আরিফ হোসেন
বর্ষ বরণ

কত বর্ষ এলো ধরায়
গেল কত বর্ষ,
সুখপাখিটার দেখা বিনে
থাকি সদা বিমর্ষ।
একটি ফুলও হাতের মাঝে
এলো না সে দিতে,
মনের জমা দুঃখগুলোর
ভাগটা কভু নিতে,
প্রাণ খুলে বলতে কথা,
বসতে পাশ ঘেঁষে,
রঙিন ঠোঁটের পরশ দিয়ে
রাখতে ভালোবেসে।
কেমনে বলো নতুন বছর
করব আমি বরণ?
বোশেখ এলে কেবল তাকেই
হয় যে আমার স্মরণ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ

রুহুল আমিন রাকিব
এলো রে বৈশাখ

নতুন সাজে সবার মাঝে
এলো রে বৈশাখ
শহর গাঁয়ে মেলা জুড়ে
বাজে ঢোল আর ঢাক।
ছেলে মেয়ে সবার মুখে
শুনি বৈশাখী গান
খুশির জোয়ার বাংলা জুড়ে
মুগ্ধ করে প্রাণ!
মেলায় উঠে নানান জিনিস
পুতুল,খেলনা গাড়ি
হাজার লোকের ভিড়ে সবাই
চলে সারি সারি।
খোকা খুকি ভীষণ খুশি
বাবার হাত ধরি
খেলনা কতেক কিনে সবাই
আসছে দেখ বাড়ি।
বৈশাখ জুড়ে নয়তো শুধু
সারা বছর ধরে
খুশির আমেজ এমন করে
থাকুক বাংলা জুড়ে।
সফিপুর,গাজীপুর

হাসান নাজমুল
নিদ্রাহীন সময়ের বুকে

চিরনিদ্রায় শায়িত হলে
পাখি আর ওড়ে না আকাশে;
বর্ণীল পালকগুলোয় নেমে আসে
গহীন নৈঃশব্দ্য;
নীরবতা মুছে দেয় সমস্ত দিনের শ্রান্তি,
নিদ্রাহীন সময়ের বুকে-
কেবলি ভ্রমণ করে কোলাহল;
চিরনিদ্রায় শায়িত হলে
মুছে যায় উগ্র চিহ্ন।
প্রিয়জন- ১৬১৬, সিরাজগঞ্জ

এস এ মুরাদ সরকার
আবদার
মোটা চালের ভাত, চুড়ি ভরা হাত
খয়েরি পাড়ের শাড়ি নইলে মুখ ভারি
পায়ে রূপোর খাড়– তাতেই খুশি চারু
চলে খেয়ালমত সময় গড়ায় যত।
হঠাৎ একদিন বলে, তোমার চরণতলে
একটু জায়গা দিও, আর কিছু না প্রিয়
অবাক হয়ে ভাবি এ কেমন দাবি
করবো যাকে বিয়ে সব কিছুই দিয়ে
তবে কেন এ আবদার!
এত কিছুর পরে আসার আগে ঘরে
চুপিচুপি বলে জড়িয়ে ধরে গলে
স্বর্ণ দিয়ে মোড়া, দিও জোড়া জোড়া
ঝুলন কানের দুল আর নাকের ফুল
নেই বাড়তি আবদার,এটাই দাবি তার।
প্রিয়জন ১৬৪৯ , নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢা.বি

আহাদ আদনান
ফানুসের ছায়া

আকাশ নামের বিভ্রমটা গাঢ় হতে হতে
যেদিন কৃষ্ণপক্ষের নিকষে গলে যেতে থাকে,
আর জল কাজলের মাখামাখি সন্ধ্যায় অবিরাম
মদিরার স্রোতে পিপড়াদলের পাখা খোয়ানোর উৎসব,
তখন উড়ে যায় প্যাঁচা, বাদুড়, রগরগে ফানুস,
এক জীবন-ভরতি কামনার আগুন, উড়ন্ত যৌবন।
পাখি, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী’র তবু ঘর থাকে,
‘গন্তব্য’ শব্দটা এতটা মধুরও হতে পারে,
সবচেয়ে প্রবল অথচ যার অন্ধ ছুটে চলা,
একটা যৌবন জ্বালামুখে অপচয় শুধু।
সব আগুনের ডানা থাকে না, থাকতে নেই,
নিরোধ কারাগারে ধুঁকতে হয় মিছিলে মিছিলে,
বোকা কৃষ্ণপক্ষের দর্পণে তবু পড়ে ফানুসের ছায়া
অরোধ্য ঊর্ধ্বগমন কেঁদে যায় প্রশ্ন নিয়ে,
হে জীবন, তুমি কী ছিলে, কী ছিলে।
মাতুয়াইল, ঢাকা

আবদুর রহিম খন্দকার
আগুনে আগুন জ্বলে

অন্ধ মৃত্যুকূপের ভেতর থেকে
একটানা আর্তনাদ,আগুন! আগুন!
গিরিশৃঙ্গ কাঁপে সে রাহুর দশায়।
একটু আগে যে পাখিগুলো ছিলো
বিদ্যুতের খাম্বায়,তারা আর নেই,
উড়ে গেছে নির্বাসনে।
শুধু একটা চড়ুইপাখি করুণ চাহনিতে
দু’দিনের বাচ্চাগুলো নিরুপায় হয়ে
এদিক ওদিক দেখে,
অবশেষে ঝাঁপ দেয় শূন্য থেকে,
অতঃপর থেঁতলে যায় পিচঢালা পথে।
চারিদিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী, বদ্ধ মানুষগুলো
কাঁচের দেয়াল ভাঙে।
দুরাচারী পথিকেরা সহস্র, নিযুত
সংখ্যা গরিষ্ঠেরা তামাশা দেখে,
অদূরে কাঁচের দেয়াল ধোঁয়ার কুণ্ডলী
নিরুপায় মানুষগুলো খকখক কাশে,
আগুন! আগুন! কী তীব্র আর্তনাদ!
পশ্চিম উকিলপাড়া, ফেনী