তোমরা হয়তো বুলবুলি পাখি দেখেছ, কিন্তু কমলাপেট পাতা বুলবুলির নাম গুনেছ? পাতার মতো সবুজ রঙের ছোট পাখি এ কমলাপেট পাতা বুলবুলি। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ সেন্টিমিটার। লেজ ৭-৮ সেন্টিমিটার। ডানা ১০ সেন্টিমিটার, পা ২ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ২.৫ সেন্টিমিটার। এ পাখির ওজন প্রায় ৩৫ গ্রাম।
পুরুষ ও স্ত্রী কমলাপেট পাতা বুলবুলির চেহারা ভিন্ন। কচি পাতার মতো সবুজ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির পিঠ। পুরো দেহতল (রানের পালকসহ) ফিকে কমলা রঙের। হলদে সবুজ হচ্ছে মাথার চাঁদি ও ঘাড়ের পেছনের অংশ। ডানা সবুজ। বুক ও গলা কালো। ডানার প্রান্ত বা শেষাংশ কালো। লেজ কালচে। কাঁধের পট্টি নীল। এ দিকে স্ত্রী কমলাপেট পাতা বুলবুলির পুরো দেহতল হলদে-সবুজ। বুকের মধ্যখানে রয়েছে কমলা রঙ। লেজসহ পুরো পিঠ সবুজ। নীলচে ঘাড় ও মাথা। তবে স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে কিছু মিলও রয়েছে। এদের পায়ের রঙ ধূসর। চোখ বাদামি। কিছুটা নিচের দিকে বাঁকানো পুরুষের ঠোঁট। রঙ কালো। স্ত্রী পাখির ঠোঁট বাদামি। অপ্রাপ্তবয়স্ক কমলাপেট পাতা বুলবুলি অনেকটাই স্ত্রী পাখির মতো।
কমলাপেট পাতা বুলবুলি বিচরণ করে পাহাড়ি এলাকার চিরসবুজ বন ও পাতাঝরা বনে। থাকে একা বা দলবদ্ধভাবে। ঘুরে বেড়ায় ফুলগাছে, খাবারের সন্ধানে। খাবার খোঁজে গাছের লতাগুল্ম ও পাতায় ঠোঁট ঢুকিয়ে। ছোট পতঙ্গখেকো পাখির দলে যোগ দেয় ফুলের মওসুমে। এমন পোকামাকড় বেশি খায় যেগুলো ফুলের মধু, ফল, পিঁপড়া, পরাগায়নে সহায়ক হয়। মজার বিষয় বিষয় হলো, নানা ধরনের পশুপাখির ডাক অনুসরণে খুবই পটু এরা। এ পাখির আরেক নাম হরবোলা। এদের ডাকও বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। কারণ, একেক সময় একেক স্বরে ডাকে।
কমলাপেট পাতা বুলবুলিরা বাচ্চা দেয় মে-আগস্টে। বাসা তৈরি করে স্ত্রী ও পুরুষ মিলেই। পেয়ালার মতো করে বাসা বসায়। তাতে লাগে গাছের চিকন মূল, ঘাস, নানা আঁশ ইত্যাদি। বাসা বাঁধে ঘন বনে। বাসা প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে ঢেকে রাখতেও পটু। ডিম দেয় দু-তিনটি করে। ডিমের রঙ প্রায় সাদা। তাতে তিলের মতো ছোট ছোট দাগও আছে। ডিম থেকে বাচ্চা বের হয় ১৪-১৫ দিনে। বাচ্চা বড় হতে সময় নেয় প্রায় ১৫ দিন।
এ পাখি বেশি দেখা যায় চীন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে। এদের বিস্তৃতি নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, হংকং ও ভিয়েতনাম জুড়ে। খুশির খবর হলো, এদের দেখা মেলে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের গহিন বনেও। এ পাখির উপপ্রজাতি সংখ্যা প্রায় চারটি। এগুলো হলো হার্ডউইকি, মালায়ানা, লাজুলিনা ও মেলিয়ানা।
কমলাপেট পাতা বুলবুলির বৈজ্ঞানিক নাম ক্লোরোপসিস হার্ডউইকি। ইংরেজি নাম অরেঞ্জÑ বেলিড লিফবার্ড। নামে বুলবুলি হলেও বুলবুল গোত্রের পাখি নয় ওরা। এদের বিস্তৃতি প্রায় ১৬ লাখ বর্গকিলোমিটার। নানা প্রতিকূল কারণে এদের সংখ্যা কমছে; তবে পৌঁছেনি আশঙ্কাজনক হারে বা পরিমাণে। অর্থাৎ ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত ওরা। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত এ প্রজাতিটি, যা একটি ভালো উদ্যোগ।
তোমরা হয়তো বুলবুলি পাখি দেখেছ, কিন্তু কমলাপেট পাতা বুলবুলির নাম গুনেছ? পাতার মতো সবুজ রঙের ছোট পাখি এ কমলাপেট পাতা বুলবুলি। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০...
