একুশ মানে
জাকির আজাদ

একুশ মানে ভাষার দাবি
ভাই হারানো শোক,
বন্ধ মুখটা খোলার চাবি
মায়ের ভেজা চোখ।

একুশ মানে দুঃখ পাড়ি
সব বাঙালির জোট,
ভাষার জন্য স্লোগান ভারি
কেঁপে ওঠা ঠোঁট।

একুশ মানে রক্তের কালি
আঁকা নতুন ভোর,
প্রভাত ফেরি পা-টা খালি
প্রাণ চেতনার জোর।

একুশ মানে স্বাধীন জাতি
মুখের মুক্ত বোল,
ঘুচে যাওয়া আঁধার রাতি
নিবিড় দেশের কোল।

 

 

ফেব্রুয়ারির গান
প্রজীৎ ঘোষ

সালাম বরকত রফিক শফিক আরো জব্বার ভাই;
ফেব্রুয়ারি এলে সবাই তোমাদের গান গাই।
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ যায় কখনো ভোলা?
ছবির মতো স্মৃতির পাতায় রয়ে গেছে তোলা।
‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই!’ এই দাবি সবার বুকে;
মায়ের ভাষা রক্ষার তরে দাঁড়ায় সবাই রুখে।
মিছিল করে মিটিং করে জানায় একই দাবি;
বাংলা আমার মায়ের ভাষা আমাদের সুখ-চাবি।

সেই মিছিলে করল গুলি পাক-পুলিশের দল;
বুকের রক্ত পড়ল ঝরে রাজপথে অনর্গল।
মায়ের ও বুক হলো খালি আঁখি দুটি ছলছল
রক্তে কেনা মায়ের ভাষা এ দৃষ্টান্ত বিরল।
জীবন দিয়ে রক্ষা করলে বাংলা মায়ের মান;
শ্রদ্ধা ভরে গেয়ে উঠি ফেব্রুয়ারির গান।

 

 

ভাষা আমার
সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

ভাষা আমার ভোর বেলার
ঘুম জাগানি পাখি
বুকের মাঝে রাশি রাশি
স্বপ্ন পুষে রাখি।
ভাষা আমার কাজলাদিঘির
শাপলা ফোটা ফুল
সবুজ মাঠের ধানের ক্ষেতে
মিষ্টি দোদুল দুল।
ভাষা আমার মায়ের মুখের
অথই মধুর হাসি
গাঁয়ের বাঁকে রাখাল ছেলের
সুখের বাঁশের বাঁশি।
ভাষা আমার ভাইয়ের হাতে
লাল সবুজের নিশান
রক্তরাঙা রবির আলো
মুক্ত মনের কিষান।

 


আজব দেশ
খান মোহাম্মদ খালেদ

একদেশে লোক বসত করে
সাগরতলের জলের ঘরে,
ঢেউয়ের দোলায় সে-ঘর নড়ে।

মাছরা থাকে গাছে গাছে
উড়ে বেড়ায় দূরে-কাছে,
ফুল-ফলও খায় সেসব মাছে।

পাখিরা সব সাগরজলে
ঝাপটে পাখা সাঁতরে চলে
দিনের বেলায় দলে দলে।

এমন আজব দেশে খোকা
ঘুরতে গিয়ে বনল বোকাÑ
নাই এ-কথায় একটু ধোঁকা!

অবাক খোকা দেখল সেথায়
বানর নাচে, গানও সে গায়Ñ
শব্দে খোকার ঘুম ভেঙে যায়।


পড়ব বই
আবদুস সামাদ আজিজ

বন্ধু তোরা
কৈ রে কৈ
মেলায় গিয়ে
কিনব বই।

বইয়ে আছে
গল্প-ছড়া
শিক্ষণীয়
মজার পড়া।

বেশি বেশি
পড়ে বই
আয়রে সবাই
জ্ঞানী হই।
 

প্রভাত আসে
আবদুল কুদ্দুস ফরিদী

প্রভাত আসে সূর্য ওঠে পাখিরা গায় গান,
সুরের আবাহনে ছোটে বকুল ফুলের ঘ্রাণ।
ঝিরি ঝিরি পুবাল হাওয়ায় দোলে বনের লতা,
মৌমাছিদের ঘুম ভেঙে যায় জাগে প্রফুল্লতা।
আকাশ আলোয় রঙের খেলা বিচিত্রময় সাজ,
প্রজাপতির রঙিন ডানায় রূপের কারুকাজ।
শিশির ভেজা ঘাসের বুকে সাতরঙা শবনম,
রঙধনুকের ঝিকিমিকি অরূপ অনুপম।
ঢেউ দোলানো দীঘির পাড়ে কলমিলতার ফুল,
রঙ ও রূপের বাতাবরণ দারুণ হুলস্থূল।
ভোর হলো তাই খুলল কপাট রূপের জাদুঘর,
রঙতুলিতে আঁকাআঁকি ময়নামতির চর।
বনের কোলে মাঠে মাঠে আলো শুধুই আলো,
শান্ত শীতল পরিবেশে মন হয়ে যায় ভালো।