কদমতলায়
প্রজীৎ ঘোষ

বর্ষাকালে কদম ডালে
ফোটে কদম ফুল;
বর্ষারানীর সে নাকি হয়
মিষ্টি কানের দুল!

কদম ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে
নেচে ওঠে মন;
আষাঢ় এলে ধরায় আসে
কদম ফোটার ক্ষণ।

সব শিশুরা মেতে উঠি
কদম ফুলের গন্ধে;
কদমতলায় নাচ জুড়ে দেই
তা থৈ তা থৈ ছন্দে।

বিশ্বকাপ
হুমায়ুন আবিদ

বিশ্বকাপে খেলছে স্বদেশ
চারটি বছর পরে
সকল মানুষ দেখছে খেলা
জয়ের আশা করে।

ব্যাটে বলের দারুণ লড়াই
চলছে খেলার মাঠে
খেলার বাজি চলছে জোরে
গাঁও গেরামের হাটে।

একটা জয়ে দুঃখ কাটে
হাসি ফুটে মুখে
লাল সবুজের পতাকাটা
জড়িয়ে নিই বুকে।

জয় পরাজয় থাকবে আছে
খেলার অংশ জুড়ে
খেলা শেষে কারো হাসি
কারো হৃদয় পুড়ে।

ডিং ডাং ডিং
শেখ আবদুল্লাহ নূর

ডিং ডাং ডিং;
ইয়া বড় ম্যাঁওটার,
তিনটা শিং।

ডান শিং চুঁখা চুঁখা,
বাম শিং ভোঁতা;
কপালের শিং দিয়ে,
জোরে মারে গুঁতা।

কালি মাখা গাও তার,
খালি পায় হাঁটে;
দাঁত দিয়ে আখরোট,
কুঁট কুঁট কাটে।

কালো দুই চোখ তার,
বোঁচা দুই নাক;
দরজার কাছে এসে,
জোরে দেয় হাঁক।

হাঁক দিয়ে কয় কি,
ম্যাঁও দেখে ভয় কি?
দরজার খিল...
খুলে দে; তা না হলে,
মেরে দেবো কিল।

কিল খেয়ে ল্যাংড়াবি,
টিং টিঙা টিং।
ইয়া বড় ম্যাঁওটার,
তিনটা শিং।

বন্যা
আবদুস সালাম
বিপদসীমার উপর দিয়ে
বইছে নদীর পানি
আসছে ধেয়ে বন্যা দেশে
বাড়ছে পেরেশানি।

খুব ভয়ংকর রূপটা যে এর
যাচ্ছে পাওয়া টের
যাচ্ছে ভেসে পুকুর-নালা
চিংড়ি মাছের ঘের।

পশুপাখি ক্ষেতের ফসল
গোলার সকল ধান
রাস্তা-ঘাটও পানির নিচে
বন্ধ সড়ক যান।

ঘরের ভিতর হাঁটু পানি
কলার ভেলায় রান্না
বানভাসি ওই মানুষগুলোর
থামবে কবে কান্না?

আমরা যারা ভালো আছি
বাড়িয়ে দেব হাত
এই বিপদে থাকবো সবাই
দুর্গতদের সাথ।

চলনবিলের গাঁও
আরিফ বখতিয়ার

একটা পুঁটি ছোঁ মেরেছে
মাছরাঙার ছা,
তাই না দেখে আঁতকে ওঠে
শোল-বোয়ালের মা।

চলনবিলের বোয়াল মাছ
ডিম পেড়েছে কাল,
আটকে গেছে নদীর পানি
এবং নায়ের হাল।

হাল ছেড়েছে, পাল ছেড়েছে
ঝিরঝিরানি বাও,
খোকন সোনা আঁকলো বসে
চলনবিলের গাঁও।