জগতে বিচিত্র প্রাণীর মধ্যে মানুষ এক বিশেষ স্থানে অধিষ্ঠিত যা তাকে নতুনভাবে বাঁচাতে শিখিয়েছে। সে জাগতিক কাঠামোর ভেতর নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থেকে অন্যের চেয়ে অপেক্ষাকৃত সুখী থাকতে চায়। কিন্তু এই সুখের অর্থ নিয়ে চিন্তাবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কেউ কেউ মনে করে একটি সুখী শূকর হওয়া অপেক্ষা একটি মানুষ হওয়া অনেক ভালো, একজন সুখী মূর্খ হওয়া অপেক্ষা অসুখী সক্রেটিস হওয়া ভালো। কেউ কেউ মনে করেন ৫০০ বছর কুকুরের মতো বেঁচে থাকার চেয়ে এক দিন সিংহের মতো বেঁচে থাকা ভালো। কেউ মনে করেন খাঁচার ভেতর বন্দী বাঘের চেয়ে মুক্ত স্বাধীন গাধা হওয়া অনেক ভালো। তবে পরাধীনতার ভেতর যে সুখ নেই এটা সবাই স্বীকার করেন। মানুষ যেমন নিজে স্বাধীন থাকতে চায় তেমন অন্য কেউ স্বাধীন দেখতে চায়। অখণ্ড মানবতাবাদী আদর্শে মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের ফলে আসতে চাচ্ছে। আবার অখণ্ডকে খণ্ড করার জন্য আর এক শ্রেণী থাকবে। ভৌগোলিক সীমারেখা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিতে পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন জাতিসত্তায় পরিচিত লাভ করে। তবে জাতিগত বৈরিতার ইতিহাস তাকে অত্যাচারী হতে সাহায্য করে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ নানা ঘাত-প্রতিঘাতের ইতিহাস পাড়ি দিয়ে বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। পৃথিবীতে এক দেশ আরেক দেশকে এক জাতি আর এক জাতিকে দাবিয়ে রাখার প্রচেষ্টা প্রাচীন কাল থেকে লক্ষ করা যাচ্ছে। এমনকি যুদ্ধের দানবীয় তাণ্ডব মানব সমাজকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে। যারা এ ধরনের ঘটনার বিপক্ষে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ রেখেছেন তারা হয়েছেন এ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সন্তান।
মানুষ যখন তার চেয়ে শক্তিধরের কাছে নানা দিক দিয়ে অপদস্থ হয়েছে, এমনকি নিজের জীবন পর্যন্ত হারিয়েছে; তখন তারা সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিশালী কোনো কিছুর প্রত্যাশা করেছে যার কাছে সমস্ত শক্তিধর থাকবে সাধারণ। মানুষের এ চাওয়ার ফলে গড়ে উঠেছে রাষ্ট্র নামক সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি। রাষ্ট্র নামক সিংহের থাবার ভেতর সবকিছু থাকবে। দানবের উন্মাদনা তার কাছে মনে হবে তুচ্ছ। সমস্ত বাহিনী এবং সেক্টর থাকবে হাতের কব্জার ভেতর। কোনো বিচ্ছৃঙ্খলা বা অনাচার হলে সে শক্তি প্রয়োগ করবে। এই সিংহ যদি ঘাতক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে তার হিংস্রতার শক্তিমত্তা নিস্তেজ হয়ে যায়। তখন পাশবিকতার তাণ্ডবে সমাজের মানুষ ত্রাসে কাঁপতে থাকে। গজাতে থাকে বিভিন্ন আগাছা-পরগাছা। যার ফলে সুন্দর ফল ফলনের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়। রাষ্ট্রের সবকিছু থাকা সত্ত্বেও সিভিল সমাজ থেকে যদি দিকনির্দেশনা না দেয়া হয়, তাহলে দেশ নিশ্চিত মরণ চ্যানেলের দিকে যেত। আর সংবাদমাধ্যমে এই সিভিল সমাজের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। এদেশের একজন প্রবীণ সাংবাদিক একসময় দুঃখ করে বলেছেনÑ আজ দেশে এমন এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ থানা বা আদালতের কাছে যায় না, শেষ আশ্রয় হিসেবে ছুটে আসে সাংবাদিকের কাছে। অবিশ্বাস্য একটা সত্য কথা তিনি বলেছেন। কারণ নির্যাতিত মানবতার আর্তনাদ শোনার জন্য বসানো হয়েছে লোক, গড়ে তোলা হয়েছে প্রতিষ্ঠান। মানুষ মাত্র আর্তনাদ শোনার কথা। কারণ কোনো গাছপালা বা পশুপাখি মানুষের কথা শুনতে আসবে না। মানুষের কথা মানুষই শুনবে। আর মানুষ যদি কেউ না শোনে, তবে যাকে বাধ্যতামূলক শোনার জন্য বসানো হয়েছে তিনি অন্তত শোনবেন। আর তিনিও যদি কারোর ইশারায় না শোনেন, তাহলে ধরে নিতে হবে সভ্যতার সবচেয়ে সঙ্কটতম অবস্থায় আমরা এসে পৌঁছেছি। এই সঙ্কট যত ঘনীভূত হবে তত আমাদের জাতি সত্তার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তখন মানুষ আকৃতি নিয়ে বেঁচে থাকাটা বেমানন দেখাবে। অপশক্তিকে দমনের জন্য যদি এত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়, তাহলে বাকি অপরাধগুলো যাবে কোথায়? পেশিশক্তি দ্বারা সংঘটিত অপরাধের বাইরে মানুষ অহরহ হাজার হাজার অপরাধ করছে। চুরি, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ, কালোবাজারি, মদ, জুয়া, বিচ্ছৃঙ্খলা, আত্মকেন্দ্রিকতা, যৌনবিকৃতি, উন্মত্ততা, বিলাস, হিংসা, প্রতারণা, প্রভৃতি। তবে মানুষ কেন অপরাধ করে তার ব্যাখ্যা আমরা বিভিন্নভাবে দিতে পারি। মানুষ মনুষ্যত্ব ও পাশবিকতা দ্বারা সন্নিবেশিত। মানুষ যখন পাশবিকতার কাছে হার মানে, তখন হিংস্রতা এবং যান্ত্রিকতা দখল করে সৌন্দর্যের স্থান। লোভ, লালসা এবং অপ্রাপ্তি ও অপূর্ণতা মানুষকে অপরাধের দিকে নিয়ে যায। মূল্যবোধের ক্ষয় মানুষের জীবনযাত্রাকে অনিশ্চয়তা এবং বিচ্ছৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মানুষ স্বভাবতই অল্প পরিশ্রমে বেশি কিছু করতে চায়। তাই সে টাকা থেকে শুরু করে বিদ্যাচর্চা পর্যন্ত। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়লে সবার সামনে কিভাবে যাওয়া যায় তার জন্য নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে। বিভিন্ন দিক দিয়ে সুযোগ-সুবিধা লুফে নিতে চায়। তা ছাড়া অভাবে স্বভাব নষ্ট। অভাবের তাড়নায় চুরি, ডাকাতি, পতিতাবৃত্তি পর্যন্ত লক্ষ করা যায়। অনেক সময় একে অপরের চেয়ে বেশি পেলে অথবা লাভবান হলে হিংসা করতে দেখা যায়। হঠাৎ করে বেশি পাওয়ার তাড়নায় লটারি, কালোবাজারি, জুয়া প্রভৃতি অপরাধ করতে দেখা যায়। পদে দায়িত্বে অসদাচরণ এক্ষেত্রে স্বাভাবিক ব্যাপার। এ সমস্ত নীতিহীনতার জন্য দায়ী কারা? মিডিয়াকে আমরা শিক্ষক বলি। কিন্তু ইদানীং মিডিয়ায় যেভাবে ভায়োলেন্স এবং যৌনতা আলোচনা করা হচ্ছে তাতে তরুণ-তরুণীরা ধীরে ধীরে বিকৃত যৌনতা এবং হীনম্মন্যতার দিকে যাচ্ছে। নিউজ উইক, টাইমস, পত্রিকার বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর অপরাধ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। ১৯৮৮-১৯৯৩ সালের মধ্যে ওই সমাজে কিশোর আত্মহত্যার পরিমাণ পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এগুলো সব মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণ। মানুষের ইচ্ছা অনুসারে কাজ করা এবং তার পশুত্বে অপরাধ ট্রেনিং যা মনুষ্যত্বকে হার মানিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। আজ যুদ্ধের দাবানল চারদিকে জ্বলছে। মানুষের ভবিষ্যৎ কী হবে তা আজ চিন্তাবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে। আমরা সমস্ত প্রকার অসদাচরণের জঞ্জাল ছাফ করে ধরণীর বুককে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত করতে চাই। যেখানে থাকে না কোনো পাশবিকতার হিংস্রতা। অনাবিল শান্তি বিরাজ করবে।
স্বাধীনতা মানে সুনির্বাচিত অধীনতা। পাশ্চাত্যের একজন ঔপন্যাসিক লিখেছিলেনÑ যদি মানুষ স্বাধীনতা দাবি করে, তা হলে ঈশ্বর তাকে কিছুই করতে পারবেন না। এখন একজন নায়ক সারা জীবন অপকর্ম করলেন। তিনি লুণ্ঠন, হত্যা, ধর্ষণ, কিছুই বাদ রাখেননি। ঈশ্বর তাকে ধরেছেন। কিন্তু তিনি দাবি করেছেনÑ ‘আমি সম্পূর্ণ স্বাধীন’। তাই ঈশ্বর তাকে কিছুই করতে পারেননি। ঔপন্যাসিক স্বাধীনতাকে এত গুরুত্ব দিয়েছেন যে, মানব জীবনের সীমাহীন নীতিভ্রষ্টতা জলাঞ্জলি দিয়েছেন। মানুষ স্বাধীন ঠিকই। কিন্তু একটা স্মরণে রাখা দরকার যে, আত্মনিয়ন্ত্রণের যোগ্যতা যার নেই, স্বাধীনতা দাবি করার অধিকার তার নেই। স্বাধীনতা দাবি করা আগে আত্মনিয়ন্ত্রণের যোগ্যতা থাকতে হবে। মুখ দিয়ে আপনি সব কিছু বলতে পারেন না। চোখ দিয়ে আপনি সব কিছু দেখতে পারেন না। কান দিয়ে আপনি সব কিছু শুনতে পারেন না। হাত দিয়ে আপনি সব কিছু করতে পারেন না। মুখের কথার কারণে মানব সমাজকে সভ্যতার শীর্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবার এই মুখের কথার কারণে সভ্যতা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
দার্শনিক চিন্তায় বুদ্ধিজীবী শব্দটির স্থান কম। কারণ বুদ্ধিজীবী বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনামূলক ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সক্রেটিস পেট্রো এবং এরিস্টটল বুদ্ধিজীবী ছিলেন। এ কথা বললে আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা কম হয়। কাজেই বুদ্ধিজীবী, অভিজ্ঞাতাবাদ, অজ্ঞেয়তাবাদী, নাস্তিক্যবাদী, স্বজ্ঞাবাদী, দৃষ্টবাদী এসব দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে সমাজের লোক বুদ্ধিজীবী বিষয়টি নিয়ে সন্তোষ থাকতে পারে না।
লিগ অব নেশনস এবং প্যারিসে তার ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টেলেকচুয়াল কো-অপারেশনের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আইনস্টাইন বলেছেন, যুদ্ধ থেকে মানুষ জাতিকে কিভাবে মুক্তি দেয়া যায় তা ভাবার জন্য একজনকে মনোনয়ন করো। তার নাম সিগমন্ড ফ্রুয়েড়। তারা ১৯৩২ সালে একে অপরের কাছে চিঠি লেখেন। ঐতিহাসিক পত্রালাপে আইনস্টাইন একপর্যায়ে বুদ্ধিজীবীদের কথা উল্লেখ করে বলেনÑ
‘মানুষের মানসিক বিবর্তনকে কি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব যাতে করে সে বিদ্বেষ এবং ধ্বংসকামী আবেগের আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারে। এখানে আমি শুধু তথাকথিত অসংস্কৃত জনগণের কথা ভাবছি না। অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, এই সব মারাত্মক সাময়িকী উসকানির কাছে আত্মসমর্পণের প্রবণতা তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের ভেতরেই সবচেয়ে বেশি। কারণ আকাড়া অমার্জিত জীবনের সাথে পদের প্রত্যক্ষ সংযোগ নেই, জীবনের সহজতম, নিষ্কাষিত কৃত্রিম রূপটির সংস্পর্শেই তারা আসে ছাপানোর পৃষ্ঠার মাধ্যমে।’
শিল্পকারখানায় যেমন উন্নত দ্রব্যসামগ্রী প্রস্তুত হয়, তেমনি তার উপজাত হিসেবে বর্জ্য পদার্থ ও কেমিক্যাল, ঝুট ইত্যাদি তৈরি হয়, এমনটি পৃথিবীতে ব্যাখ্যা করার জন্য একজন চিন্তাবিদ বলেছিলেনÑ পৃথিবীর সমস্ত জায়গায় যদি সমভূমি থাকত, সমস্ত জায়গায় যদি ফুল ফুটত, তাহলে কতই না ভালো হতো। পৃথিবীতে গিরি, গুহা, সাগর, ঝরনা, জলপ্রপাত আছে বলে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়ছে না। আবার খাঁ খাঁ মরুভূমির কথা আমাদের ইন্দ্রীয় ছাপে মিলন হলে জগতের ভারসাম্যকে অস্বীকার করা হবে। সুতরাং মহান শিল্পী জগৎকে সেভাবে সাজিয়েছেন এবং সৃষ্টি করেছেন।
পৃথিবীতে জ্ঞানচর্চার শ্রেষ্ঠ স্থান হলো বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু আজ এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, উপাসনা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হানাহানি লেগেই আছে। আমাদের সমাজে শিক্ষার অনগ্রসরতার সৃষ্টি হয়েছে। এখানে মানুষের চিন্তাগত ত্র“টি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই ত্র“টি মানব সত্তায় অস্তিত্বে আঘাত লেগেছে। গোটা বিশ্ব শান্তির প্রত্যাশায় চিৎকার দিচ্ছে। কিভাবে আসবে শান্তি এ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার শেষ নেই। চারদিকে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা! আর এ নিয়ে বিভিন্ন মতাদর্শ ও মতামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। এত সেমিনার এত সিম্পোজিয়াম এবং আলোচনা-পর্যালোচনা হচ্ছে, কিন্তু জাতির অস্তিত্ব বিবেকের বৈকল্য এবং শৃঙ্খলতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। উন্নত দেশগুলোর নোনাধরা বাসি-পচা বিদ্যা এবং টাটকা সাহিত্য আমদানি করা হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেগুলো গেলানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা এগুলো খেয়ে বমি করছে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা আর যেন বমি করে পরিবেশ ও সমাজ নষ্ট না করে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
আমাদের শিল্প-সাহিত্য এবং চলচ্চিত্রে জাতি গঠনে অবদানের কথা সজোরে উচ্চারিত হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো অন্ধকার গলি পথে আলোর মুখ না দেখে আটকা পড়ে আছে। অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ চলচ্চিত্র এবং দায়িত্বহীন একচোখা সাহিত্য আমাদের অস্তিত্বে আঘাত হেনেছে। যার কারণে জাতীয় চেতনায় অগ্রগতিতে এর অবদান শূন্যের কোঠায়। হলিউড চলচ্চিত্রে জগতের বামপন্থী তাত্ত্বিক জন হাওয়ার্ড লসনের ভাষায়Ñ ‘স্বাধীনতার ধারণাকেই স্বাধীন করার কাজ রয়েছে সামনে।’ এখানে স্বাধীনতা ও সততার পন্থা আছে, কিন্তু পায়ে পরানো আছে বন্দিত্বের শিকল। এ থেকে মুক্তি কিভাবে সম্ভব।
ফরাসি বিপ্লব এবং রুশ বিপ্লব ছিল ভিন্নতর প্রেক্ষাপটে। ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান ছিল সাম্য (ঊয়ঁধষরঃু), ভ্রাতৃত্বিবোধ (ঋৎধঃবহরঃু) ও চিন্তার স্বাধীনতা (খরনবৎঃু), কিন্তু রুশ বিপ্লবে শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে বিচার করা হয়েছে। সুতরাং সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুসারে আন্দোলন ও সংগ্রাম পরিচালিত হয় মুক্তিকামী বাঙালি জনতা ভূখণ্ডের এবং পতাকায় পরিবর্তন চায় না, তারা চায় একটি শোষণমুক্ত ও কল্যাণকামী, শান্ত ও শান্তির স্বদেশ। তার জন্য এত রক্তপাত হয়েছিল। আমরা জানি, পৃথিবীতে যেখানে শান্তি ও স্থিতি আছে; সেখানে আছে দীর্ঘ রক্তপাতের ইতিহাস। শান্তি এমনিতেই আসে না। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যারা দেশকে স্বাধীন করেছে, সেই শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে না পারলে তাদের আত্মার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। আমরা শ্রদ্ধা জানাই তাদের প্রতি। হ