চলমান একুশ শতকের বিশ্বকে বলা হচ্ছে প্রযুক্তির বিশ্ব। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সূচনাকারী এ শতাব্দী প্রযুক্তির সর্বময়তার রূপ-রূপান্তর আমরা অবলোকন করছি অপার বিস্ময়ে এবং উপভোগ করছি সাহসী আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে। সৃষ্টি হচ্ছে অজেয়কে জয় করার নব নব অধ্যায়। প্রযুক্তির কল্যাণে সারা বিশ্ব আর বিশ্বের বিস্ময়গুলো মানুষের ধরাছোঁয়ার নাগালে এসে যাচ্ছে। প্রযুক্তিকে এখন গণ্য করা হচ্ছে জীবন আর জগতের এক অপরিহার্য অবলম্বন হিসেবে। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা আর রোবটিক্স প্রযুক্তিময় চতুর্র্থ শিল্প বিপ্লবের ব্যাপ্তিকে মোটা দাগে ছয় বা ছয় প্রযুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই ছয় হচ্ছে যথাক্রমেÑ আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি), বিটি (বায়ো টেকনোলজি বা জৈবপ্রযুক্তি), এনটি (ন্যানো টেকনোলজি বা ন্যানো প্রযুক্তি), ইটি (ইনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজি বা পরিবেশ প্রযুক্তি), সিটি (কালচার টেকনোলজি/প্রযুক্তি) ও এসটি। এই ছয় প্রযুক্তির সমন্বিত রূপ হচ্ছে জীব ও জগতের ভারসাম্যতা এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ সহায়ক কল্যাণময় বিশ্ব, যা মানব ও জীববৈচিত্র্যের জন্য কল্যাণকর। ছয় প্রযুক্তিকে সার্থক প্রয়োগ ও ফলপ্রসূ করার জন্য রয়েছে দক্ষতার প্রাসঙ্গিকতা-অপরিহার্যতা। দক্ষতাবিহীন প্রযুক্তি নিষ্ফলা ও অকার্যকর। প্রযুক্তিকে কার্যকর করার দক্ষতাগুলো হচ্ছে প্রয়োগ দক্ষতা, প্রযুক্তি ও মানবিক সম্পর্ক দক্ষতা, সমন্বিত দক্ষতা ও নেতৃত্বগত দক্ষতা। একবিংশ শতকের প্রাগ্রসরতাকে আলিঙ্গন পূর্বক পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও দক্ষতাকে সমান্তরালভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে কিভাবে বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব তার একটি ধারণা এই প্রবন্ধের সংক্ষিপ্ত কলেবরে বিধৃত হয়েছে।
একবিংশ শতকের বিশ্বায়নজনিত বৈশ্বিক-আঞ্চলিক নানা চ্যালেঞ্জ প্রতিটি দেশ-জাতীর অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতিকে বহুলাংশে প্রভাবিত করছে। এই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দ্রুত ও বর্ধিত নগরায়ণ প্রক্রিয়া, দারিদ্র্য, যুব ও শিক্ষিত বেকারত্ব, গলাকাটা প্রতিযোগিতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও পরিবেশ-প্রতিবেশ সুরক্ষা। এই চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে পুনর্গঠনের তাগিদ সৃষ্টি করছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাসহ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি কিভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা উপযোগী ও কার্যকর হবে সেই প্রেক্ষাপটে ‘ইষঁব ঙপবধহ ঝঃৎধঃবমু’ নামে একটি নতুন কৌশলপত্র উদ্ভব হয়েছে (ড.ঈযধহ করস এবং জবহবব গধঁনড়ৎমহব, ঐধৎাধৎফ ইঁংরহবংং ঝপযড়ড়ষ চৎবংং-২০০৫)। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এই ‘ইষঁব ঙপবধহ ঝঃৎধঃবমু’ কৌশলটি হচ্ছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাজার ও চাহিদা সৃষ্টি করা। এ ক্ষেত্রে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ রবার্ট সলোর বিশ্লেষণটি প্রণিধানযোগ্যÑ ‘প্রাযুক্তিক বিকাশ মানুষকে শিখিয়েছে কিভাবে একটি কাজ আরো ভালোভাবে করা যায়, ফলে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। কিছু কিছু উৎপাদনশীলতার পেছনে নাটকীয় আবিষ্কারের ভূমিকা থাকলেও ছোট ছোট ও ক্রমবর্ধমান পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ। সেইসাথে প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াকে কিভাবে ত্বরান্বিত করা যায় তাও বিবেচনায় নিতে হবে। এই কৌশলকে কার্যকরভাবে প্রয়োগ হয় ঠধষঁব ওহহড়াধঃরড়হ-এর মাধ্যমে, যা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে চারটি প্রধান জিজ্ঞাসার মুখোমুখি করে।
এক. প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় কী অভিনব সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক ?
দুই. প্রশিক্ষণ ও শিল্পমানের সঙ্গতি সাধনে কী উদ্ভব হওয়া আবশ্যক?
তিন. প্রশিক্ষণ ও শিল্পমানের সঙ্গতি সাধনে কী হ্রাস হওয়া আবশ্যক ?
চার. প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কোন কোন অব্যবস্থা অপসারণ হওয়া আবশ্যক?
‘ইষঁব ঙপবধহ ঝঃৎধঃবমু’ প্রস্তাবি কার্যকারিতার ওপর পরিচালিত এক জরিপের তথ্যানুযায়ী ভবিষ্যতে বিশ্বের ৭০ শতাংশ জব আবর্তিত হবে উপর্যুক্ত ছয়টি প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে এবং প্রশিক্ষণ পুনর্গঠন কৌশলের মাধ্যমে পরিবর্তিত জব মার্কেটের চাহিদা পূরণ করা সক্ষম হবে।
প্রশিক্ষণ পুনর্গঠন ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিতকরণ
‘ইষঁব ঙপবধহ ঝঃৎধঃবমু’ প্রস্তাবিত ও উপস্থাপিত গ্রিডটি বিশ্লেষণপূবর্ক বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে পুনর্গঠন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা ও দুর্বল তা চিহ্নিত করা আবশ্যক।
বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এখনো সমাজে সর্বশেষ পছন্দ হিসেবে বিবেচিত। সরকারিভাবে ২০১৬ সালে ইনরোলমেন্টের হার ১৪ শতাংশ দাবি করা হলেও ওয়ার্ড ইকোনোমিক ফোরাম প্রকাশিত-২০১৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশের টিভেট ইনরোলমেন্ট ১৫-২৪ বয়স গ্রুপের আট শতাংশ এবং র্যাংকিংয়ে বিশ্বে ১২৪টি মূল্যায়নকৃত দেশের মধ্যে সার্বিক মূল্যায়নে ৯৯তম অবস্থান এবং টিভেট ইনরোলমেন্টের মূল্যায়নে ৮৯তম অবস্থান। প্রশিক্ষণের এই দুর্বল হারের সাথে মানের দিকটিও নি¤œমধ্যম সারিতে। (ওয়ার্ড ইকোনমিক ফোরাম এক্সিকিউটিভ ওপিনিয়ন সার্ভে ২০১৪-১৫ মোতাবেক বাংলাদেশের স্কোর ৩.২৯ (১= দুবর্লতম, ৭-সর্বোত্তম ভিত্তিতে) এবং তা ১৮৯টি দেশের মধ্যে ৮৯তম। অন্যদিকে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাটি এখনো শিল্প ও শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক নয়। বেসরকারি অংশিদারিত্বের প্রশ্নে, বৈশ্বিক প্রভাবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বহুমাত্রিক সীমাবদ্ধতা বিরাজমান। শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের হার দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠতম। আফগানিস্তানের (৬৭ শতাংশ) পরই বাংলাদেশের (৪৭ শতাংশ) শিক্ষিত বেকারত্ব হার (তথ্য সূত্র : ঊওট, ২০১৪)। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে ছয় লক্ষাধিক শুধু ভারতীয় কর্মী আছে যারা কাজ করছেন স্পেশালাইজড জবে। এই বিদেশী কর্মীদের বেতন-ভাতাদি স্থানীয়দের তুলনায় বহুগুণে বেশি হলেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাজার এবং চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতার কারণে তারা অপরিহার্য শ্রমশক্তি হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। বাংলাদেশ জাতীয় উৎপাদনে শ্রমশক্তির অবদান (ডলারে) ১১১ যা ভারতের তুলনায় ৬০ শতাংশ ($ ১৮৩), মালয়েশিয়ার তুলনায় চার শতাংশ ($ ২৬৬১) এবং জাপানের তুলনায় মাত্র এক শতাংশ ($ ১০৭৯৪) অবদান রাখতে পারছে। শ্রমশক্তির দক্ষতাগত তারতম্যের কারণে জাতীয় উৎপাদনে আমরা নি¤œস্তরে অবস্থান করছি।
বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে সরকারি বরাদ্দের অপ্রতুলতা উদ্বেগজনক। ২০১২ সালে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচির ( জিডিপি) মাত্র ২.৩ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের বিপরীতে টিভেট এর অংশ ১.৪ শতাংশ এবং জিডিপির বিপরীতে এই বরাদ্দ মাত্র ০.০৩২ শতাংশ। জাতীয় বাজেটে এই বরাদ্দ এশিয়া পেসিফিক দেশগুলোর মধ্যে নি¤œ বরাদ্দের দেশভুক্ত। একই অর্থবছরে ভারতের বরাদ্দ ৩.২, পাকিস্তানে ২.৯, ইন্দেনেশিয়া ৩.৭, মালয়েশিয়া ৪.৫, অস্ট্রেলিয়া ৩.৪ এবং জাপানে ৪.৯ শতাংশ। চমৎকার তথ্যটি হলো ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রণীত বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচির চার হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা এবং শিক্ষা ও জনশক্তি খাতে ৩১৬ কোটি টাকা অর্থাৎ ৭.০৯ শতাংশ। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাতে এই খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও লিপিবদ্ধ আছে। যিনি এই জাতি রাষ্ট্রের স্থপতি, যিনি এই জাতি রাষ্ট্রের সংগ্রামের অধ্যায়ে বলেছিলেনÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে শত দুর্যোগ মোকাবেলায় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, আজও আমরা তার সংগ্রামের এই চেতনাকে লালন করতে অনেক পথ পিছিয়ে আছি।
মুক্তি ও সমৃদ্ধির পথ পরিক্রমা
বৈশ্বিক-আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রশিক্ষণ পদ্ধতির উন্নয়ন মাধ্যমে জাতীয় মুক্তি ও সমৃদ্ধির পথপরিক্রমা তৈরি করা বর্তমান সরকারের অতি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি কর্মসূূচি। এর সাথে সম্পৃক্ত ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা ২০৩০ সাল নাগাদ দেশকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর যাত্রা এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা। আমাদের সামনে বড় প্রশ্ন হলো, কিভাবে আমরা উপর্যুক্ত মাইলফলকগুলো অর্জন করতে পারি এবং দেশকে মুক্তি ও সমৃদ্ধির মহাসড়কে বেগবান করতে পারি। ‘ইষঁব ঙপবধহ ঝঃৎধঃবমু’ প্রস্তাবিত কৌশলটির বাস্তবায়নে একটি ধারণা এ প্রসঙ্গে উপস্থাপন করা হলো।
সৃষ্টি
মানব সম্পদ বাংলাদেশের বড় সম্পদ। বাংলাদেশ এখন তরুণদের দেশ; শ্রমজীবী, কর্মজীবী নিরন্তর পরিশ্রমী মানুষদের অতি ঘনবসতিসম্পন্ন এক অভাবনীয় সম্পদশালী দেশ। দেশের জনকাঠামো এবং শতবর্ষের পরিক্রমায় (১৯৫০-২০৫০) তেজোদীপ্ত তারুণ্য ও কর্মজীবীদের সংখ্যা ক্রমবধির্ত হচ্ছে। নির্ভরশীলদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ২০৩০ সাল,থেকে যাচ্ছে সর্বনি¤œ নির্ভরশীলদের সাল। তার সুলক্ষণ ইতোমধ্যেই নানা পরিমাপে দৃশ্যমান হতে চলেছে। সবচেয়ে বড় কাজ, এই মানব সম্পদকে মানব মূলধনের শক্তিতে রূপান্তর করা। এই রূপান্তরের কাজে প্রথম সূত্র হচ্ছে বৈশ্বিক নাগরিক তৈরি করা যারা বৈশ্বিক কর্মজগতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গণ্য হবে। বিশ্ব নাগরিককে আমরা সূত্রের সাহায্যে সংজ্ঞায়িত করতে পারি। বিশ্ব নাগরিক = বিশ্বায়ন + বিশ্ব শ্রমবাজারের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা। পুনর্গঠিত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই বিশ্ব নাগরিক সৃষ্টি করা সম্ভব। সম্ভব বাংলাদেশকে একটি মানব শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করা। আমরা অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের ঊ=গঈ২ সূত্রটিকেও এই মানব শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার কাজে প্রমাণ করতে পারি। ব্যাখ্যাটি এমন হতে পারে, যদি গ কে গণ্য করা হয় মানব শক্তি (ঐঁসধহ ঈধঢ়রঃধষ) হিসেবে, ঈ কে গণ্য করা হয় সোস্যাল ক্যাপিটাল হিসেবে অপর ঈ কে গণ্য করা হয় কম্যুনিকেশনস এবং কানেকশনস হিসেবে, তাহলে একক মানব শক্তির সাথে সংযুক্ত সমাজ শক্তির গুণফলে সর্ব সম্মিলিত ফল হিসেবে আনবিক শেকল বিক্রিয়ার ন্যায় দক্ষ মানববন্ধনের সম্মিলিত ফলাফল বিস্ফোরণতুল্য মানবশক্তি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে চাকরিমুখী না করে উদ্যোক্তামুখী করার কর্মকৌশল ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যুবসমাজকে চাকরি প্রার্থী বানানোর ভুল ও স্থলনীতি থেকে সরে এনে তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চাকরিদাতাতে রূপান্তÍর করা সম্ভব।
উদ্ভব
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় শিল্পের চাহিত দক্ষতায় সক্ষমতা, পরিবর্তিত চাহিদা-সামঞ্জস্যতা-গ্রহণযোগ্যতা, বেসরকারি অংশীদারত্বের ও বৈশ্বিক প্রভাবের ইস্যু টিভেটের সর্বস্তরে উদ্ভব ঘটাতে হবে।
হ্রাস : দক্ষতা উন্নয়নে কমর্সূচির অধিক্রমণ হ্রাস করতে হবে এবং পুরাতন অচল বিষয়গুলো অপসারণ করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ রূপান্তরের মহাসড়ককে বেগবান ও শক্তিশালী হবে। দক্ষ টিভেট দক্ষ মানব সম্পদ দক্ষ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বিশ্বায়নের জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পন্ন বৈশ্বিক জনশক্তি সৃষ্টির মূল নিয়ামক হিসেবে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থাকে একুশ শতক ও বিশ্বায়ন উপযোগী করে প্রস্তুত করতে পারলে ২০২১-এর মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ, ২০৩০ এর শতবর্ষীয় সম্ভাবনার টেকসই উন্নয়নের বাংলাদেশ এবং ২০৪১-এ উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। আর সেটাই হোক আমাদের চলমান বর্তমান এবং আগামী দিনের অঙ্গীকার।
লেখক : যশোর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ
ইমেইল-ংুবফধুরু৬১@মসধরষ.পড়স
