নীলিমা শামীম
বেশ আছি তুমিহীনা

প্রাপ্তিতে যেমন হই পরিপূর্ণ
অপ্রাপ্তিতে তেমন হই না অপূর্ণ।
সঙ্গ যেমন নিঃশব্দে সুখ দেয়
নিঃসঙ্গ তেমনি কভু দুঃখ দেয় না।
নিজেকে সোপর্দ করতে বিচলিত
নিজেকে হারিয়ে হই না কলুষিত
তোমার আগমনী দেয় না আর আনন্দ
তোমার চলে যাওয়ায় থাকে না ক্রন্দন।
স্পর্শ আর মন ছুঁতে পারে না আগের মতো
অস্পর্শ ঠিক রয় না বুকের বামপন্থীর ক্ষত
প্রতীক্ষায় আর আঁখি হয় না ছলছল রক্তিম
অপেক্ষা বাড়াতে পারে না নিসর্গতার যখম।

চট্টগ্রাম

মো: ফজলুল হক
পরিবেশ

নাকের ডগায় ফার্মাসি
পাসের ডাক্তার নাই,
তারই কাছে ধন্না দিয়ে
হায়াত আমরা চাই।
অল্প হায়াত নিয়ে
কাঁদে ষাট বছরের বুড়ি,
আমরা সবাই রোজই খাই
সত্যি কাঠের গুঁড়ি।
ভাতের সাথে চায়ের সাথে
কলার সাথে তাও,
এসব নিয়ে তোমার আমার
চিন্তা করাই ফাও।
মস্ত বড় দালালগুলো
পেশা নিয়েই ব্যস্ত,
সুখের আশায় হালাল হারাম
করছে তারা ন্যস্ত।

সদস্য কেন্দ্রীয় প্রিয়জন

সবুজ আহমেদ
গোলাপ হয়ে ফোটে

সে আড়াআড়ি গোলাপ হয়ে দাঁড়ায়
বিষকাঁটা গায়ে আনত চোখ সামনাসামনি,
উঠোন কোণে লালের প্রলেপে রাঙা হাসি ফোটে
কি শোভা, কী মায়া রূপ-ভেবে পায় না মায়াবী চোখ!
পাপড়ি ঘেরা ফুলপাতার ইচ্ছেরা পড়ে ধাঁধায়
ঘা খাওয়া মন-ময়দানে দোল দেয় হু হু বাতাস
নিরীহ জীবন ভাবে অলঙ্কার আছে এত কাছে
গৃহত্যাগী সাহসে খুঁটি গেড়ে দাঁড়ায়
অবান্তর শৈত্য উঠোনে।

মোজাম্মেল সুমন
স্বকীয়তা

জীবন পদ্যের মতো নয়
বরং গদ্যের মতো চলে।
তাই ভয় কিংবা অনিশ্চিত শব্দটা
সয়ে যায়।
সে জন্য নিয়তি পায়ের শিকল হয়ে
আমাদেরকে জানান দেয়
নিরুপায় অক্ষমতার
যাতে সক্ষমতার ভিত্তি
দুমড়েমুচড়ে পড়ে গিয়েও বাঁচতে পারি
কেবলমাত্র স্বকীয়তা নিয়ে।
ৃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

হেলেন ওসমান
হয়তো দেখা হবে

অবারিত সবুজের মাঝে
যেখানে নীল আকাশ
পড়েছে নুয়ে লাজুক নয়নে।
দিগন্তের পাড় ঘেঁষে
দিনমণির অন্তিম ক্ষণে
হয়তো দেখা হবে,
জাফরানি আলোর মাঝে।
হয়তো হবে দেখা,
যেখানে কুমুদিনী ফুটেছে নীরবে।
স্বচ্ছ রজতধারায়
হৃদয়ের নিভৃত কোণের কথাগুলো
নীরবে প্রস্ফুটিত হবে হাজার কুসুমে।
আবার হবে হয়তো দেখা,
মরণের পরে পরজীবনে
মধু ফাগুনের পড়ন্ত গোধূলিতে।

চলে যাবে বলেই
রফিকুল ইসলাম

চলে যাবে বলেই
নিপুণ হাতে রঙ ঢেলে সাজালে
পাথরের বুকে বয়ে চলে রঙধনু নদী ,
চলে যাবে বলেই
পাথরের গায়ে জন্ম নেয় গুল্মলতা
কেন এত আয়োজন চলে যাবেই যদি।
চলে যাবে বলেই
নীরব দেয়ালে অনুভূতির ছবি আঁকে
অনুভবের দগ্ধ দহনে মধ্যাহ্নের রোদ্দুরে
চলে যাবে বলেই
সন্ধ্যার মায়া আলো-আঁধারের ছায়া
ভোরের আলো ছড়ায় উপলব্ধির দুয়ারে।
চলে যাবে বলেই
সকালের ফোটা ফুল ঝরে পড়ে সন্ধ্যায়
পূর্ণিমা চাঁদ ডুবে যায় রাতের শেষ প্রহরে
চলে যাবে বলেই
স্মৃতিরা দু’হাতে পথ আগলে দাঁড়ায়
মনে হয় বসত করি সেই পুরাতন কুঠিরে।