‘... আগুন লেগেছে বনে বনে।’ কথাগুলো কানে এলে তখনি চোখ দেখার জন্য পাগল হয়ে ওঠে পলাশকে। রৌদ্রতপ্ত দিনের আলোয় পাতাহীন পলাশের গাছে অজস্র ফুলের সমারোহ, এ যেন সত্যি এক অবাক করা দৃশ্য। জীবন্ত গাছে যেন আগুনের উৎসব। আগুনের লেলিহান শিখায় আলোকিত চার দিক। আর সে জন্যই বোধ করি ফুলপ্রেমীরা বাংলার পলাশকে ডেকেছেন ঋষধসব ড়ভ ঃযব ভড়ৎবংঃ নামে, যার বাংলা অর্থ অরণ্যে অগ্নিশিখা। আর উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম ইঁঃবধ সড়হড়ংঢ়বৎসধ, পরিবার খরমঁসরহড়ংধব.
পলাশ শুধু এ কালে নয়, সুপ্রাচীন কালেও ছিল সমান আদরণীয়। মহাভারতের সভাপর্বে ইন্দ্রপ্রস্থ নগরীর যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে সেখানে উদ্যান আর কৃত্রিম জলাধারের পাশেও ছিল পলাশ বৃক্ষের মাতামাতি। এমনকি দুই হাজারের বেশি বছর আগে লেখা কালিদাসের সংস্কৃত নাটক শকুন্তলায় বর্ণিত প্রমোদ উদ্যানে পলাশের উপস্থিতি রয়েছে।
পলাশ মাঝারি আকৃতির বৃক্ষ। গাছ খুব কষ্টসহিষ্ণু শুকনো মাটিতে বিনা যতেœ রেখে দিলেও বেঁচে থাকে। মার্চ মাসে গাছের সব পাতা ঝরে যায় আর তখনই কুঁড়ি আসতে শুরু করে পলাশের। এপ্রিল-মে মাসে ফোটে ফুল। ফুলের কুঁড়িগুলো রক্তিম, দেখতে বাঘের নখের মতো, নস্যি রঙের মখমলের বৃতিতে ঢাকা থাকে গোড়া। ফুল ফোটে, থোকা ধরে। জাত ভেদে পলাশ ফুলের রঙ লাল, কমলা, হলুদ ও সাদা হতে পারে। পলাশের কাঠ নরম। তবে গাছের অনেক ভেষজ গুণ আছে। বিশেষ করে কচি পাতার রস দেহের লাবণ্য বাড়ায়, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বন্ধ করে ও বারোমাসি পেটের অসুখ ভালো করে।