্ত সমাজের সদস্যরা বিদেশ চলে যাচ্ছেন। এদের কখনো আটকানো যাবে না। কিন্তু কিছু মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকেরাও যাচ্ছেন। তারা যাচ্ছেন বাধ্য হয়ে। বাংলাদেশে সর্বশেষ আবিষ্কৃত চিকিৎসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈরি না হলে এবং ওই চিকিৎসা দিতে প্রয়োজনীয় সর্বশেষ প্রযুক্তির মেশিন আনতে পারলেই মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে আটকানো যাবে বলে আমি মনে করি। চিকিৎসকদের ওপর মানুষের আস্থা নেই, এ জন্য বিদেশ চলে যাচ্ছে রোগীরা। এ বিষয়ে বলব, এটি ঠিক আস্থা নয়, বলব প্রয়োজনে কিছু মানুষ যাচ্ছে আবার কিছু মানুষ যাচ্ছে মেডিক্যাল ট্যুরিজমের অংশ হিসেবে।
নয়া দিগন্ত : একজন মেডিক্যাল অ্যাডুকেশনিস্ট হিসেবে জানতে চাইব, ‘বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষার মান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী।’
মোজাহেরুল হক : একজন মেডিক্যাল শিক্ষাবিদ হিসেবে বলব বাংলাদেশে মেডিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই নিম্নমানের। বেশির মেডিক্যাল কলেজে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। যে হারে মেডিক্যাল কলেজ বাড়ছে সে হারে আমরা শিক্ষক তৈরি করতে পারিনি। শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে শিখতে পারছে না। হয়তো পরীক্ষা পাসের জন্য পড়ছে। কিন্তু নিজে নিজে পড়ে আর কতটুকু শিখতে পারে। মেডিক্যাল শিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের আরো অনেক কিছু করতে হবে। শিক্ষকহীন শিক্ষা ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া চিকিৎসকেরা সুচিকিৎসা দিতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশে মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। বিএমডিসির কিছু ক্রাইটেরিয়া ঠিক আছে। ক্রাইটেরিয়াগুলো পূরণ না করতে পারলে শিক্ষার মান নিম্নমুখী হবে। বিএমডিসির নির্ধারিত শর্তগুলো বেশির ভাগ মেডিক্যাল কলেজ পূরণ করতে পারছে না বলেই আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বরং মেডিক্যাল কলেজগুলো গোঁজামিল দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আবার দুঃখজনক ব্যাপার হলোÑ বিএমডিসি এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে এবং স্বীকৃতিও দিয়ে থাকে। বিএমডিসি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে পরিদর্শনে যায়। কিন্তু তারা যদি আগে থেকে জানান না দিয়ে পরিদর্শনে যান তাহলে তারা অনেক কিছু দেখতে পাবেন, এটি হচ্ছে না। এটিই কিন্তু নিয়ম, বিদেশে তাই হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই, মেডিক্যাল কলেজগুলোতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। তা সত্ত্বেও নতুন করে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। যেখানে আগের মেডিক্যাল কলেজগুলোতে শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে নতুন মেডিক্যাল কলেজে কোথা থেকে শিক্ষক আসবে এটি আমরা মাথায় ধরে না। ধরুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে কিছু শিক্ষক অবসের গেলেন তারা এখানে আসবেন। এ সংখ্যাও যথেষ্ট নয়। তাহলে প্রমাণ হয়ে গেল যে, শিক্ষক স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও নতুন মেডিক্যাল কলেজের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এ প্রবণতা বন্ধ করা উচিত মেডিক্যাল শিক্ষার উন্নতির জন্য।
নয়া দিগন্ত : বিদেশে গবেষণা কাজে সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের উৎসাহিত করা হয়। বাংলাদেশে গবেষণা কর্মে চিকিৎসকেরা কতটা কাজ করছেন?
মোজাহেরুল হক : বিদেশে চিকিৎসকেরা গবেষণা করেন অনেকটা বাধ্য হয়েই। গবেষণা না থাকলে, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা জার্নালে প্রকাশনা না থাকলে মেডিক্যাল শিক্ষকেরা পদোন্নতি পান না। সেখানে গবেষণা কাজে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেয়া হয়। বাংলাদেশে গবেষণা কাজে কিছু সহায়তা করা হয় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কিন্তু এটি খুবই নগণ্য। চাকরি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ও গবেষণা কর্ম থেকে প্রাপ্ত প্রণোদনা দিয়েই একজন চিকিৎসকের চলে যায়। তাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে গবেষণা কাজে কোনো প্রণোদনা নেই। গবেষণা না থাকলে এখানে পদোন্নতি আটকায় না। তবে পদোন্নতির জন্য বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশনা থাকতে হয়। এটিও হয় কিন্তু এগুলো খুব বেশি মান সম্মত নয়। বেশিদূর যাওয়ার দরকার নেই। আমাদের পাশের দেশ ভারত ও নেপালেই তা হচ্ছে। দিল্লির এইমসের চিকিৎসকেরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন না, তারা গবেষণা করে থাকেন প্রচুর। আবার নেপালের ইনস্টিটিউট অব মেডিসিনের ডাক্তাররা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন না। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। আমি জানি, কিছু শিক্ষক গবেষণাই করতে চান। তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে চান না। সম্মানজনক পন্থায় টিকে থাকার জন্য তারা প্র্যাকটিস করে থাকেন। সরকারকে গবেষণায় পর্যাপ্ত অর্থ দিতে হবে। তাহলে আমাদের দেশের চিকিৎসার মান বাড়বে।
নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশে কিছু বিদেশী চিকিৎসক কাজ করছেন বিশেষ করে ভারতীয় চিকিৎসকেরা নিয়মমিত অবাধে আসছেন, আবার নির্দিষ্ট কিছু নিজের দেশে থেকে আবারো আসছেন। এরা বিএসডিসি’র অনুমতিও নিচ্ছেন না। এ ব্যাপারে আপনি কি বলবেন ?
মোজাহেরুল হক : টেকলজি ট্রান্সফার করার জন্য আমাদের বিদেশী দক্ষ চিকিৎসকদের প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে যারা আসবেন তাদের স্বাগতম। নতুন চিকিৎসা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করার জন্য আমাদের চিকিৎসকদের দক্ষ হওয়া দরকার। কিন্তু দুঃখজনক হলো এদের অনেকেই এখান থেকে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে আসেন। বিদেশী চিকিৎসকেরা সেবা দিতে এলে তিনি চিকিৎসার দেয়ার মতো যোগ্য কি না তা বিএমডিসি কর্তৃক একটি পরীক্ষার পাসের মাধ্যমে আসা উচিত। বিএমডিসি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশের প্রত্যেক বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সরকারে এ সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক বলে মনে করেন?
মোজাহেরুল হক : শাহবাগে বন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আরো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী হবে আগে ঠিক করে নিতে হবে। যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা থাকে তাহলে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আর প্রয়োজন নেই। এই কাজটি মেডিক্যাল কলেজগুলোই করতে পারে। কিন্তু যদি উন্নত শিক্ষার প্রয়োজনে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে চায় সরকার তাহলে করা যেতে পারে। মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে কাজ করে যেতে পারে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হলে সেখানে বিশেষায়িত বিভাগ খুলে চিকিৎসা দিতে পারে।
