গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্র হত্যার এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটে। সেই রাতে বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতকর্মী। একটি স্ট্যাটাস দেয়ার অপরাধে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবরারকে তার ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে প্রথমে তার ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জার চেক করে। আগের দিন আবরার ফেসবুকে দেয়া ওই স্ট্যাটাসে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, ভারতকে মংলাবন্দর ব্যবহার, ফেনী নদীর পানি দেয়া ও বাংলাদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস রফতানি নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেছিলেন। আবরার কেন এই স্ট্যাটাস দিলেন সে কারণে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতারা তাকে কথিত শিবিরকর্মী হিসেবে চিহ্নিত করে বিরতিহীনভাবে পালাক্রমে পেটাতে থাকে। এই কাজে তারা ব্যবহার করে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প ও স্কিপিংয়ের প্লাস্টিকের দড়ি। লোহার রড ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে। খুনিরা সর্বশক্তি দিয়ে টানা ৬ ঘণ্টা আবরারের পায়ের পাতা থেকে সারা শরীরে পিটিয়েছে। পেটাতে পেটাতে কেউ ক্লান্ত হয়ে গেলে, সে জিরানোর জন্য বিরতি নিয়েছে। অন্য দুর্বৃত্তরা তখন পেটাতে শুরু করেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি মারা গেছেন! প্রচণ্ড নির্যাতনের একপর্যায়ে আবরারের দেহ নিথর হয়ে যায়। এভাবে ঠাণ্ডা মাথায় বুয়েটের মতো দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন ছাত্রকে নৃশংসভাবে খুন করা হলো, যা কোনো সভ্য রাষ্ট্র কল্পনাও করতে পারে না। মনুষ্যত্ব ও মানবিকতার লেশমাত্র থাকলেও কেউ এভাবে একজন সহপাঠীকে হত্যা করতে পারে না, যা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেখিয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, খুন করার পর আবরারের লাশ গুম এবং আলামত নষ্ট করার চেষ্টাও করে ছাত্রলীগের নেতারা। তারা হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসি টিভি ফুটেজ মুছে (ডিলিট) দেয়। পরে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধার করেন। আবরারকে পেটানো হচ্ছে, খবর পেয়ে চকবাজার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন ফোর্স নিয়ে শেরে বাংলা হলে গেলে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল তাকে ফটকে বসিয়ে রাখে। হলে ঢুকতে দেয়নি। পুলিশ বলেছে এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে ছাত্রলীগের ২৪-২৫ জন নেতাকর্মী। এরই মধ্যে পুলিশ ১৯ জনকে চিহ্নিত করে মামলা দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দোষ স্বীকার করে নির্যাতনের যে বর্ণনা দিয়েছে তা লোমহর্ষক। ঢাকা মেডিক্যালের ময়নাতদন্ত রিপোর্টেও আবরারের সারা শরীরে অসংখ্য জখমের কথা উল্লেখ করা হয়।
ভিন্নমত বা সমালোচনা শুধু গণতন্ত্র নয়, সভ্য সমাজেরও অপরিহার্য অংশ। কিন্তু ফেসবুকে সামান্য ভিন্নমত প্রকাশ করতে গিয়ে নির্মম মৃত্যুর শিকার হলেন আবরার। তিনি দেশপ্রেমের তাগিদে ফেসবুকে সামান্য স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তার মনে হয়েছিল ভারতের সাথে যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সম্প্রতি হয়েছে তা দেশের স্বার্থের বিপক্ষে গেছে। তাই তিনি একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে ছোট্ট এ প্রতিবাদটুকু করেছিলেন। কিন্তু সেটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
আবরারের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে পরে বুয়েট ও হল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের যে ভূমিকা ছিল, তা খুবই ন্যক্কারজনক। এ ক্ষেত্রে তারা যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য। যে কেউ অবাক হবেন বুয়েট প্রশাসন এটাকে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে করেনি। হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েট প্রশাসন থেকে যে ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তি’ দেয়া হয় তাতে বলা হয়, আবরার ফাহাদের ‘অনাকাক্সিক্ষত’ মৃত্যুতে একটি জিডি করা হয়েছে। বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামও চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন, যা অমার্জনীয়। ভিসি এতটাই দায়িত্বহীন কাজ করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে সন্তানতুল্য একজন শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হলো অথচ তিনি ঘটনাস্থল কিংবা জানাজায় যাওয়ারও প্রয়োজনবোধ করেননি। অথচ ভিসি হিসেবে তিনি প্রত্যেক ছাত্রের অভিভাবক। লজ্জার বিষয় তিনি বলেছেন, এ সময় তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সাথে নাকি বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। এ আচরণের নিন্দা জানানোর কোনো ভাষা নেই।
যেকোনো জরুরি পস্থিতিতে পুলিশের প্রধান কাজ হলো ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে উদ্ধার করা। কেউ যখন মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকেন কিংবা কারো শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তখন তাকে উদ্ধার করা। অথচ এ ঘটনায় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েও কোনো ভূমিকা রাখেনি। ছাত্রলীগ নেতার কথা অনুযায়ী সুবোধ বালকের মতো হলের ফটকে অবস্থান করেছে। এটা কোনোভাবেই মানা যায় না।
আবরার হত্যা এবং র্যা গিংসহ নানা কায়দায় ছাত্রলীগের নির্যাতনের প্রতিবাদে বুয়েটের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ১০ দফা দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন করছেন। তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৯ জনের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে এবং তদন্ত করে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং আবরারের পরিবারকে ক্ষতি পূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন, ১৯ জন খুনিকে স্থায়ীভাবে বুয়েট থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত তারা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। তাদের দাবির সাথে বিবেকবান দেশবাসী একাত্ম। তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়। ইতঃপূর্বে আমরা বিচারের নামে প্রহসন দেখেছি। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর সদরঘাটের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ক্যাডাররা বিশ্বজিৎকে চাপাতি দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছিল সবার চোখের সামনে। সাক্ষ্যপ্রমাণ যথেষ্ট ছিল। কিন্তু বিচারের এক প্রহসনের পর অনেক অপরাধী পার পেয়ে যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ হাতুড়ি দিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নারকীয় সন্ত্রাস চালিয়েছিল। তাদের বর্বরতার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার আজো হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতেই ৬৮ বার সময় নেয়া হয়েছে। গত ১০ বছরে এমন কোনো অপরাধ নেই, যার সাথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিল না। অতি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল মিছিল বের করলে তাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। হামলার পক্ষে সাফাই গেয়ে ছাত্রলীগ নেতারা প্রকাশ্যে নির্লজ্জভাবে বলেন, ছাত্রদল কেন খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দিয়েছে, এ জন্যই হামলা করেছি। এর কোনো বিচারও হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় তাদের পদচ্যুত করা হলেও আজ পর্যন্ত মামলা হয়নি এবং চাঁদার টাকা উদ্ধার হয়নি। ইতঃপূর্বে আমরা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ক্যাডার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্ত হতে দেখেছি। তাই আমাদের আশঙ্কা ও ভয় হয়, আবরারের হত্যাকারীদের ক্ষেত্রেও এর পুনরাবৃত্তি হয় কি না।
বুয়েটে এই দানবীয় হত্যাকাণ্ড, পিটিয়ে মানুষ মারা নতুন কোনো ঘটনা নয়। আগেই বলেছি, গত ১০ বছরে এ ধরনের অজস্র ঘটনা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগ ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই দানবকে রোখার যেন কেউ নেই। সহিংস র্যা গিং (শারীরিক নির্যাতন), ভয়ভীতি প্রদর্শন, চড়থাপ্পড় মারা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য করা, টর্চার সেল স্থাপন করে নির্যাতন, গণরুম কালচার, ইত্যাদি বুয়েট থেকে শুরু করে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করেছে ছাত্রলীগ। ‘শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি’র স্লোগান দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে ছাত্রলীগ; সেই ছাত্রলীগ মানেই এখন খুনোখুনি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগবাণিজ্য, ভর্তিবাণিজ্য, ধর্ষণ এবং আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপকর্ম। শুধু প্রতিপক্ষের ছাত্র সংগঠনই নয়, নিজেরা নিজেরা অর্থাৎ ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ হচ্ছে সব জায়গায়। প্রথম আলোর ৮ অক্টোবর ২০১৯-এর এক রিপোর্টে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ছাত্রলীগের নিজেদের কোন্দলে ৩৯ জন নিহত হয়। আর এই সময়ে ছাত্রলীগের হাতে প্রাণ হারান অন্য সংগঠনের ১৫ জন ছাত্র। প্রথম আলোর আরেক রিপোর্টে বলা হয়, গত ১০ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আটজন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারজন এবং সিলেট শাহজালাল, লিডিং ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে একজন করে মোট ১৫ জন খুন হলেও কোনো বিচার হয়নি। একই পত্রিকার ১২ অক্টোবর ২০১৯ উপসম্পাদকীয়তে বলা হয়, স্বাধীনতার পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১৫১ জন শিক্ষার্থী খুন হয়। বড় দাগে এই খুনের রাজনীতি চালু করে ছাত্রলীগই ১৯৭৪ সালে মুহসিন হলে আলোচিত ‘সেভেন মার্ডার’ ঘটিয়ে। এ ছাড়া ১৯৭৩ সালে ডাকসু নির্বাচনে ব্যালটবাক্স ছিনতাই ও মারামারি করে সুস্থ ছাত্র রাজনীতির সর্বনাশ শুরু হয় তখন থেকেই। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে হাজির না থাকা এবং লীগের বড় ভাইদের সালাম না দেয়ার মতো তুচ্ছ কারণেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে। হলগুলোতে স্থাপিত টর্চার সেলে ধরে নিয়ে তাদের নির্যাতন করা হয়।
আবরারকে শিবিরকর্মী বলে হত্যার যৌক্তিকতা উপস্থিত করেছে ছাত্রলীগ নেতারা, যা তাদের ফ্যাসিস্ট চিন্তাভাবনা ও তৎপরতারই পরিচায়ক। ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করলেই তাকে শিবিরের লোক বলে চিহ্নিত করা এখন তাদের কালচারে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রভৃতি আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনসহ খোদ আওয়ামী লীগে এখন লুটপাট, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে। শীর্ষ নেতারা যতই লম্বা-চওড়া কথা বলুন, সত্যকে আড়াল করা যাবে না। যুবলীগের ক্যাসিনো ব্যবসায়, মাদক ও চাঁদাবাজি নিয়ে এখন তোলপাড় হচ্ছে। যুবলীগ ছাত্রলীগেরই পরবর্তী সংস্করণ। যুবলীগ নেতা সম্রাটের অফিসে টর্চার সেল উদঘাটন করেছে র্যা ব। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে এই সেলে এনে নির্যাতন করা হতো। স্তম্ভিত হওয়ার মতো বিষয় মানুষের দানে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের নির্মিতব্য ভবনের জন্যও সম্রাট চাঁদা দাবি করেছিল। সম্রাটের সাথে লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে দলটির অনেক বড় নেতারও।
দেশে আজ গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই, ভোটের অধিকার নেই। নেই বাক, ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। সুশাসন নির্বাসনে চলে গেছে। বিচারের বাণী আজ নীরবে নিভৃতে কাঁদছে। দেশব্যাপী ক্ষমতাসীনেরা এমন কর্তৃত্বপরায়ণ শাসন কায়েম করেছে, যার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পর্যন্ত সাহস পাচ্ছে না। পেটোয়া বাহিনী দিয়ে সব দমন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে। সারা দেশে আজ খুন, গুম, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন মহামারী আকার ধারণ করেছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে দুই হাজার ২৩৬ জন। এ সময় গুম হয়েছে ৫৩৭ জন এবং ধর্ষণের সংখ্যা সাত হাজার ৭৮৫ জন। জিম-মিম-তনু-মিতু-খাদিজা-নুসরাতদের আহারাজিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্টে বলা হয়, গত ৯ মাসে এক হাজার ৬৪৪ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। শেয়ারবাজার লুট করে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে পথে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যাংক সেক্টরে চলছে হরিলুট। বড় বড় প্রকল্পের নামে লুটপাট হচ্ছে। বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ভয়াবহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চরম নির্যাতন ভোগ করছেন। এমন কোনো অমানবিক আচরণ নেই, যা তার সাথে করা হচ্ছে না। বিনা অপরাধে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলায় তাকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে অমানবিকভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে। ৭৫ বছর বয়সের প্রবীণ এই নেত্রী আজ ভীষণ অসুস্থ। হুইল চেয়ার ছাড়া তিনি চলাফেলা করতে পারেন না। কারো সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারেন না। তাকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। আদালতে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জামিন পাওয়া তার অধিকার; কিন্তু তিনি জামিন পাচ্ছেন না।
দেশের মানুষ আজ এক বিভীষিকাময় রাজত্বে বাস করছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য গণতান্ত্রিক শাসনের বিকল্প নেই। গণতন্ত্র এবং সুশাসনই দেশকে অরাজক পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে পারে। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলেই আজ দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে তার অবসান হবে। তাহলেই আবরারের মতো মেধাবী ছাত্রদের আর হত্যার শিকার হতে হবে না। তনু-মিতু-খাদিজা-নুসরাতদের আর অমানবিক ধর্ষণের শিকার হতে হবে না। আর সুশাসন নিশ্চিত না হলে অরাজকতা চলতেই থাকবে। তাই সুশাসনে নিশ্চিত করতে দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা আজ বড় প্রয়োজন। হ
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব
গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্র হত্যার এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটে। সেই রাতে বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার...
