তোমরা কি লিলিয়াম ফুল দেখেছ? কিংবা এই ফুলের নাম শুনেছ? শুনলে ভালো লাগবে, এই ফুল লিলিজাতীয় ফুলেরই একটি উল্লেখযোগ্য প্রজাতি। শুধু এশিয়ায় নয়, সারা বিশ্বে সমাদৃত লিলিয়াম ফুল।
এই ফুলের আবাসস্থল এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। বেশি দেখা যায় চীন, জাপান, তাইওয়ানসহ আরো অনেক দেশে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে উত্তর গোলার্ধের শীতপ্রধান অঞ্চল এর চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী স্থান।
ফুলপ্রেমীরা শুনলে অবাক হবে, বিশ্বে ফুলবাণিজ্যে এই ফুলটি শীর্ষ ১০টি ফুলের মধ্যে চতুর্থ স্থান দখলে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের লিলিয়াম ফুল রয়েছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হচ্ছেÑ এশিয়াটিক, ওরিয়েন্টাল, মারটাগন, সিউডোলিরিয়াম ইত্যাদি। একেক ফুলের একেক রঙ ও আকৃতি। যেমনÑ মারটাগন লিলিয়াম অনেকটাই লাল, যার বোটানিকাল নাম লিলিয়াম ডিছটিচাম। সিউডোলিরিয়ামের পাপড়ি ধবধবে সাদা। বোটানিকাল নাম লিলিয়াম ওয়াশিংটনিয়ানাম।
অনেকে বলেছেন, এই ফুলের প্রজাতির যেন অভাব নেই। এসবের কিছু কিছু চাষ হয় বাণিজ্যিকভাবে। এর তালিকায় উঠে এসেছে এশিয়াটিক ও ওরিয়েন্টাল লিলিয়ামের নাম। এর চাষাবাদও নাকি মোটামুটি সহজ ও অল্পব্যয়ী। লিলিয়ামের চাষের জন্য উপযোগী প্রচুর জৈবসারসমৃদ্ধ বেলে দো-আঁশ মাটি। লিলিয়াম লিলিয়েসি পরিবারের একটি বর্ষজীবী কন্দজ ফুল, যাকে বিবেচনা করা হয় মূল লিলি হিসেবে। এ ফুল চাষ করা হয় মৃদু আবহাওয়ায়। তবে এ ফুল বেশি ও নি¤œ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। অনেক চাষি বিভিন্ন ঋতুতে তাপমাত্রার তারতম্যভেদে নেট দিয়ে শেড তৈরি করেন। তখন ফলন ভালো হয়। ফুল সংগ্রহ উপযোগী হয় কন্দ বা বাল্ব বপনের ১০০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে।
একটি খুশির খবর হচ্ছে, বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্পপরিসরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে এ ফুলের চাষ। কারণ বাংলাদেশের ফুলপ্রেমীদের কাছেও লিলিয়াম খুবই পছন্দের। নববর্ষ, একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসসহ বিশেষ দিনগুলোতে একটু চড়া দামে বিক্রি হয় লিলিয়াম। তা যাতে আরো বেশি পরিমাণে চাষ করা যায়, সেজন্য এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। ব্যাপক অবদান রাখছেন এর উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফুল বিভাগের বিজ্ঞানীরা।
তোমরা কি লিলিয়াম ফুল দেখেছ? কিংবা এই ফুলের নাম শুনেছ? শুনলে ভালো লাগবে, এই ফুল লিলিজাতীয় ফুলেরই একটি উল্লেখযোগ্য প্রজাতি। শুধু এশিয়ায় নয়, সারা বিশ্বে...
