আবরার ফাহাদ নামে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র মারা গেছে। তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। ছেলেটি কুষ্টিয়ার কুমারখালির এক গ্রাম থেকে অদম্য মেধা আর এক বুক স্বপ্ন নিয়ে পড়তে এসেছিল ঝাঁ চকচকে রাজধানীর নামী শিক্ষায়তন বুয়েটে। কোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় তাকে কেউ হারাতে পারেনি। কিন্তু সে বেছে নিয়েছিল বুয়েট। অনেক দূর যাওয়ার সাধ তার। মা তাকে বলেছিল, ‘বাবা তুই ডিসি হ। আমাকে সবাই বলবে ডিসির মা।’ আবরার হেসে বলেছিল, ‘মা তুমি আমার কাছে এত কম চাও কেন?’ তার চাওয়া, মায়ের চাওয়া কোনোটাই পূর্ণ হলো না। ঘাতকরা হতে দিলো না।
কিছু দিন আগে ছেলেধরা সন্দেহে এক মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে জনতা। তিনি একজন সিঙ্গেল মাদার। দুটো সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন। স্বামী তার কোনো খোঁজখবর নিত না, আর্থিক সাহায্যও করত না। তিনি সন্তানের ভর্তির খবর নেয়ার জন্য স্কুলে গিয়েছিলেন। কেউ একজন বলল, তিনি ছেলেধরা। ব্যস পিটুনি শুরু হয়ে গেল। মহিলা বলারও সুযোগ পেলেন না, তিনি ছেলেধরা না, এক অসহায় মা। নিজে বাঁচলে তবে তার সন্তানরা বাঁচবে।
পেছনে ফিরলে আমরা দেখব আরো অনেক অনেক আবরার আর অসহায় মা-বোনকে। নিশ্চয়ই আপনাদের মনে পড়ছে বিশ্বজিৎকে পিটিয়ে মারার দৃশ্য! ও দৃশ্য তো ভোলার না।
ঘটনাগুলো দিনের পর দিন অবলীলাক্রমে ঘটছে এবং এর প্রবণতা ও নৃশংসতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কে কতটা নতুন উপায়ে নৃশংসতার সাথে হত্যা করতে পারে তারই যেন পাল্লা চলছে!
আবরারকে পিটিয়ে মেরেছে তার বন্ধুরা। তারাও মেধাবী ছাত্র। একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য তারা। তাদের অনেকে ধরা পড়েছে। সাময়িকভাবে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু তার পর? তার আর পর নেই, নেই কোনো ঠিকানা! আবরার হত্যার পর পত্রপত্রিকা, ইলেকট্রনিকস আর সোস্যাল মিডিয়া উপচে পড়েছে আবরারকে নিয়ে লেখায়। কেউ তাকে নিয়ে কবিতা লিখেছে, কেউ মনের কথাগুলো প্রকাশ করেছে, কেউ খুনিদের বিচার দাবি করেছে, কেউ এই সমাজে, এই পরিবেশ তাকে বাঁচাতে না পারার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। ক্ষোভে আর বেদনায় ফুঁসে উঠেছে সারা দেশ। তার প্রকাশ এই লেখাগুলো। লক্ষ্য আবরার। আবরার হত্যার পর এই ক’দিনে তাকে নিয়ে যে লেখা হয়েছে তাতে অনেক মহৎ সৃষ্টির উপাদানও আছে। ফেসবুকে এক কবি একটি মর্মস্পর্শী কবিতা লিখেছেন। তার কয়েকটা লাইন এমন,
দুমড়ে মুচড়ে স্বপ্নের মাথা
আকাশ ছোঁয়ার সাধ
বাবা তুমি প্রস্তুত করো
তোমার চওড়া কাঁধ
আগে চড়েছিল ছোট আমিটা
এবার আমার লাশ।
পশ্চিম বাংলার কবি সৌমিত বসু লিখেছেন,
খবরটা কাগজে পড়েছি,
পড়েছি প্রতিবেশেীদের ফেসবুক পোস্ট-এ
তবু যেটুকু সহানুভূতি না জানালে নয়,
যেটুকু না জানালে প্রগতিশীল খ্যাতি চলে যেতে পারে,
সেটুকু জানিয়েছি
উচিত দূরত্ব থেকে,
কারণ নিজের তো নয়, প্রতিবেশী, তাই!
এমন ঘটনা নিজের যে ছিল না
তা কিন্তু নয়
এভাবেই তাড়া করে শ্রীরাম বলিয়ে নেয়া
এভাবেই তাড়া করে গণপিটুনির ইতিহাস
এখনো জ্বলজ্বল করে চোখের ওপর
তবুও হাজার হোক এবার তো প্রতিবেশী,
তাই সন্ধ্যা হলে রোজকার মতো
ছেলে করে পড়াশুনা, মেয়ে যায় গানে।
(গণরোষ, সৌমিত বসু)
এ কবিতায় মারধরের একটি আন্তর্জাতিক চরিত্র ফুটে উঠেছে। একক কোনো দেশ নয়, কমবেশি সব দেশই আজ নৃশংসতার আগলবন্দী। তাই তার দেশেও মারধর করে ‘শ্রীরাম’ বলানো হচ্ছে। গণপিটুনি দেয়া হচ্ছে। ফুটে উঠেছে অন্যের প্রতি নির্লিপ্ততা আর উদাসীনতার চিত্রও। পশ্চিম বাংলার তরুণী তনুস্রী রয় বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোবাসার কথা জানিয়ে আবরারকে নিয়ে একটি আবেগঘন স্টাটাস দিয়েছেন। তিনি বিস্মিত হয়ে লিখেছেন, ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে কিভাবে একটা ছেলেকে পিটিয়ে মারা যায়!
কেন এমন হচ্ছে তার গভীরে যদি আমরা যাই দেখব নীতিহীনতা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, হতাশা আর হঠাৎ বড়লোক হওয়ার প্রবণতা থেকে জন্ম নিচ্ছে সর্বগ্রাসী অস্থিরতা, অসহিষ্ণুতা, পরমতের প্রতি অশ্রদ্ধা। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বাড়িয়ে দিচ্ছে এই প্রবণতা। তাই প্রতিদিনই ভয়াবহ কোনো না কোনো ঘটনা ঘটছে। আর প্রতিটি ঘটনাই চলে আসছে সাহিত্যে।
দিন কয়েক আগে দেশের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল ক্যাসিনো। দেশে যে ক্লাবের আড়ালে এত এত ক্যাসিনো আছে তা যারা এর সাথে জড়িত আর যারা এদের লালন পালন করে তারা ছাড়া অল্প লোকই জানত। সম্রাট নামে এক লোক বস্তা বোঝাই টাকা নিয়ে জুয়া খেলতে যেত সিঙ্গাপুরে। সেখানে এয়ারপোর্টে তার জন্য লিমুজিন দাঁড়িয়ে থাকত। সবচেয়ে অভিজাত হোটেলে থাকত সে। সে দেশেও সে ভিআইপি কাস্টমার। এই ক্যাসিনো, সম্রাট বা তার চেলা চামুন্ডাদের নিয়ে গত এক মাসে প্রিন্ট ইলেকট্রনিকস আর সোস্যাল মিডিয়ায়, যা লেখা হয়েছে তা একসময় এ দেশের এ সময়ের ইতিহাস হয়ে থাকবে। জুয়া খেলা নিয়ে বিখ্যাত বিখ্যাত বই আছে। দস্তয়েভস্কির ‘জুয়াড়ি’ তার একটি। কিন্তু দুঃখ এটাই, সে জুয়াড়ির জন্য কষ্ট হয় আর এ জুয়াড়িরা আমাদের কলজে উপড়ানো ট্যাক্সের টাকা নিয়ে বিদেশে জুয়া খেলে।
সামাজিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, অর্থনীতি, রাজনীতির প্রতিফলনই সাহিত্য। সে কারণেই বলা হয় সাহিত্য সমাজের দর্পণ। তাই যখন আবরারের কষ্টে দেশ ভাসছে তখন কিন্তু খুব অল্পসংখ্যক মানুষই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে বা সাজগোজ করে ছবি পোস্ট দিতে পেরেছে। পারেনি কারণ মানুষ হিউম্যান বিইং! যারা হত্যা করে তারাও মানুষ আর যারা কাঁদে তারাও মানুষ।
আমাদের সাহিত্যের পূর্বাপর খতিয়ে দেখলে দেশের প্রতিটি নৃশংসতা নির্মমতা,আর্তনাদ, আন্দোলন-সংগ্রামের চিত্র সেখানে পাবেন। পাবেন দৈনন্দিন জীবনচিত্রও। পেঁয়াজ বা লবণের দাম বাড়লেও তা সাহিত্যের উপজীব্য হয়ে যায়। সমাজের প্রতিটি খুঁটিনাটি মানুষকে স্পর্শ করে। আর সামাজিক মানুষই সাহিত্য রচনা করে। গুহাশ্রয়ী বা জঙ্গলবাসী মানুষ নয়। কারণ সাহিত্যের প্রয়োজন পাঠক।
সাহিত্য সত্য কথা বলে, প্রতিবাদের কথা বলে, দ্রোহের কথা বলে, যুদ্ধের কথা বলে। সাহিত্য সৎ চিন্তা সৎ কাজ করতে শেখায়। যদি সাহিত্যিকরা সৎ থাকেন আর সৎ চিন্তা থেকে লেখেন তবেই উপরের কথাগুলো খাটে। সাহিত্যিক যদি কারো পিঠ চাপড়ানোর জন্য বা হাঁটু চুলকানোর জন্য লেখেন সেটা সাহিত্য হয় না। ফরমায়েশি ‘চোঁতা’ হয়। আমাদের দেশে একটা প্রচলিত ধারণা আছে, সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখা হবে কলাম। গল্প উপন্যাস কবিতার বিষয় হবে চিরায়ত। আমি সমসাময়িক আর চিরায়ত শব্দ দু’টির অর্থ আলাদা করতে পারি না। বুঝি না দুটোর পার্থক্য। আমার কাছে যেটা সমসাময়িক সেটাই চিরায়ত। যেটা চিরায়ত সেটাই সমসাময়িক।
আমাদের দেশে এমন একটিও কি ঘটনার আছে যা বার বার ঘটে না? আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা কি বারবার ঘটে না? নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনা কি বারবার ঘটে না? কিংবা গ্রেনেড আক্রমণ? প্রধানমন্ত্রীকে কতবার গ্রেনেড দিয়ে মারতে চাওয়া হয়েছে ভেবে দেখুন। অর্থাৎ এগুলো কোনোটাই সমসাময়িক নয়। আবার ধরুন দুর্নীতি রাহাজানি কালোবাজারি দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি এগুলো কি সমসাময়িক বা সাময়িক? আমি জানি আপনারা এবার আর হ্যাঁ না বলতে পারবেন না। কিংবা ধরুন বেকার সমস্যা বা জানজট? আসল কথা হচ্ছে আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত অনেক ভালো ভালো ঘটনা ঘটছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা অসাধারণ ভালো রেজাল্ট করছে, তারা পাহাড় জয় করছে, নতুন নতুন উদ্ভাবনা করছে, দেশে নানা ভ্যারাইটির ফসল ফলছে, কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে এটিও যেমন সত্য, এটিও সত্য যে, আমাদের দেশটা নৃশংসতায় ছেড়ে গেছে। আর এই উভয় বিষয়াদি সাহিত্যে এসেছে, আসবেই। সাহিত্যে না এলে ওই সময়টার কথা পরবর্তী মানুষ জানবে কি করে। ইতিহাস লেখে বিশেষ বিশেষ ঘটনা, রাজরাজড়াদের কথা, মন্ত্রী রাষ্ট্রপতিদের কথা। দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর জীবনচিত্র তুলে ধরে সাহিত্য। আর সেই সাহিত্য একসময় ইতিহাসে জায়গা পায় সময়কালটাকে ধরার জন্য।
পৃথিবীর বড় বড় রাজনীতিবিদ আর সাহিত্যিকের বন্ধুত্বের ঘটনা বিরল নয়। জাদুবাস্তবতার জাদুকর কলাম্বিয়ান সাহিত্যিক গাব্রিয়েল মার্সিয়া মার্কেসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ট্রো। তাদের এই বন্ধুত্ব ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। দীর্ঘ দিন মার্কেসের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল কাস্ত্রোকে সমর্থন করার কারণে। মার্কেস ‘ওয়ান হানড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড’ বা ‘নিঃসঙ্গতার এক শ’ বছর’ নামে যে বিশালায়তন এবং অতি আশ্চর্য উপন্যাসটি লিখেছিলেন যা পড়লে একবার মনে হয় সত্য আরেকবার মনে হয় অসত্য। একবার মনে হয় বাস্তব আর একবার অবাস্তব। মার্কেসের লেখা কাস্ত্রো পড়তেন। একবার তার লেখার একটি ভুলও মার্কেস শুধরে দিয়েছিলেন। তার পর থেকে তার সব লেখা মার্কেস সবার আগে কাস্ট্রোকে পাঠাতেন। কাস্ট্রো আর মার্কেসের এই বন্ধুত্ব বিশ্ব ইতিহাস আর সাহিত্যের এক অমলিন অধ্যায়।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চালিকাশক্তি ছিল অসংখ্য কবিতা গান। জহির রাযহানের ‘স্টপ জেনোসাইড’ পাকিস্তানিদের বর্বরতাকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বিশ্ব দরবারে। নাড়িয়ে দিয়েছিল বিশ্ববিবেক।
জাতির জনক নিজেও কবিতা ভালোবাসতেন। সময় পেলেন উদাত্ত কণ্ঠে আবৃত্তি করতেন রবীন্দ্রনাথ। বারট্রান্ড রাসেলের ভক্ত ছিলেন। ছেলের নাম রেখেছিলেন রাসেল। তার শহিদানের পর দীর্ঘ দিন ভয়ে কলম চালাতে পারেনি কবি সাহিত্যিকরা। তার পর একসময় সচল হলো কলম। অনেকেই লিখলেন সেই নৃশংসতার ভয়াল কাহিনি।
রফিক আজাদ লিখলেন,
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,
সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে
বত্রিশ নম্বর থেকে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা ব’য়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।
(এই সিঁড়ি, রফিক আজাদ)
স্বাধীনতার আটচল্লিশ বছর আর পঁচাত্তরের তেঁতাল্লিশ বছর পার করার পরও আমরা দেশে কোনো সুস্থ রাজনৈতিক ধারা পাইনি। ক্ষণে ক্ষণে নৃশংসতার পাত্র বদলেছে মাত্র। কেন আমাদের মেয়েদের পুড়িয়ে মারা হবে আজো? আমাদের ছেলেদের পিটিয়ে মারা হবে আজো? কেন আমাদের সন্তানদের আছড়ে মারা হবে আজো? এসব কেনর কোনো জবাব নেই। জবাব নেই এ জন্য যে, জবাব দেয়ার সাহস নেই। সঠিক জবাব দিলে নুসরাত বা আবরারের মিছিলে আরেকজনের শামিল হওয়ার সম্ভাবনা।
ভিসি সাহেব আবরারের জানাজায় যাননি। ছাত্রদের সামনে বের হতে তার ৩৯ ঘণ্টা লেগেছে। তাকে বের করতে ছাত্রদের আলটিমেটাম দিতে হয়েছে। কেন? এ কেনর জবাব সহজ। তিনি নিজেও প্রকারান্তরে সত্য কথাটা বলেছেন। প্রভাবশালীদের সাথে যোগাযোগে ব্যস্ত ছিলেন। ব্যস্ত ছিলেন নিজের চাকরি বাঁচাতে। এরপর তীব্র সমালোচনার মুখে তিনি গেলেন আবরারের বাড়ি। আবরারের ছোটভাই মারমুখী হয়েছিল বলে পুলিশ পেটালো। ভাইয়ের বউয়ের দিকে তেড়ে গেল পুলিশ। সদ্য ভাইহারা পাগলপ্রায় আবরারের ছোট ভাইয়ের কি উচিত ছিল ভিসিকে বরমাল্য সাজিয়ে বরণ করা? বরং আবরারের বাবা যথেষ্ট ভদ্রতার পরিচয় দিয়েছেন। পুত্র শোকে নিথর বাবা ওই পরিস্থিতিতেও ভিসির পাশে দাঁড়িয়ে জিয়ারতে অংশ নিয়েছেন। তার এই ভদ্রতা কিন্তু প্রশংসিত হলো না!
ভিন্নমত বা অন্যমত হলেই যে সেটা খারাপ মত এই ভাবনাটাই খারাপ। ভিন্নমত থেকেই বড় বড় আবিষ্কার হয়েছে। সাহিত্য রচনা হয়েছে। সবাই যদি এককথা বলে তাহলে তো সেই ‘সব শেয়ালের এক রা’-এর মতো হয়ে যায়। ছেলেমেয়েরা কি লেখাপড়া শিখছে শেয়াল হওয়ার জন্য?
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা কি আদৌ কোনো সমাধান? ষাট দশকের ছেলেরাও তো রাজনীতি করেছে। মেধাবী ছাত্ররাই তখন রাজনীতি করেছে।
ভিন্ন ভিন্ন দল করেছে রাতে একটেবিলে পাশাপাশি বসে খেয়েছে। কখনো কাউকে জোর করে দলে ঢুকিয়েছে, মিছিল মিটিংয়ে যেতে বাধ্য করেছে বা নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছে বলে শুনিনি। এখন যত রাজ্যের ব্যাক বেঞ্চার রাজনীতিতে আসে। তাদের কাছে রাজনীতি একটা ব্যবসায়। দ্রুত গাড়ি বাড়ি বানানোর উপকরণ।
যে অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি এ সময়ের সাহিত্যে থাকবে এই সময়ের ছাপ। থাকবে নুসরাত, নিম্মি, আবরার ভারত বাংলাদেশে চুক্তি পেঁয়াজ তুহিনদের কথা। আর এ ব্যাপারগুলো একটাই পরিব্যাপ্ত যে আমাদের অর্জনগুলো পাহাড়প্রমাণ নৃশংসতার আড়ালে অনেকটাই চাপা পড়ে যাবে।
কয়েকজন খুনি ধরা পড়েছে। রিমান্ডে গেছে। কয়েকদিন চলবে তাদের নিয়ে আলোচনা, চলবে আবরারের জন্য আহাজারি। তার পর? আর একটি ঘটনা এসে ঢেকে দেবে আবরারকে। যেমন দিয়েছে নুসরাতকে তনুকে। তার পর কী হবে আমরা জানতে পারব না। আমরা থাকব অতল অন্ধকারে। হ