ঈদে আনন্দ করতে খুব ভালো লাগে, তাই না? তোমরা জানো, রোজার ঈদ আর কোরবানির ঈদ বলে দুটি ঈদ উদযাপন হয় বছরে। রোজার ঈদে দীর্ঘ এক মাস রোজা করে মুসলমানেরা। আর কোরবানির ঈদে মুসলমানেরা পশু কোরবানি দেয়। এখানেই শেষ নয়, রোজার ঈদের আরো অনেক বিষয় জানার আছে তোমাদের।
রোজার ঈদ মানে ঈদুল ফিতর। এটি আরবি শব্দ। রোজা ভাঙার দিন বা দিবসও বলা হয় ঈদুল ফিতরকে। রোজার ঈদকে দেশের অনেক স্থানে আদর করে মিষ্টি উৎসব, চিনি ভোজ দিবস ইত্যাদিও বলা হয়। আর এই দিনটিই হলো ১ শাওয়াল। দিনটি গণনা করা হয় হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে। তবে ৩০ দিনের বেশি হয় না রমজান মাস। অনেক সময় চাঁদের কারণে এক দিন কমবেশি হলে ৩০ দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
ইসলামী পরিভাষায় ঈদের আগের রাতটিকে ‘চাঁদ রাত’ বলা হয়ে থাকে। তবে এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে লায়লাতুল জায়েজা বা পুরস্কারের রাত। একফালি চাঁদ দেখেই ঈদের ঘোষণা দেয়া হয়।
বর্তমানে অনেক দেশে ঈদের দিনটি নির্ধারিত হয় গাণিতিক হিসাবে। আর বাংলাদেশে তা নির্ধারিত হয় চাঁদ দেখার মাধ্যমে। তবে একটি বিষয় তোমাদের অনেকের জানা নেই। তা হচ্ছে, ঈদের দিনে রোজা রাখা শুধু নিষিদ্ধই নয়, হারামও। এই দিনে একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করে। এর মাধ্যমে বিনিময় হয় ঈদের সম্ভাষণ বা শুভেচ্ছা। আর ‘ঈদ মোবারক’ হলো শুভেচ্ছাসূচক সম্ভাষণ। তোমাদের অনেকেরই জানা আছে, আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়।
এই দিনে সকালে ঘুম থেকে উঠে মুসল্লিরা মিসওয়াক করে গোসল করে। আতরÑ সুরমা লাগায়। ছোট-বড় সাধ্যমতো প্রায় সবাই নতুন জামা-কাপড় পরিধান করে। এটি ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়। ক্রমে তা বহুল প্রচলিত নিয়মে বা রীতিতে পরিণত হয়েছে অনেক দেশে। সকালে ঈদের নামাজ পড়ে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাসায় বেড়ানো শুরু হয়। পোলাও গোশত, ফিরনি, জর্দা ইত্যাদি মজাদার খাবার খাওয়া হয়। রেডিও-টিভিতে ঈদের নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়। তোমাদের অনেকেই বিকেলে বাবা-মার সাথে এদিক সেদিক বেড়াতে বের হও। অনেকে কয়েক দিনের ছুটি পেয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যায়।
বিশেষ এই দিনে আমরা যেন পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে এক হয়ে যাই। মহান আল্লাহ এমনটি খুবই পছন্দ করেন। এটি সওয়াবও। এই দিনে দরিদ্রদের মুখে উন্নত খাবার তুলে দেয়ারও রেওয়াজ আছে। রোজার ঈদে আরেকটি মজার বিষয় হলো বকশিশ। এটিকে সালামিও বলা হয়ে থাকে। বিশেষ করে বড়রা ছোটদের টাকাপয়সা দিয়ে থাকে। অবশ্য এটি ধর্মীয় বা ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়।
ঈদের সরু চাঁদ দেখামাত্রই মানুষের মুখে ও গণমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় একটি গান বেজে ওঠে। তা হলো কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ও সুর করা গান-
‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে
এল খুশির ঈদ।’
