শীতের সময়
প্রজীৎ ঘোষ
পৌষ আর মাঘ আসে শীত নিয়ে কাঁধে;
ঠক ঠক দাঁতেদের তর্কটা বাধে।
শিশু আর বৃদ্ধের শীত লাগে বেশি;
থর থর কেঁপে ওঠে বুক আর পেশি।
আগুনের আঁচ পেলে মন হয় খুশি
খুশি হয় আদরের ছানাপোনা পুষি।
শরীরের ওম নিতে ঘোরে আশপাশে
সরিয়ে দিলেও সে-যে কাছে চলে আসে।
খেজুরের রস কাঁধে ওই এলো গাছি
গাছিদের খুব কাছে আজ বসে আছি।
আহ্ কী যে ঠাণ্ডা! খেজুরের রস
এক গ্লাস খেলে পরে হয় নাম যশ।
কুয়াশায় ভিজে ভিজে ডাকে ভাঁট ফুল
হলুদ শর্ষে ফুলে ভরে গেছে চুল।
সবুজ মটরশুঁটি দ্যাখে চেয়ে চেয়ে
আনন্দে নেচে ওঠে মৃদু ছোঁয়া পেয়ে।
অদূরে পুকুর ঘাট টলমল পানি
উত্তরী বাতাসে দেয় হাতছানি।
পানি দেখে মনে মনে লাগে বড় ভয়
যাইনি এখনো ভুলে শীতের সময়।
পাখির জন্য
সালাম হাসেমী
যায় না দেখা আগের মতো
বন বাদাড়ে পাখি,
করে না আর সকাল সন্ধ্যায়
তেমন ডাকা ডাকি।
প্রকৃতির ওই ভারসাম্য যে,
পাখি বজায় রাখে,
তাদের রক্ষা করতে সবার
খেয়াল যেন থাকে।
পাখির আবাস গড়ে তুলতে
বাড়াও দেশে বন,
সেই বনেতে গড়তে যে নীড়
পাখি দেবে মন।
ভাষা
কাজী আবুল কাশেম রতন
বাংলা আমার
মুখের ভাষা,
নতুন করে
বাঁচার আশা।
এই ভাষাতেÑ
খোকা খুকুর
স্বপ্ন দেখা।
এই ভাষাতেÑ
মাতৃভূমির
ছবি আঁকা।
এই ভাষাতেÑ
নতুন সুরে
নতুন করে
জীবনের
গান গাওয়া।
এই ভাষাতেÑ
অস্ত্র হাতে,
দেশের জন্য
যুদ্ধে যাওয়া।
নতুন বইয়ের গন্ধ
আবুল খায়ের
নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে
হাসি খুশি মন
স্কুলে তাই যেতে হবে
করেছি যে পণ।
সোনার দেশের মানুষ মোরা
আমরা যে সবাই
গুরুজনের কথা শুনে
সামনে এগিয়ে যাই।
পড়ার সময় পড়ব আর
খেলার সময় খেলা
দেশ গড়তে সবাই মিলে
করব নাতো হেলা।
চাঁদের বুড়ি
মো: ছিদ্দিকুর রহমান
চাঁদের দেশে দেব পাড়ি
দেখব গগন ঘুরি,
ঐ আকাশে চাঁদে নাকি
থাকে একটা বুড়ি।
চাঁদের দেশে বুড়ি নাকি
একলা করে বাস,
সঙ্গীবিহীন কাটায় সে
দিন কি, বারো মাস।
ছোটবেলা দিদির মুখে
শুনি বুড়ির কথা,
বুড়ি নাকি চাঁদের মাঝে
চরকায় কাটে সুতা।
পূর্ণিমা রাতে ভরা চাঁদে
দেখি বুড়ির মাথা,
বুড়ি বসে সেলাই করে
রঙিন নকশি কাঁথা।
