একটি ছড়া ও একটি কবিতা
পাখির মতো
আম্মা বলেন, পড়রে সোনা
আব্বা বলেন, মন দে;
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।
আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে,
বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কূলটায়,
দুধভরা ঐ চাঁদের বাটি
ফেরেস্তারা উল্টায়।
তখন কেবল ভাবতে থাকি
কেমন করে উড়বো,
কেমন করে শহর ছেড়ে
সবুজ গাঁয়ে ঘুরবো !
তোমরা যখন শিখছো পড়া
মানুষ হওয়ার জন্য,
আমি না হয় পাখিই হবো,
পাখির মতো বন্য।
নোলক
আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।
নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তোমার কাছে?
হাত দিও না আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।
বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে
শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছড়িয়ে থাকে।
জল ছাড়িয়ে দল হারিয়ে গেলাম বনের দিক
সবুজ বনের হরিৎ টিয়ে করে রে ঝিকমিক
বনের কাছে এই মিনতি, ফিরিয়ে দেবে ভাই,
আমার মায়ের গয়না নিয়ে ঘরকে যেতে চাই।
কোথায় পাবো তোমার মায়ের হারিয়ে যাওয়া ধন
আমরা তো সব পাখপাখালি বনের সাধারণ।
সবুজ চুলে ফুল পিন্দেছি নোলক পরি না তো।
ফুলের গন্ধ চাও যদি নাও, হাত পাতো হাত পাতো
বলে পাহাড় দেখায় তাহার আহার ভরা বুক।
হাজার হরিণ পাতার ফাঁকে বাঁকিয়ে রাখে মুখ।
এলিয়ে খোঁপা রাত্রি এলেন, ফের বাড়ালাম পা
আমার মায়ের গয়না ছাড়া ঘরকে যাবো না।
নিবেদিত কবিতা
কবি আল মাহমুদ
জাকির আবু জাফর
বকুল ডালে লুকিয়ে থাকার স্বপ্ন ছিলো তার
স্বপ্ন ছুঁতে হাত বাড়ালো তিতাস নদীর পাড়।
পাড়েই তিনি রোদ পোহাতেন মেঘের অচিন দেশে
কল্পলোকে উড়াল দিতেন হাওয়ায় ভেসে ভেসে।
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে আহা মন ছিলো না পাঠে
ইচ্ছে মতন ছুটে যেতেন নদীর ঘাটে ঘাটে।
হাওয়ার গাড়ি ছুটতো আবার জোছনা রাতের বাড়ি
পরীর পালক পরিয়ে দিতেন আকাশ-পাতাল পাড়ি।
তার হৃদয়ের জোছনা নামে কর্ণফুলীর জলে
জীবন ভরে ছিলেন তিনি না ঘুমানোর দলে।
জলপিপি আর নীল জোনাকি সঙ্গী ছিলো তার
সঙ্গী ছিলো ফুল পাখি আর আলোর অভিসার।
পিদিম জ্বলা রাত্রি এনে ঘাসের মাঠে রেখে
ছড়িয়ে দিতেন বনফুলের গন্ধ মেখে মেখে।
ছন্দফুলের রাজ্যে তিনি গন্ধময়ী রাজা
অন্ত্যমিলের সুবাস ভরা ভীষণ তরতাজা।
চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিলেন সবুজ সুখের রেশ
কিন্তু তিনি জানেন এটি বোয়াল মাছের দেশ।
